সৌদিতে ফ্লাইট বাতিল: এয়ারলাইন ও ট্রাভেল খাতে ১০০ কোটি টাকা ক্ষতি
- আপডেট সময় : ০৯:৫৬:৫৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
- / 0
সৌদি আরবে চলমান নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে ঢাকা থেকে রিয়াদ ও দাম্মাম রুটে ফ্লাইট চলাচল গত ১৮ দিন ধরে বন্ধ রয়েছে। এই সংকটের জেরে দেশের এভিয়েশন এবং পর্যটন খাত বিশাল আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ধারণা অনুযায়ী, ইতিমধ্যে ফ্লাইট বাতিলের ঘটনায় এয়ারলাইনগুলোর ক্ষতির পরিমাণ অন্তত ১০০ কোটি টাকায় ঠেকেছে। পরিস্থিতি পর্যালোচনার পর এই দুই রুটে আগামী ৪ নভেম্বর পর্যন্ত বিমান চলাচল স্থগিত রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। সব এয়ারলাইন মিলিয়ে ক্ষতির পরিমাণ ১০০ কোটি টাকার পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে তিনি মনে করেন।
ফ্লাইট বন্ধ থাকার কারণে বিপুল সংখ্যক প্রবাসী যাত্রী চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন। অনেকেই কর্মস্থলে সময়মতো পৌঁছাতে না পারা, ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়া বা অভিবাসনসংক্রান্ত জটিলতায় পড়ার শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন। এখন পর্যন্ত মোট ১৫৬টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে, যা প্রায় ২২ হাজার ২৪১ জন যাত্রীর যাতায়াত ব্যাহত করেছে। আপাতত যে সব যাত্রীর ভিসার মেয়াদ উত্তীর্ণ হতে চলেছে, তাদের জেদ্দা ও মদিনা হয়ে বিকল্প পথে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে এই বাড়তি যাত্রাপথ ও সময়ের কারণে যাত্রীদের বাড়তি ভোগান্তি ও খরচের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। তবে এই বিকল্প পথে যাত্রা করতে গিয়ে যাত্রীদের অতিরিক্ত সময় ও ব্যয়ের মুখে পড়তে হতে পারে।
ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) কামরুল ইসলাম জানিয়েছেন, সৌদির গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্যগুলোতে নিয়মিত ফ্লাইট না চলায় প্রতিষ্ঠানগুলো আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এছাড়া ওমরাহ পালনে ইচ্ছুক যাত্রীরাও বর্তমান অস্থিরতার কারণে ভ্রমণ বাতিল করছেন। ট্রাভেল এজেন্সিগুলোর অবস্থাও শোচনীয়। ইনোগ্লোব ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা তাসলিম আমিন শোভন জানিয়েছেন, নিরাপত্তা ঝুঁকি ও উদ্বেগের কারণে ইউরোপগামী ফ্লাইটের প্রায় ৭০ শতাংশ টিকিটই বাতিল করতে হয়েছে। অনেক যাত্রী মধ্যপ্রাচ্যের রুট এড়িয়ে বিকল্প পথে ভ্রমণের চেষ্টা করছেন।
নিরাপত্তাঝুঁকির ভয়ে শুধু বাংলাদেশি নয়, বরং আন্তর্জাতিক যাত্রীরাও মধ্যপ্রাচ্য হয়ে যাতায়াত করতে অনীহা প্রকাশ করছেন। ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা, এই অচলাবস্থা দীর্ঘায়িত হলে এয়ারলাইন ও ট্রাভেল এজেন্সির পাশাপাশি সামগ্রিক পর্যটন খাতের ক্ষতি আরও ঘনীভূত হবে। প্রবাসীদের কর্মস্থলে ফেরা নিশ্চিত করতে এবং যাত্রীদের ভ্রমণ পরিকল্পনা সফল করতে দ্রুত নিরাপত্তা পরিস্থিতি উন্নতির পাশাপাশি ফ্লাইট চলাচল স্বাভাবিক হওয়া অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। পরিস্থিতি কবে স্বাভাবিক হবে, তা নিয়েও স্পষ্ট কোনো নিশ্চয়তা নেই।
























