কুষ্টিয়ায় ছয় হত্যাকাণ্ডের মামলায় হানিফের মৃত্যুদণ্ড, তিনজনের কারাদণ্ড
- আপডেট সময় : ০১:০৭:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
- / 0
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একই রায়ে কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সদরউদ্দিন খান, সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী এবং শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান আতাকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় ঘোষণা করেন। প্যানেলের অপর দুই সদস্য ছিলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
ট্রাইব্যুনাল জানিয়েছেন, মামলার চারজন আসামিই পলাতক। রায়ের পাশাপাশি তাঁদের সব সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্যদের মাঝে বিতরণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মামলায় মূলত আসামিদের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক বক্তব্য, ষড়যন্ত্র ও পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ আনা হয়েছিল।
আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ২৭ জুলাই কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে দেওয়া উসকানিমূলক বক্তব্যের মাধ্যমে আন্দোলনকারীদের ওপর দমন-পীড়নের পথ তৈরি করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ৫ আগস্ট কুষ্টিয়া শহরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও দলীয় সশস্ত্র ক্যাডারদের নির্বিচার গুলিতে আশরাফুল, সুরুজ আলী বাবু, মুস্তাকিন, উসামা, বাবলু ফরাজী ও ইউসুফ শেখ নিহত হন। এ সময় আরও তিন থেকে পাঁচজন আন্দোলনকারী গুরুতর আহত হন বলে নথিতে উল্লেখ রয়েছে।
আরেকটি অভিযোগে বলা হয়েছে, ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে ড্রোনের মাধ্যমে অবস্থান শনাক্ত, হেলিকপ্টার থেকে গুলিবর্ষণ এবং প্রাণঘাতী অস্ত্রের ব্যবহার কেন্দ্রীয় পরিকল্পনার অংশ ছিল। রাষ্ট্রপক্ষের দাবি অনুযায়ী, দেশব্যাপী অপরাধযজ্ঞের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত থেকে চার আসামি কুষ্টিয়ায় হত্যাকাণ্ডের পুরো প্রক্রিয়ায় নেতৃত্ব ও সহায়তা প্রদান করেছিলেন।
মামলাটির বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয় ২০২৫ সালের ২ নভেম্বর আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে। এর আগে ৫ অক্টোবর প্রসিকিউশন পক্ষ আসামিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করলে পরদিন তা আমলে নেওয়া হয়। ২৩ এপ্রিল ১৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণের মাধ্যমে তদন্ত কর্মকর্তাকে জেরা শেষ হয়েছিল। মামলার সব যুক্তিতর্ক শেষে গত ৭ অক্টোবর ট্রাইব্যুনাল রায় ঘোষণার জন্য ২৯ অক্টোবর তারিখটি নির্ধারণ করেন। এর আগে জুন মাসে একবার যুক্তিতর্ক শেষ হলেও রাষ্ট্রপক্ষের অতিরিক্ত প্রমাণের কারণে পুনরায় শুনানির প্রয়োজন হয়েছিল। গত ৭ অক্টোবর রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তি-পাল্টা যুক্তি উপস্থাপন শেষে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখেন ট্রাইব্যুনাল। এর আগে ১০ জুন যুক্তিতর্ক শেষে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়েছিল। পরদিন ৬ অক্টোবর অভিযোগ আমলে নেওয়া হয়। একই বছরের ২ নভেম্বর চার আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-২।

























