৩৪ দিন পর ক্লাসে ফেরার ঘোষণা চুয়েট শিক্ষার্থীদের
- আপডেট সময় : ০৬:২৭:২৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬
- / 5
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) টানা ৩৪ দিনের অচলাবস্থা নিরসনের পথে। দীর্ঘদিন স্থবির থাকা একাডেমিক কার্যক্রম সচল করার লক্ষ্যে শ্রেণিকক্ষে ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। তবে এই সিদ্ধান্ত তাদের চলমান আন্দোলনের সমাপ্তি নয়। সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনরায় নিয়োগের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার অনড় অবস্থানে রয়েছেন তারা। সায়েম স্যারের পুনর্বহালের দাবিতে তাদের আন্দোলন চলবে।
শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে রোববার শিক্ষকদের উদ্দেশে দেওয়া এক খোলা চিঠিতে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করার জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশ নিশ্চিত করতে শিক্ষকদের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীরা চিঠিতে স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, দীর্ঘ সময় ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ থাকায় তাদের শিক্ষাজীবন ও ভবিষ্যৎ চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। তারা এই ক্ষতি আর দীর্ঘায়িত করতে চান না।
একই দিনে শিক্ষক সমিতির সাধারণ সভাতেও শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফেরার বিষয়ে আহ্বান জানানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সমিতির যুগ্ম সম্পাদক সামিউন বাসির জানিয়েছেন, শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফেরার ইচ্ছার প্রতি তারা ইতিবাচক সাড়া দিয়েছেন। খুব শীঘ্রই একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতির মাধ্যমে পরবর্তী বিস্তারিত কার্যক্রম জানানো হবে। কোন বিভাগ কবে থেকে ক্লাস শুরু করবে, তা বিভাগগুলো নিজ নিজ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নির্ধারণ করবে। এদিকে আজ দুপুরে শিক্ষক সমিতির সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। বাকি সিদ্ধান্তগুলো বিবৃতি দিয়ে জানানো হবে।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ভাষ্যমতে, ক্লাসে ফেরা মানেই দাবি থেকে পিছু হটা নয়।
যন্ত্রকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মাসুম বিল্লাহর মতে, তারা কোনো সংঘাত চান না, বরং সংকটের একটি সম্মানজনক সমাধান খুঁজছেন। তবে ক্যাম্পাসে নবাগত উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমের প্রবেশ ঠেকাতে তারা কঠোর কর্মসূচি থেকে সরছেন না। ২১ সেপ্টেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয় অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে সরিয়ে অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে নিয়োগ দেওয়ার পর থেকেই শুরু হয় এই অচলাবস্থা।
২২ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া সর্বাত্মক শাটডাউনের অংশ হিসেবে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মকর্তারা কর্মবিরতি ও অসহযোগ আন্দোলন চালিয়ে আসছেন। এই সম্মিলিত আন্দোলনের ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম পুরোপুরি থমকে গিয়েছিল। শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত রাজপথে থেকে তাদের সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে। তবে ক্লাসে ফেরার সিদ্ধান্তকে আন্দোলন থেকে সরে আসা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই বলে চিঠিতে উল্লেখ করেন শিক্ষার্থীরা। ন্যায্য দাবি আদায়ে তারা ঐক্যবদ্ধ থাকবেন বলেও উল্লেখ করেন।

























