দাদির মৃত্যুর আগেই অভিজিৎ বলেছিলেন: পরিবারের কষ্টই বেশি
- আপডেট সময় : ০৮:২৬:১৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
- / 1
রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হওয়ার পর থেকে অভিজিৎ দীপকে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনের এক কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছেন। গত ৯ অক্টোবর শুক্রবার মুম্বাইয়ে ‘লোকসত্তা’ আয়োজিত ‘লোকসংবাদ’ শীর্ষক এক আলোচনা অনুষ্ঠানে তিনি বলেছিলেন, তার নিজের রাজনৈতিক সংগ্রামের চেয়েও পরিবারের সদস্যদের ভোগান্তি অনেক বেশি। এই মন্তব্যের ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে তার ৮৫ বছর বয়সী দাদি সাবিত্রীবাই শঙ্কর দীপকে মহারাষ্ট্রের হিঙ্গোলি জেলার নিজ গ্রামের বাড়িতে মৃত্যুবরণ করেন। কিন্তু তার পরিবারের অন্য সদস্যদের জীবনযাত্রা খুব একটা বদলায়নি।
অভিজিৎ জানান, চলতি বছরের জুলাই মাসে দিল্লির যন্তরমন্তরে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) বিক্ষোভ কর্মসূচির সময় তার বাবা-মা দুজনকেই শারীরিক অসুস্থতার কারণে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছিল। তবে বিষয়টিকে তিনি জনসমক্ষে আনেননি, কারণ মানুষের কাছ থেকে কোনো সহানুভূতি লাভ করতে চাননি তিনি। তাছাড়া বাড়িতে ফিরে বাবা-মাকে দেখতে গেলে কেউ তার ওপর আন্দোলন থেকে পিছু হটার অভিযোগ তুলতে পারে—এমন ভীতিও কাজ করত তার মনে। তার ভাষায়, জেলে গেলে তিনটি বড় ব্যাগের প্রয়োজন হবে না ভেবেছিলেন।
শনিবার সকালে দিল্লিতে যাওয়ার সময় ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অভিজিৎকে আটক করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তার দাদি সাবিত্রীবাই শঙ্কর দীপকে মারা যাওয়ার খবর পাওয়ার পর অভিজিতের বাবা ভগবান দীপকে ও মা অনিতা দ্রুত গ্রামে রওনা হন। আটকের পর অভিজিতের বাবা প্রশাসনের কাছে প্রশ্ন তুলেছেন যে, ঠিক কোন আইনি ধারায় ছেলেকে আটক রাখা হয়েছে। এদিকে অভিজিতের মা অনিতা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, ছেলের এই রাজনৈতিক আন্দোলনের প্রতি পুরো পরিবারের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে।
নিজের শেকড়ের কথা উল্লেখ করতে গিয়ে অভিজিৎ বারবার সান্তুক পিম্পরি গ্রামের প্রসঙ্গ আনেন। তার বাবা প্রকৌশলী হওয়ার পর পরিবার ছত্রপতি সম্ভাজিনগরে স্থায়ী হয়। অভিজিৎ সেখানে কনভেন্ট স্কুলে পড়াশোনা শেষ করে পুনে ও পরে উচ্চশিক্ষার জন্য পাড়ি দেন যুক্তরাষ্ট্রে। তবে তার বর্ধিত পরিবারের সদস্যদের জীবনে তেমন কোনো পরিবর্তন আসেনি। তার আত্মীয়দের মধ্যে অনেকেই এখনো দিনমজুর, নির্মাণশ্রমিক কিংবা চালকের কাজ করেন। এমনকি তার এক ফুফুও মাঠে শ্রমিকের কাজ করেন বলে জানান তিনি। বাকি ব্যাগগুলো এখনো যুক্তরাষ্ট্রেই পড়ে আছে।
অভিজিৎ বলেন, একই রক্ত ও পরিবারের সদস্য হয়েও জীবনযাত্রার মানে তাদের বড় ব্যবধান তৈরি হয়েছে। পরিবারের অবস্থার উন্নয়ন ঘটলেও গ্রামের সাধারণ মানুষের জীবনমানের তেমন উন্নতি হয়নি। এই বৈষম্য এবং আদিবাসী এলাকার শিক্ষাব্যবস্থার করুণ অবস্থা দেখে তার মধ্যে যে ক্ষোভ জন্ম নিয়েছিল, তা-ই তাকে সিজেপির রাজনীতির দিকে টেনেছে। ছেলেবেলার ছুটির দিনগুলোতে গ্রামে কাটানো অভিজ্ঞতা তাকে গ্রামীণ ও আদিবাসী স্কুলগুলোর উন্নয়নে কাজ করতে অনুপ্রাণিত করেছে বলে জানান তিনি।
রাজনীতিতে আসার আগে তিনি গ্রামের সরপঞ্চ বা পঞ্চায়েত প্রধান হতে চেয়েছিলেন। তখন পরিবারের সদস্যরা তাকে নিরুৎসাহিত করতেন এবং গ্রামেই থেকে যেতে বলতেন। কিন্তু অভিজিৎ নিজের পথ বেছে নেন। জুলাই মাসে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফেরার সময় তিনি গ্রেপ্তার হওয়ার আশঙ্কা করছিলেন। সেই আশঙ্কা থেকেই তিনি সঙ্গে মাত্র একটি ছোট ব্যাগ নিয়ে এসেছিলেন, কারণ তার বদ্ধমূল ধারণা ছিল, তাকে কারাগারে পাঠানো হতে পারে। গ্রেপ্তারের আশঙ্কা নিয়েই ফিরেছিলেন যুক্তরাষ্ট্র থেকে।
শনিবার সকালে দিল্লিগামী বিমানে থাকা অবস্থায় তিনি একটি ভিডিও ধারণ করেছিলেন। সেখানে তাকে বলতে শোনা যায়, গ্রেপ্তার হওয়ার সম্ভাবনা জেনেই তিনি দিল্লিতে এসেছেন এবং পুলিশ চাইলে তাকে যেকোনো সময় আটক করতে পারে। শনিবার বিমানবন্দরে আটকের পর তার দাদির শেষকৃত্যে অংশ নেওয়ার সুযোগ তিনি পাবেন কি না, তা নিয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। এসব ঘটনার মধ্য দিয়ে অভিজিতের ব্যক্তিগত জীবন ও রাজনৈতিক সংগ্রামের কঠিন সমীকরণ পুনরায় সামনে এসেছে।
























