ঢাকা ০৭:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
নালিতাবাড়ীতে ৩ কোটির পিসি গার্ডার ব্রিজের উদ্বোধন করলেন এমপি ফাহিম পরাজয়ের আশঙ্কায় ভোট চুরির অভিযোগ নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টির, প্রমাণ মেলেনি তদন্তে ট্রাভেল এজেন্টদের জন্য ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্সের টিকিটে ১০ শতাংশ ছাড় কালবৈশাখী ঝড়ে মাথা গোঁজার শেষ আশ্রয়টুকু হারালেন অসহায় হাজেরা ের জবাব -: তাহসিফ সৌরির মৃত অবস্থায় পাওয়ার ঘটনায় সুরতহাল প্রতিবেদনে তাহসিফ সাউরির শারীরিক অবস্থার বিবরণ কুয়েটে শৃঙ্খলাভঙ্গ ও অনিয়মের দায়ে পাঁচ শিক্ষকসহ বরখাস্ত ৭ তাহসিফের মৃত্যুর কারণ অজানা, মাঝেমধ্যে আশঙ্কার কথা বলতেন বাবা মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা: সৌদিগামী ১৫৩টি ফ্লাইট বাতিল, ভোগান্তিতে ২২ হাজার যাত্রী বৃষ্টির বাগড়ায় ঢাকা টেস্টের দ্বিতীয় দিনের খেলা স্থগিত

কালবৈশাখী ঝড়ে মাথা গোঁজার শেষ আশ্রয়টুকু হারালেন অসহায় হাজেরা

  • আপডেট সময় : ০৫:৫২:১২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
  • / 5
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

প্রকৃতির বৈরী আচরণে নাটোরের লালপুর উপজেলার নবীনগর গ্রামের বৃদ্ধা হাজেরা বেওয়ার জীবনে নেমে এসেছে চরম দুর্ভোগ। বুধবার সন্ধ্যায় বয়ে যাওয়া কালবৈশাখী ঝড়ে তাঁর মাথা গোঁজার একমাত্র সম্বল ছোট ঘরটি লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। মানুষের সহায়তায় পাওয়া মাত্র এক শতাংশ জমির ওপর গড়ে তোলা ঘরটি বিধ্বস্ত হওয়ায় এখন খোলা আকাশের নিচে দিন কাটছে এই অসহায় নারীর। বৃহস্পতিবার তাঁর বিধ্বস্ত বাড়ির চিত্র ছিল করুণ, ভাঙা ঘরের সামনে বসে অঝোরে কাঁদছিলেন তিনি।

হাজেরা বেওয়ার জীবন সংগ্রাম প্রায় ১৪ বছর আগের, যখন তাঁর স্বামী জামাত মণ্ডল মারা যান। পাঁচ মেয়েকে নিয়ে এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের পথে যাত্রা শুরু করেন তিনি। তাঁর কোনো পুত্রসন্তান নেই এবং নিজের নামে নেই কোনো জমি। পাঁচ মেয়ের মধ্যে দুজন আবার বিধবা হয়ে বর্তমানে চরম কষ্টে জীবন অতিবাহিত করছেন। অভাবের তাড়নায় জর্জরিত এই পরিবারটি দীর্ঘদিন ধরে মানবেতর জীবনযাপন করছে। গত ১৫-১৬ বছর ধরে তিনি সরকারি কোনো বড় ধরনের অনুদান বা সহায়তা পাননি বললেই চলে।

স্থানীয় প্রতিবেশী রবিউল ইসলাম জানান, হাজেরা বেওয়া অত্যন্ত অসহায় একজন নারী। গত বছর স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তাঁকে একটি বিধবা ভাতার কার্ড করে দিলেও কারিগরি জটিলতায় শেষ কিস্তির টাকা তাঁর মোবাইল পর্যন্ত পৌঁছেনি। এ বিষয়ে ঈশ্বরদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল আজিজ রঞ্জু বলেন, পূর্বে তিনি কী সহায়তা পেয়েছেন তা তাঁর জানা নেই, তবে চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পর বিধবা ভাতার কার্ডের ব্যবস্থা তিনি করে দিয়েছেন।

হাজেরা বেওয়ার বর্তমান পরিস্থিতির বিষয়ে জানতে পেরে লালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজী মো. মেশকাতুল ইসলাম জানিয়েছেন, খবর পাওয়ার পরপরই বিষয়টি গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখা হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে সরেজমিনে গিয়ে তাঁর বাড়ি পরিদর্শন করা হবে এবং সরকারি নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করা হবে। অসহায় এই বিধবার জন্য কেবল ক্ষণিক সান্ত্বনা নয়, বরং স্থায়ী একটি আশ্রয় এবং সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত হওয়াই এখন সময়ের দাবি।

নিউজটি শেয়ার করুন

কালবৈশাখী ঝড়ে মাথা গোঁজার শেষ আশ্রয়টুকু হারালেন অসহায় হাজেরা

আপডেট সময় : ০৫:৫২:১২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

প্রকৃতির বৈরী আচরণে নাটোরের লালপুর উপজেলার নবীনগর গ্রামের বৃদ্ধা হাজেরা বেওয়ার জীবনে নেমে এসেছে চরম দুর্ভোগ। বুধবার সন্ধ্যায় বয়ে যাওয়া কালবৈশাখী ঝড়ে তাঁর মাথা গোঁজার একমাত্র সম্বল ছোট ঘরটি লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। মানুষের সহায়তায় পাওয়া মাত্র এক শতাংশ জমির ওপর গড়ে তোলা ঘরটি বিধ্বস্ত হওয়ায় এখন খোলা আকাশের নিচে দিন কাটছে এই অসহায় নারীর। বৃহস্পতিবার তাঁর বিধ্বস্ত বাড়ির চিত্র ছিল করুণ, ভাঙা ঘরের সামনে বসে অঝোরে কাঁদছিলেন তিনি।

হাজেরা বেওয়ার জীবন সংগ্রাম প্রায় ১৪ বছর আগের, যখন তাঁর স্বামী জামাত মণ্ডল মারা যান। পাঁচ মেয়েকে নিয়ে এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের পথে যাত্রা শুরু করেন তিনি। তাঁর কোনো পুত্রসন্তান নেই এবং নিজের নামে নেই কোনো জমি। পাঁচ মেয়ের মধ্যে দুজন আবার বিধবা হয়ে বর্তমানে চরম কষ্টে জীবন অতিবাহিত করছেন। অভাবের তাড়নায় জর্জরিত এই পরিবারটি দীর্ঘদিন ধরে মানবেতর জীবনযাপন করছে। গত ১৫-১৬ বছর ধরে তিনি সরকারি কোনো বড় ধরনের অনুদান বা সহায়তা পাননি বললেই চলে।

স্থানীয় প্রতিবেশী রবিউল ইসলাম জানান, হাজেরা বেওয়া অত্যন্ত অসহায় একজন নারী। গত বছর স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তাঁকে একটি বিধবা ভাতার কার্ড করে দিলেও কারিগরি জটিলতায় শেষ কিস্তির টাকা তাঁর মোবাইল পর্যন্ত পৌঁছেনি। এ বিষয়ে ঈশ্বরদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল আজিজ রঞ্জু বলেন, পূর্বে তিনি কী সহায়তা পেয়েছেন তা তাঁর জানা নেই, তবে চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পর বিধবা ভাতার কার্ডের ব্যবস্থা তিনি করে দিয়েছেন।

হাজেরা বেওয়ার বর্তমান পরিস্থিতির বিষয়ে জানতে পেরে লালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজী মো. মেশকাতুল ইসলাম জানিয়েছেন, খবর পাওয়ার পরপরই বিষয়টি গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখা হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে সরেজমিনে গিয়ে তাঁর বাড়ি পরিদর্শন করা হবে এবং সরকারি নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করা হবে। অসহায় এই বিধবার জন্য কেবল ক্ষণিক সান্ত্বনা নয়, বরং স্থায়ী একটি আশ্রয় এবং সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত হওয়াই এখন সময়ের দাবি।