দিল্লিতে বিক্ষোভ ঘিরে গণগ্রেফতার
- আপডেট সময় : ০৭:২২:৫৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
- / 1
ভারতের রাজধানী দিল্লিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি ঘিরে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ও ধরপাকড় চলছে। শনিবার (১০ অক্টোবর) যন্তর মন্তরে পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি পালন করতে যাওয়ার সময় ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতাকর্মীদের আটক করে পুলিশ। এই কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার অভিযোগে আম আদমি পার্টির নেতা ও দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল, পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠিসহ বেশ কয়েকজন বিরোধী রাজনীতিক ও আন্দোলনকারীকে আটক করা হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। তার সঙ্গে দলের কয়েকজন নেতাকে আটক করার কথা জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম। এবার দিল্লির যন্তর মন্তরে বড় সমাবেশের ডাক দেয় ককরোচ জনতা পার্টি ও সর্বভারতীয় ছাত্র সংগঠনসহ কয়েকটি পক্ষ। তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও দিল্লিতে আটক হন।
বিক্ষোভ দমনে দিল্লির গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে বিশাল পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। নিরাপত্তার খাতিরে দিল্লি মেট্রোর ৪৫টি স্টেশনের সব প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ বন্ধ রাখা হয়েছে। মধ্য দিল্লির কিছু এলাকায় সাময়িকভাবে ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে এবং দূরপাল্লার বেশ কিছু ট্রেন বাতিল করায় জনজীবনে চরম বিঘ্ন ঘটেছে। সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে এবং তার সহযোগী সৌরভ দাস ও আশুতোষ রানকাকে দিল্লি বিমানবন্দরেই আটক করা হয়। এছাড়াও কেরালার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নসহ একাধিক বিরোধী নেতার আটকের খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে। কয়েকশ’ দূরপাল্লার ট্রেন বাতিল হওয়ায় যাত্রীদের চলাচলেও বিঘ্ন ঘটে।
এই উত্তেজনার সূত্রপাত ভারতের নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকা বিশেষ নিবিড় সংশোধন কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে। সিজেপি ও বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ, ২০২৪ সাল থেকে ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ১৩ কোটি মানুষের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে, যা নির্বাচনী ফলাফলের ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে। আন্দোলনকারীদের দাবি, এই প্রক্রিয়া স্বচ্ছ নয় এবং এর জবাবদিহি নিশ্চিত করতে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ প্রয়োজন। তবে নির্বাচন কমিশন এসব অভিযোগ নাকচ করে জানিয়েছে যে, তালিকা নির্ভুল করতেই এই সংশোধন প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে এবং এর পেছনে কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নেই। এর আগেও গত ২ অক্টোবর মুম্বাইতে একই দাবিতে বিক্ষোভ হয়েছিল। তবে এই সংখ্যার পেছনে থাকা প্রক্রিয়া ও অভিযোগ নিয়ে বিতর্ক রয়েছে।
আটকের প্রতিক্রিয়ায় ককরোচ জনতা পার্টির অভিযোগ, পুলিশ পরিকল্পিতভাবে আন্দোলনের নেতাদের গ্রেফতার করে আন্দোলনকে স্তিমিত করার চেষ্টা করছে। তারা একে জনগণের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার ও চলাফেরার স্বাধীনতার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছে। অন্যদিকে, দিল্লি পুলিশের ভাষ্যমতে, কোনো কর্মসূচির জন্য অনুমতি নেওয়া হয়নি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এই বিধিনিষেধ জারি করা অপরিহার্য ছিল। প্রশাসনের দাবি, বিশৃঙ্খলা ঠেকাতেই তারা কঠোর অবস্থান নিয়েছে। জনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলা এড়াতে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। ফলে একদিকে প্রতিবাদের অধিকার নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, অন্যদিকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার যুক্তি সামনে এনেছে প্রশাসন।
দিল্লির এই ঘটনা বর্তমানে কেবল বিক্ষোভ দমনের ইস্যুতেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা ও প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডের স্বচ্ছতা নিয়ে বড় ধরনের বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার প্রকৃত পরিসংখ্যান এবং কমিশনের গৃহীত পদক্ষেপের ব্যাখ্যা এখন আলোচনার কেন্দ্রে। সামনে এই পরিস্থিতির মোড় কোন দিকে যায় এবং আটক নেতাদের মুক্তির দাবিতে রাজনৈতিক দলগুলো কী কৌশল নেয়, তা ভারতের নির্বাচনী রাজনীতির ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আপাতত দিল্লির আকাশ-বাতাস নিরাপত্তা কড়াকড়িতে ভারী হয়ে আছে এবং নির্বাচনী ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরালো হচ্ছে।























