ঝিনাইদহে পারিবারিক বিবাদে পৃথক ঘটনায় প্রাণ হারালেন দুই ভাই
- আপডেট সময় : ১১:০০:২৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
- / 4
ঝিনাইদহে তুচ্ছ পারিবারিক বিরোধ ও কলহের জেরে পৃথক দুটি ঘটনায় আপন দুই ভাই নিহত হয়েছেন। শনিবার বিকেলে শৈলকূপা উপজেলায় এবং সন্ধ্যায় ঝিনাইদহ সদর উপজেলায় এসব অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। এক ঘটনায় ছোট ভাইয়ের লাঠির আঘাতে বড় ভাই এবং অন্য ঘটনায় বড় ভাইয়ের কোদালের আঘাতে ছোট ভাই প্রাণ হারান।
শৈলকূপা উপজেলার ব্রহ্মপুর গ্রামে গাছের সুপারি পাড়া নিয়ে ছোট ভাই রবিউল ইসলামের সঙ্গে বড় ভাই মজিবুল ইসলামের (৪৮) বিরোধ সৃষ্টি হয়। শুক্রবার শুরু হওয়া এই বিবাদের জেরে শনিবার বিকেলে দুই পরিবারের মধ্যে মারামারি ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। এ সময় রবিউল লাঠি দিয়ে মজিবুলের মাথা ও শরীরে আঘাত করেন। মজিবুলকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় মজিবুলের স্ত্রী ও ছেলেও আহত হন। শৈলকূপা থানার ওসি হুমায়ুন কবীর মোল্লা জানিয়েছেন, নিহতের মরদেহ মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার পর অভিযুক্ত রবিউল আত্মগোপনে থাকলেও গ্রামবাসী তাঁর স্ত্রী মিলি খাতুনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছেন। স্বামীকে বাঁচাতে গিয়ে মজিবুলের স্ত্রী ও ছেলেও রক্তাক্ত হন।
অপরদিকে, ঝিনাইদহ সদর উপজেলার সাগান্না ইউনিয়নের বকশিপুর-চাঁদপুর গ্রামে পারিবারিক কলহের জেরে বড় ভাই সুমন মন্ডলের কোদালের আঘাতে ছোট ভাই সোহান মন্ডল (২৮) নিহত হয়েছেন। নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শনিবার বিকেলে সুমনের সঙ্গে সোহানের স্ত্রীর ঝগড়া হয়। সেই সূত্র ধরে সন্ধ্যায় দুই ভাইয়ের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হলে উত্তেজিত সুমন হাতের কাছে থাকা কোদাল দিয়ে সোহানের মাথায় আঘাত করে পালিয়ে যান।
মারাত্মক আহত সোহানকে উদ্ধার করে ঝিনাইদহ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. হুমায়রা হুমা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। ঝিনাইদহ সদর থানার ওসি আসাদুজ্জামান নিশ্চিত করেছেন যে, পারিবারিক বিবাদের কারণেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। ময়নাতদন্তের জন্য সোহানের মরদেহ মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং অভিযুক্ত সুমনকে গ্রেপ্তারে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে। প্রধান আসামি রবিউলকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে।

























