সংবিধানে মৌলিক পরিবর্তন আনলে গণভোটের বাধ্যবাধকতা, জানালেন বিশেষ কমিটি
- আপডেট সময় : ০৯:৪৪:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 18
সংবিধানের মৌলিক কোনো পরিবর্তনের ক্ষেত্রে আইন অনুযায়ী গণভোটের প্রয়োজন হতে পারে বলে জানিয়েছেন সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটি। জাতীয় সংসদের ক্যাবিনেট কক্ষে রোববার দুপুরে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় দেশের শীর্ষস্থানীয় প্রায় ৫০ জন সম্পাদক ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকের সঙ্গে এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী চলমান এই সভায় সংবিধান সংশোধন প্রক্রিয়ার বিভিন্ন দিক ও অংশীজনদের মতামতের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করা হয়। এই আইন সভায় গ্রহণ করতে হবে, এরপরে সেটা কনস্টিটিউশনে প্রপারলি আসবে।
কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সংবাদ সম্মেলনে জানান, সংবিধানে মৌলিক পরিবর্তনের ক্ষেত্রে সাংবিধানিক নিয়ম মেনে গণভোটের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তিনি বলেন, পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে বিলুপ্ত আর্টিকেল ১৪২-এর গণভোট সংক্রান্ত বিধানটি সুপ্রিম কোর্টের রায়ের প্রেক্ষিতে পুনর্বহালের প্রক্রিয়া চলছে। সংবিধান সংশোধন কেবল জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে হওয়া উচিত বলে মত ব্যক্ত করেন আমন্ত্রিত গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বরা। একটা হচ্ছে সাংবিধানিক গণভোট, আরেকটা হচ্ছে আইনের গণভোট। আওয়ামী লীগের সময় পঞ্চদশ সংশোধনীতে সেটা উড়িয়ে দিয়েছে। বাট, এটা ৫ই আগস্টের ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানের পরে সুপ্রিম কোর্টে একটা ভার্ডিক্ট হয়েছে ফিফটিনথ অ্যামেন্ডমেন্ট যেটা রিপিল করার জন্য চ্যালেঞ্জ করে যে রিটটা হয়েছে সেখানে জাজমেন্ট এসেছে যে আর্টিকেল ১৪২-এর যে গণভোট সেটা পুনর্বহাল করা হলো। আমরা যদি সংবিধানে এমন কিছু পরিবর্তন আনি, তাহলে সেটা রেফারেন্ডামে যেতে হবে, জনগণের গণভোট হতে হবে।
দৈনিক দেশ রূপান্তরের সম্পাদক মুস্তাফিজ শফি জানান, সভায় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সংবিধানে পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, অতীতে প্রধানমন্ত্রীকে যে একচ্ছত্র ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছিল তা রাষ্ট্রের জন্য মঙ্গলজনক হয়নি। তাই রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার মধ্যে ভারসাম্য আনার বিষয়ে সবাই ঐকমত্য পোষণ করেছেন। এছাড়া ভবিষ্যতের কোনো সংসদ যাতে সহজে এই ধারা পরিবর্তন করতে না পারে, সেজন্য কঠোর আইনি সুরক্ষাকবচ তৈরির বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ঐকমত্য কমিশনে বিএনপির পক্ষ থেকে আমি একটা প্রস্তাব করেছিলাম- আরো দুইটা অনুচ্ছেদ যুক্ত করতে হবে।
সালাহউদ্দিন আহমদ আরও জানান, বিরোধী দল এখন পর্যন্ত কমিটিতে তাদের নির্ধারিত পাঁচজন সদস্যকে মনোনীত করেনি। তবে তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সাথে আহ্বান জানানো হয়েছে এবং ভবিষ্যতে তারা কমিটিতে যোগ দিলে স্বাগত জানানো হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বিরোধী দল আলোচনায় সরাসরি অংশগ্রহণ না করলেও সংসদ অধিবেশনে সংশোধনী প্রস্তাব উত্থাপনের সময় গঠনমূলক সহযোগিতা করবে।
আগামী ২০২৭ সালের জানুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিতব্য সংসদ অধিবেশনে সংবিধান সংশোধনের এই প্রস্তাবগুলো উত্থাপন ও পাস করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে বিশেষ কমিটি। সম্প্রতি জাতীয় নির্বাচনের সাথে অনুষ্ঠিত গণভোটের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে জানানো হয়, ওই ভোটটি মূলত প্রক্রিয়াগত ছিল। তবে বর্তমান কমিটি সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে জনগণের মতামত ও জাতীয় ঐকমত্যকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। কোন বিষয়ে আইন প্রণীত হলো, সেই হিসেবে জনগণের গণভোটের আহ্বান করা যায়।
বৈঠকে কমিটির সদস্য নূরুল ইসলাম মনি, জয়নুল আবেদীন, মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি, মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, ফারজানা শারমীন, সাকিলা ফারজানা এবং মো. মাহমুদুল হক রুবেল উপস্থিত ছিলেন। সরকারি নিয়োগসহ রাষ্ট্র পরিচালনার সব ক্ষেত্রে বৈষম্য নিরসন ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার বিষয়েও সভায় গুরুত্বারোপ করা হয়।


























