যুক্তরাষ্ট্রের কারাগারে অসুস্থ মাদুরোর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেস, গৃহবন্দিত্বের আবেদন আইনজীবীদের
- আপডেট সময় : ০৮:৫৫:১৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 0
ভেনেজুয়েলার সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর স্ত্রী ও দেশটির সাবেক ফার্স্ট লেডি সিলিয়া ফ্লোরেস বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে কারাবন্দি অবস্থায় রয়েছেন। কারাগারে থাকা অবস্থায় তার হৃদ্যন্ত্রের সমস্যার অবনতি হয়েছে দাবি করে তাকে গৃহবন্দিত্বে স্থানান্তরের আবেদন জানিয়েছেন তার আইনজীবীরা। নিউইয়র্কের একটি আদালতে বুধবার দাখিল করা এই আবেদনে বলা হয়েছে, কারাগারের পরিবেশ তার উন্নত চিকিৎসার জন্য পর্যাপ্ত নয়।
৬৯ বছর বয়সী সিলিয়া ফ্লোরেস বর্তমানে নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে অবস্থিত মেট্রোপলিটন ডিটেনশন সেন্টারে আটক আছেন। তার আইনজীবীদের ভাষ্যমতে, যুক্তরাষ্ট্রে হেফাজতে নেওয়ার আগে তিনি শারীরিকভাবে সুস্থ ছিলেন এবং হৃদ্যন্ত্রের একটি ভালভের সমস্যার জন্য মাসে একবার ইনজেকশন ছাড়া নিয়মিত কোনো ওষুধের প্রয়োজন হতো না। তবে কারাবন্দি হওয়ার পর তার শারীরিক অবস্থার পরিবর্তন ঘটেছে। বর্তমানে তাকে চার ধরনের ওষুধ সেবন করতে হচ্ছে এবং বুকে ব্যথার মতো উপসর্গ দেখা দিচ্ছে।
আইনজীবীরা আদালতের নথিতে উল্লেখ করেছেন যে, গত ২৯ জুলাই হেফাজতে থাকা অবস্থায় তিনি এমন একটি শারীরিক সংকটে পড়েছিলেন, যা হালকা মাত্রার হৃদ্রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা হতে পারে। চিকিৎসকরা তাকে হৃদ্যন্ত্রের আরও পরীক্ষা এবং সম্ভাব্য অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দিয়েছেন। যদিও আইনজীবীরা স্বীকার করেছেন যে কারাগারের চিকিৎসাকর্মীরা তাকে সাধ্যমতো সেবা দিচ্ছেন, তবুও উন্নত চিকিৎসার স্বার্থে তাকে ব্যক্তিগত বাসভবনে স্থানান্তরের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
প্রস্তাবিত গৃহবন্দিত্বের শর্ত হিসেবে আইনজীবীরা জানিয়েছেন, ফ্লোরেসকে ২৪ ঘণ্টা সশস্ত্র নিরাপত্তার অধীনে রাখা হবে। এছাড়া তার ওপর ইলেকট্রনিক নজরদারি থাকবে, চলাচল সীমিত করা হবে এবং আদালতের অনুমতি ছাড়া কারো সঙ্গে দেখা করতে পারবেন না। তার ভ্রমণ নথিগুলোও আদালতের কাছে জমা রাখার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য যে, গত ৩ জানুয়ারি ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের মাধ্যমে মাদুরো ও ফ্লোরেসকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে তাদের নিউইয়র্কে নিয়ে আসা হয়। মাদুরোর বিরুদ্ধে কোকেন পাচারের ষড়যন্ত্রসহ গুরুতর অভিযোগ রয়েছে এবং ফ্লোরেসের বিরুদ্ধেও মাদক পাচারসংক্রান্ত অভিযোগ আনা হয়েছে। মার্কিন প্রসিকিউটরদের দাবি, মাদুরো সরকারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক বিরোধীদের দমন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ইতিহাস রয়েছে।
মাদুরো ও ফ্লোরেসের আইনজীবীরা এই মামলাটি বাতিলের জন্য আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। তাদের অন্যতম প্রধান যুক্তি হলো, প্রেসিডেন্ট হিসেবে মাদুরো কূটনৈতিক বা সার্বভৌম দায়মুক্তির অধিকার ভোগ করেন। এর আগে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ভেনেজুয়েলা সরকারের বিরুদ্ধে মাদক পাচারের অভিযোগ তুলেছিল, যা বর্তমান আইনি বিতর্কের একটি বড় অংশ।
আগামী ১৭ নভেম্বর মামলাটি বাতিলের আবেদনের বিষয়ে শুনানির দিন ধার্য রয়েছে। এছাড়া মাদুরো ও ফ্লোরেসের মূল বিচার ২০২৭ সালের ১ জুন শুরু হওয়ার কথা। এখন নিউইয়র্কের ফেডারেল বিচারক আলভিন কে. হেলারস্টেইন ফ্লোরেসের শারীরিক অবস্থা, পালিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি এবং প্রস্তাবিত কঠোর নজরদারির শর্তগুলো পর্যালোচনা করে গৃহবন্দিত্বের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এর মধ্যে ২৪ ঘণ্টা সশস্ত্র নিরাপত্তা, ইলেকট্রনিক অবস্থান শনাক্তকারী যন্ত্র, সীমিত সাক্ষাৎ এবং ফোনকল পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ২০১৩ সালে মাদুরো প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর তিনি দেশটির ফার্স্ট লেডি হন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বুকে ব্যথা হলে ব্যবহারের জন্য তার কাছে নাইট্রোগ্লিসারিনও রাখা হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তবে এটি চিকিৎসাগতভাবে নিশ্চিত হয়েছে এমন তথ্য নেই। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: দুজনই অভিযোগ অস্বীকার করে নিজেদের নির্দোষ দাবি করেছেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তবে মামলাটি এখনো বিচার শুরুর পর্যায়ে রয়েছে এবং আদালতে অভিযোগগুলোর সত্যতা চূড়ান্তভাবে নির্ধারিত হয়নি।
























