৯/১১ হামলা ও ইসলামভীতি: যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও বিতর্কিত কিছু তথ্য
- আপডেট সময় : ০১:১১:১০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 0
আফগানিস্তান, ইরাক, লিবিয়া, সিরিয়া থেকে শুরু করে ইরান পর্যন্ত বিস্তৃত দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব কৌশল ও ইসলামভীতি নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। নাইন-ইলেভেনের হামলার ঘটনাটি নিয়ে ইসরাইলি গোয়েন্দা সংস্থার আগাম জানাশোনার চাঞ্চল্যকর দাবি সামনে আসায় এ ঘটনার প্রকৃত সত্য নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। মার্কিন সাংবাদিক ও রাজনৈতিক ভাষ্যকার টাকার কার্লসন ব্রিটিশ সাংবাদিক পিয়ার্স মরগানের ‘আনসেন্সরড নিউজ’ অনুষ্ঠানে একটি প্রামাণ্যচিত্র সিরিজে দাবি করেছেন, ইসরাইলি গোয়েন্দারা হামলার আগেই এ সম্পর্কে অবগত ছিল।
কার্লসনের তথ্যমতে, ইসরাইলের তৎকালীন নেতৃত্ব এ হামলা নিয়ে তাদের মনোভাব গোপন করেনি। বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু হামলার পরপরই মন্তব্য করেছিলেন যে, এই ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ইতিবাচক, কারণ এটি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করেছে। তিনি এই হামলার সঙ্গে পার্ল হারবারে জাপানি হামলার তুলনা করেছিলেন। এছাড়া কার্লসন ‘ইসরাইলি আর্ট স্টুডেন্টস’ ইস্যুটির দিকে ইঙ্গিত করে জানান, যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত তথাকথিত কিছু শিল্পশিক্ষার্থী আসলে ইসরাইলি গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এফবিআইয়ের নথি অনুযায়ী, তাদের কেউ কেউ হামলার দৃশ্য ধারণ করেছিলেন এবং হামলার বিষয়ে আগে থেকেই তাদের ধারণা ছিল। যদিও তাদের গ্রেপ্তার করা হলেও পরে কোনো অভিযোগ ছাড়াই ছেড়ে দেওয়া হয়।
হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত মুসলিম ও আরব বংশোদ্ভূত নাগরিকদের ওপর চরম সংকট নেমে আসে। মসজিদ ভাঙচুর, হত্যার হুমকি ও হয়রানির মতো ঘটনা নিত্যনৈমিত্তিক হয়ে পড়ে। ২০১১ সালে মার্কিন কংগ্রেসে সাউদার্ন পোভার্টি ল সেন্টারের সাক্ষ্য অনুযায়ী, কেবল মুসলিম পরিচয়ের কারণে অনেককে শারীরিক আক্রমণ ও বন্দুকের মুখে পড়তে হয়েছিল। ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্য ইলহান ওমর এ বিষয়ে বলেন, হামলায় মুসলিম ফায়ার সার্ভিসের কর্মীসহ বহু মুসলিম নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন, তাই এই দেশ ও কমিউনিটি তাদেরও।
এফবিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০০০ থেকে ২০০১ সালের মধ্যে মুসলিমদের বিরুদ্ধে ঘৃণাজনিত অপরাধ প্রায় ১৬১৭ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। ২০০০ সালে এ ধরনের অপরাধের সংখ্যা ছিল মাত্র ২৮টি, যা ২০০১ সালে একলাফে ৪৮১টিতে পৌঁছায়। মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের আরব আমেরিকান স্টাডিজ সেন্টারের পরিচালক স্যালি হাওয়েলের মতে, ৯/১১ পরবর্তী সময়ে সন্ত্রাস মোকাবিলার নামে মুসলিমদের ওপর নজরদারি ও হয়রানির নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছিল।
যুক্তরাষ্ট্রে ২০১৬ সালের নির্বাচনী মৌসুমেও ইসলামবিরোধী মনোভাব প্রকট ছিল। এফবিআইয়ের পরিসংখ্যান বলছে, ২০০১ সালে ৪৮১টি ঘৃণামূলক অপরাধের ঘটনা ঘটলেও পরের বছর তা কমে ১৫৫টিতে নেমে আসে। তবে ২০১৫ সালে তা আবার বেড়ে ২৫৭ এবং ২০১৬ সালে ৩০৭টিতে দাঁড়ায়। অবশ্য পরবর্তী সময়ে এই সংখ্যা ধীরে ধীরে হ্রাস পেয়েছে। ট্রাম্পসহ বেশ কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব মুসলিম ও আরব মার্কিনদের নিয়ে ভীতি ছড়িয়ে নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান শক্তিশালী করার চেষ্টা করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ইসরাইলের নেতৃত্ব কখনোই ৯/১১ হামলা নিয়ে তাদের মনোভাব লুকায়নি; বরং তাদের ধারণা ছিল, এ হামলা যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল সম্পর্ককে আরো গভীর করে তুলেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এর ফলে যুক্তরাষ্ট্র এমন এক সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছে, যেখানে ইসরাইল কয়েক দশক ধরে অস্তিত্বের লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।’ তিনি ৯/১১ হামলার সঙ্গে পার্ল হারবারে জাপানি হামলার তুলনাও করেছিলেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তাদের যুক্তরাষ্ট্রে গ্রেপ্তার করে কিছুদিন আটকে রাখা হলেও পরে কোনো অভিযোগ ছাড়াই ছেড়ে দেওয়া হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: মিনেসোটার ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্য ইলহান ওমর ৯/১১ ও এর পরবর্তী বৈষম্য নিয়ে বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী হিসেবে তারাও (মুসলিমরা) সেদিন আক্রান্ত হয়েছিলেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: মার্কিন কেন্দ্রীয় তদন্ত ব্যুরোর (এফবিআই) তথ্য অনুযায়ী, ২০০০ থেকে ২০০১ সালের মধ্যে মুসলিমদের বিরুদ্ধে ঘৃণাজনিত অপরাধ বেড়ে যায় প্রায় ১৬১৭ শতাংশ।
























