সৌদি আরবে ফ্লাইট বিধিনিষেধ: বিপাকে প্রায় ২৩ হাজার যাত্রী
- আপডেট সময় : ০৯:৫০:৪৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
- / 0
সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দরে ফ্লাইট পরিচালনায় আরোপ করা বিধিনিষেধের কবলে পড়ে বাংলাদেশ থেকে সৌদিগামী ও সৌদি ফেরত ১৬৫টি ফ্লাইটের কার্যক্রম ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে। এতে আকাশপথে যাতায়াতকারী প্রায় ২৩ হাজার যাত্রী পড়েছেন চরম দুর্ভোগে। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) গত ১ নভেম্বর বিকেলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত ১৬৫টি ফ্লাইটের মোট যাত্রীসংখ্যা ২২ হাজার ৯১৭ জন। গত ১০ অক্টোবর থেকে সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দরে এই বিধিনিষেধ কার্যকর করা হয়েছে, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে আকাশ যোগাযোগ ব্যবস্থার ওপর। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্য ও অন্যান্য দেশের বিমানবন্দর হয়ে সৌদি আরবে যাতায়াতকারী ট্রানজিট যাত্রীরাও সমস্যায় পড়েছেন।
বেবিচকের দেওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ব্যাহত হওয়া মোট ফ্লাইটের মধ্যে সরাসরি ফ্লাইট রয়েছে ৮৮টি। এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ৪১টি, সৌদিয়া এয়ারলাইনসের ২১টি, রিয়াদ এয়ারের ১৬টি এবং ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ১০টি ফ্লাইট রয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন ট্রানজিট পয়েন্ট হয়ে চলাচলকারী আরও ৭৭টি ফ্লাইট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ইন্ডিগোর ৩০টি, এমিরেটসের ১৪টি, কাতার এয়ারওয়েজের ৯টি, ফ্লাইদুবাইয়ের ৮টি, এয়ার ইন্ডিয়ার ৮টি, সালাম এয়ারের ৭টি এবং ইজিপ্ট এয়ারের একটি ফ্লাইট রয়েছে। মূলত ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতির হামলার পর নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনায় এই কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে।
ফ্লাইট বাতিল ও দীর্ঘমেয়াদী স্থগিতাদেশের কারণে প্রবাসী কর্মী এবং জরুরি প্রয়োজনে ভ্রমণকারী যাত্রীদের অনিশ্চয়তা বাড়ছে। অনেকে টিকিট পরিবর্তন কিংবা নতুন সূচি নিয়ে বিপাকে পড়েছেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে নিরাপত্তা ইস্যুকে প্রাধান্য দিয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস গত ২৫ অক্টোবর এক বিজ্ঞপ্তিতে ঢাকা থেকে দাম্মাম ও রিয়াদগামী সব ফ্লাইট আগামী ৪ নভেম্বর পর্যন্ত স্থগিত ঘোষণা করেছে। যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এমন কঠোর সিদ্ধান্তের মূল কারণ বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী সংস্থাটি। ফ্লাইট বাতিল ও স্থগিতের কারণে অনেক যাত্রী নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছেন না।
বর্তমানে সৌদি আরবের পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ফ্লাইট পরিচালনায় এই অনিশ্চয়তা অব্যাহত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এমতাবস্থায় সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে ও সর্বশেষ সময়সূচি নিশ্চিত হয়ে যাত্রীদের বিমানবন্দরে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আকাশপথে এমন বিঘ্ন ঘটার কারণে আটকে পড়া যাত্রীদের দুর্ভোগ নিরসন এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরিয়ে আনাই এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাঁড়িয়েছে।























