আসামে দুই দিনে ১১০০ পরিবার উচ্ছেদ
- আপডেট সময় : ০১:৫৫:৫৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬
- / 4
ভারতের আসাম রাজ্যে টানা দুই দিনের অভিযানে প্রায় ১১০০টিরও বেশি মুসলিম পরিবারকে উচ্ছেদ করা হয়েছে। মূলত নগাঁও, গোলাঘাট ও হোজাই জেলায় গত ১৭ ও ১৮ অক্টোবর এই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। সরকারি ও স্থানীয় তথ্য অনুযায়ী, ১৭ অক্টোবর এক দিনেই তিন জেলায় ৫৪৭টি পরিবারকে উচ্ছেদ করা হয়, যার মধ্যে নগাঁওতে ৩৩৬টি, হোজাইয়ে ১৫২টি ও গোলাঘাটে ৫৯টি পরিবার অন্তর্ভুক্ত ছিল। পরের দিন ১৮ অক্টোবর নগাঁওয়ের লুটুমারি-লংজাপ সংরক্ষিত বনাঞ্চলে আরও ৫০০ থেকে ৬০০ পরিবারের ঘরবাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। গত ১৭ ও ১৮ অক্টোবর এসব অভিযান চালানো হয় বলে সরকারি কর্মকর্তা ও সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। ওই অভিযানে প্রায় এক হাজার ৭০০ পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বনভূমি উদ্ধারের কারণ দেখিয়ে এই অভিযান অব্যাহত রাখার ইঙ্গিত দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। তবে উচ্ছেদ হওয়া বাসিন্দাদের দাবি, তারা বংশপরম্পরায় ওই এলাকায় বসবাস করছেন। ক্ষতিগ্রস্ত আবদুল নূরের ভাষ্যমতে, ১৯৭৪ সালে তার পরিবারকে ওই জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। তিনি আরও অভিযোগ করেন, অভিযানের সময় কয়েক দশক পুরোনো ১০টিরও বেশি মসজিদ ভেঙে ফেলা হয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, তাদের পূর্বপুরুষেরা ব্রিটিশ আমলের ‘টাউঙ্গিয়া’ ব্যবস্থার অধীনে বন বিভাগের শ্রমিক হিসেবে কাজ করার সুবাদে সেখানে বসতি স্থাপনের অনুমতি পেয়েছিলেন। উচ্ছেদে বাড়ি হারানো আবদুল নূর জানান, ১৯৭৪ সালে তার পরিবারকে ওই জমি দেওয়া হয়েছিল। অভিযানের সময় অনেক বাসিন্দা খননযন্ত্র পৌঁছানোর আগেই নিজেদের মালপত্র নিয়ে এলাকা ছেড়ে চলে গেছেন।
আইনি লড়াইয়ে ব্যর্থ হয়ে শেষ পর্যন্ত উচ্ছেদ হওয়া বাসিন্দারা সরকারি সিদ্ধান্তের মুখোমুখি হন। গৌহাটি হাইকোর্ট গত জুনে তাদের ৩০ দিনের মধ্যে এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছিল। আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, সংরক্ষিত বনাঞ্চল সুরক্ষার জনস্বার্থ ব্যক্তিগত মালিকানার দাবির চেয়ে বেশি গুরুত্ব বহন করে। সময়সীমা পার হওয়ার পর বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার নির্দেশও কার্যকর করা হয়। উল্লেখ্য, এর আগে গত বছরের নভেম্বরে লুটুমারিতে আরেক অভিযানে প্রায় ১৭০০ পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। এ ছাড়া হোজাইয়ের যমুনা-মৌডাঙ্গা এবং গোলাঘাটের ২ নম্বর নেঘেরিবিল এলাকাতেও উচ্ছেদ চালানো হয়েছে। গত জুনে আদালত তাদের ৩০ দিনের মধ্যে এলাকা ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন। উচ্ছেদের শিকার পরিবারগুলো সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গৌহাটি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেও প্রতিকার পায়নি।
আসাম সরকারের দাবি, সরকারি জমি ও বনভূমি অবৈধ দখলমুক্ত করাই এ অভিযানের মূল লক্ষ্য। তবে গত এক দশকে বিজেপির শাসনামলে রাজ্যটিতে প্রায় ১৯ হাজার পরিবারকে উচ্ছেদ করা হয়েছে, যাদের বড় একটি অংশই মুসলিম জনগোষ্ঠী। এসব উচ্ছেদ অভিযান নিয়ে বর্তমানে স্থানীয় পর্যায়ে বসতি ও ভূমির অধিকার সংক্রান্ত নতুন করে বিতর্ক ও পুনর্বাসন নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। সরকারি সূত্রের তথ্যের ভিত্তিতে সংকলিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আসামে বিজেপির এক দশকের শাসনামলে সরকারি জমি থেকে প্রায় ১৯ হাজার পরিবারকে উচ্ছেদ করা হয়েছে।
























