নেতানিয়াহুসহ ইসরাইলি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তুরস্কে মানবতাবিরোধী মামলার বিচার শুরু
- আপডেট সময় : ০৯:৫৮:৫২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬
- / 4
গাজায় মানবিক সহায়তা নিয়ে যাওয়া ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’য় ইসরাইলি বাহিনীর অভিযানের ঘটনায় দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুসহ ৩৫ জন রাজনৈতিক ও সামরিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তুরস্কে মানবতাবিরোধী অপরাধের আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়েছে। ইস্তাম্বুলের আদালতে শুরু হওয়া এ মামলাটি আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক গুরুত্ব পেয়েছে। ইতালিতেও তদন্তের মুখে ইসরাইলি কর্মকর্তারা। তুরস্ক ও ইতালিতে চলমান এসব আইনি পদক্ষেপ গাজায় মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর উদ্যোগে বাধা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে আচরণের বিষয়ে আন্তর্জাতিক জবাবদিহির প্রশ্নকে নতুন করে সামনে এনেছে।
অভিযুক্তদের তালিকায় নেতানিয়াহু ছাড়াও রয়েছেন ইসরাইলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসরাইল কাৎজ। তুরস্কের সরকারি কৌঁসুলিরা তাদের বিরুদ্ধে নির্যাতন, অবৈধ আটক, ডাকাতি, জাহাজ ছিনতাই এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ তুলেছেন। এছাড়া মামলায় ফিলিস্তিনে গণহত্যার মতো গুরুতর অভিযোগও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এ সময় বহরে থাকা ব্যক্তিদের আটক করা হয়।
চলতি বছরের জুলাই মাসে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ইস্যু করা হয়। এরপর আগস্টে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারির জন্য তুরস্কের আনুষ্ঠানিক অনুরোধের প্রেক্ষিতেই মামলাটি এখন বিচারিক পর্যায়ে প্রবেশ করল।
২০২৫ সালের ৩১ আগস্ট স্পেনের বার্সেলোনা থেকে ৪৪টি দেশের প্রায় ৫০০ অংশগ্রহণকারীকে নিয়ে ৫০টিরও বেশি জাহাজ গাজার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেছিল। অভিযোগ রয়েছে, পথে তিউনিসিয়া ও গ্রিসের উপকূলে বহরের কয়েকটি নৌযানে ইসরাইলি বাহিনীর ড্রোন হামলা চালানো হয়। পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক জলসীমায় জাহাজগুলো আটক করে সামরিক বাহিনী।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, আটকের পর তাদের ওপর শারীরিক নির্যাতন, যৌন সহিংসতা ও অপমানজনক আচরণ করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা থেকেও বঞ্চিত রাখা হয়। তুরস্কের মধ্যস্থতায় পরে আটক কয়েকশ অংশগ্রহণকারীকে চার্টার্ড ফ্লাইটে ইস্তাম্বুলে ফিরিয়ে আনা হয়। বর্তমান মামলায় ১০১ জন ভুক্তভোগী সরাসরি প্রতিনিধিত্ব করছেন। তাদের মধ্যে গণমাধ্যমকর্মী ও নোভারা মিডিয়ার এক অবদানকারীও ছিলেন। ইস্তাম্বুলে তাদের সঙ্গে কাজ করেন আইনজীবী ও চিকিৎসকদের দল।
গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার আইনি দল জানায়, এটি কেবল ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা নয়, বরং রাষ্ট্রের অপরাধের দায়মুক্তি সংস্কৃতির বিরুদ্ধে একটি মাইলফলক। নিরস্ত্র বেসামরিক মানুষের বিরুদ্ধে সশস্ত্র শক্তি প্রয়োগের নির্দেশদাতাদের জবাবদিহির আওতায় আনাই এ মামলার মূল লক্ষ্য।
তুরস্ক এই মামলা পরিচালনার জন্য ‘ইউনিভার্সাল জুরিসডিকশন’ বা সর্বজনীন বিচারিক এখতিয়ার নীতি ব্যবহার করছে। এই নীতির আওতায় কোনো অপরাধের ঘটনা স্বদেশের ভূখণ্ডে না ঘটলেও আন্তর্জাতিক গুরুতর অপরাধের বিচার করার সুযোগ থাকে। তবে আদালতের আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই অভিযোগের গ্রহণযোগ্যতা ও আসামিদের দায় নিশ্চিত করা হবে।
ইস্তাম্বুলের পাশাপাশি ইতালির রোমেও একই ঘটনায় তদন্ত সম্প্রসারণ করা হয়েছে। সেখানে ৫০ জন ইতালীয় নাগরিকের অভিযোগের ভিত্তিতে ইসরাইলের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। সন্দেহভাজনদের তালিকায় দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান এয়াল জামিরসহ ১১ জন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা রয়েছেন।
তাদের বিরুদ্ধে নির্যাতন, অপহরণ, সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতি এবং জাহাজডুবির ঝুঁকি সৃষ্টির মতো কর্মকাণ্ডের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের ভিত্তিতে বিচার শুরু হওয়া মানেই অপরাধ প্রমাণিত হওয়া নয়, চূড়ান্ত রায়ের মাধ্যমেই আসামিদের দায় নির্ধারিত হবে। নির্যাতন ও দুর্ব্যবহারের অভিযোগের পক্ষে তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

























