যুক্তরাষ্ট্রের কর্মী ভিসায় বড় পরিবর্তন: চাকরি হারালে ৬০ দিনের গ্রেস পিরিয়ড বাতিলের প্রস্তাব
- আপডেট সময় : ১২:০৪:৪৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 1
যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত বিদেশি কর্মীদের জন্য বড় ধরনের নীতি পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। বর্তমানে চাকরি হারানোর পর নতুন নিয়োগকর্তা খুঁজে নেওয়ার জন্য বিদেশি কর্মীরা যে ৬০ দিনের গ্রেস পিরিয়ড বা সময়সীমা পান, তা বাতিলের প্রস্তাব করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস) ফেডারেল রেজিস্টারে এই প্রস্তাবিত পরিবর্তনের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেছে।
২০১৭ সাল থেকে চালু থাকা এই নিয়মের আওতায় দক্ষ বিদেশি কর্মীরা চাকরি হারানোর পর সর্বোচ্চ ৬০ দিন যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করে নতুন কর্মসংস্থান বা স্পনসর খুঁজে নেওয়ার সুযোগ পেতেন। এই সময়টুকু তাদের ব্যক্তিগত বিষয়গুলো গুছিয়ে নেওয়া, বাড়ি বিক্রি কিংবা সন্তানদের স্কুল পরিবর্তনের মতো জরুরি কাজগুলো সম্পন্ন করতে সহায়তা করত। নতুন প্রস্তাব কার্যকর হলে চাকরি শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই এই সুযোগটি আর থাকবে না, ফলে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের দ্রুত যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে হতে পারে। তবে কিছু ক্ষেত্রে দেশ ছাড়ার পর নতুন নিয়োগকর্তার মাধ্যমে পুনরায় ভিসার আবেদন করার সুযোগ রাখা হয়েছে বলে প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি খাতে দক্ষ কর্মী নিয়োগে এইচ-১বি ভিসার ভূমিকা অপরিসীম। ১৯৯০ সালে মার্কিন কংগ্রেসের চালু করা এই ভিসার ওপর ভারত ও চীনসহ বিভিন্ন দেশের কর্মীরা ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। ডেলয়েট, পিডব্লিউসি, আর্নস্ট অ্যান্ড ইয়ংয়ের মতো পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এবং টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেস, ইনফোসিস, এইচসিএল টেক ও এলটিআইমাইন্ডট্রির মতো আউটসোর্সিং প্রতিষ্ঠানগুলো বড় এইচ-১বি স্পনসর হিসেবে পরিচিত। ডিএইচএস জানিয়েছে, এই পরিবর্তনের ফলে কিছু প্রতিষ্ঠানে কর্মী ব্যবস্থাপনায় সাময়িক জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে, তবে এর মাধ্যমে শূন্য পদগুলোতে মার্কিন নাগরিকদের নিয়োগের সুযোগ বাড়বে।
বেরার্ডি ইমিগ্রেশন ল-এর আইনজীবীরা সতর্ক করে বলেছেন, এই নিয়ম কার্যকর হলে বিদেশি কর্মীদের ছাঁটাই বা চাকরি ছাড়ার প্রক্রিয়া পরিচালনায় মানবসম্পদ বিভাগগুলোর হাতে সময় অনেক কমে যাবে, যা বড় প্রযুক্তি ও বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে।
প্রস্তাবিত এই পরিবর্তন শুধু এইচ-১বি ভিসাধারীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না। এর আওতায় ই-১ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক ভিসা, ই-২ ভিসা, এল-১ ভিসা (নির্বাহী ও ব্যবস্থাপক) এবং ও-১ ভিসাধারীরাও (বিজ্ঞান, ক্রীড়া বা শিল্পকলায় অসাধারণ দক্ষ) অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন। এছাড়া সিঙ্গাপুর ও চিলির কর্মীদের এইচ-১বি১ এবং অস্ট্রেলিয়ার কর্মীদের ই-৩ ভিসার ক্ষেত্রেও এর প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অভিবাসন নীতিতে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। বৈধ অভিবাসন সীমিত করার পাশাপাশি দক্ষ বিদেশি কর্মীদের ভিসা ফি বাড়ানো এবং বিভিন্ন দেশে মার্কিন মিশনে অভিবাসী ভিসার সাক্ষাৎকার স্থগিত করার মতো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় এবার চাকরি হারানো কর্মীদের অবস্থানের সুযোগ কমানোর এই প্রস্তাব এল।
তবে এই নিয়মটি এখনো চূড়ান্ত নয়। আগামী দুই মাস এটি জনমত গ্রহণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। এই সময়ের মধ্যে ব্যক্তি, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলো তাদের মতামত জানাতে পারবে। প্রাপ্ত মতামতগুলো পর্যালোচনার পরই মার্কিন প্রশাসন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

























