সিরাজগঞ্জে ১৬ বছর ধরে সংসার করছে বট ও পাকুড়গাছ
- আপডেট সময় : ১২:৩২:৫১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
- / 0
সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার সায়দাবাদ ইউনিয়নের খিদির বটতলা গ্রামের বাসিন্দা রাজেন্দ্রনাথ সরকার ও করিবালা সরকারের সংসারে ছয়টি মেয়ে। স্থানীয়ভাবে প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, এই ছয় মেয়ের মধ্যে ষষ্ঠ মেয়েটি কোনো মানুষ নয়, বরং একটি বটগাছ। বটেশ্বরী নামের সেই গাছটিকে এবং তার পাশে থাকা পাকুড়গাছকে ১৬ বছর আগে আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ে দেওয়া হয়েছিল। ২০১০ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি আয়োজিত সেই বিয়ের পর থেকে গাছ দুটি স্বামী-স্ত্রী হিসেবেই পরিচিতি পেয়েছে। সিরাজগঞ্জে স্বপ্ন দেখে বট-পাকুড়ের বিয়ে ১৬ বছর ধরে করছে সংসার। সেই থেকে কেটে গেছে ১৬ বছর।
এই ব্যতিক্রমী আয়োজনের পেছনে রয়েছে এক স্বপ্নের গল্প। রাজেন্দ্রনাথ সরকার জানান, তার নিজের মেয়ে মুক্তি সরকারের বিয়ের আগে তিনি এক রাতে স্বপ্ন দেখেন, যেখানে বটেশ্বরী ও পাকুড়গাছ তাকে অনুরোধ জানায় মুক্তির বিয়ের আগেই তাদের বিয়ের ব্যবস্থা করতে। তবে শুরুতে তিনি সেই স্বপ্নকে গুরুত্ব দেননি এবং মেয়ের বিয়ে দিয়ে দেন। পরবর্তীতে বিষয়টি পরিবারের সদস্য ও গ্রামবাসীদের জানালে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের পরামর্শে গাছ দুটির বিয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
মুক্তির স্বামী দিরেশ চন্দ্র মণ্ডলের ভাষ্যমতে, স্ত্রীর বিয়ের পর শ্বশুর রাজেন্দ্রনাথ সরকার ও গ্রামবাসীর সহায়তায় এই বিশেষ বিয়ের আয়োজন সম্পন্ন হয়। সেই থেকে ১৬ বছরের বেশি সময় ধরে বটেশ্বরী ও পাকুড়গাছকে একই বন্ধনে আবদ্ধ মনে করা হয়। এই বিশ্বাস থেকে প্রতিবছর বটেশ্বরীর জন্য নতুন শাড়ি এবং পাকুড়গাছের জন্য ধুতি উপহার দেওয়া হয়।
গাছ দুটিকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ দেখা যায়। সপ্তাহে তিনদিন সেখানে নিয়মিত পূজা-অর্চনা ও ভোগ নিবেদন করা হয়। মানত পূরণের আশায় দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ এখানে ছুটে আসেন, গাছ দুটির গায়ে লাল সুতো বা তাবিজ বেঁধে নিজেদের ইচ্ছা পূরণের প্রার্থনা করেন। গাছ দুটিকে কেন্দ্র করে এই আচার-অনুষ্ঠান আজও নিয়মিতভাবে চলছে। সপ্তাহে তিন দিন হয় পূজা- অর্চনা, দেওয়া হয় দুধ-কলা ও নানা রকম ভোগ।

























