ঢাকা ১২:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
তিন মাসে ভোক্তা অধিদপ্তরের অভিযানে আদায় ৫ কোটি ৩৫ লাখ টাকা হরমুজ প্রণালিতে ইরানের লক্ষ্যবস্তুতে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা, কেশমে তীব্র বিস্ফোরণ শাহজালাল বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল পরিচালনায় জাপানের কঠিন শর্ত মানল বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রে হ্যালোইন উৎসবে বন্দুক হামলায় ঝরল ২৪ প্রাণ গাজীপুরে অস্থিরতা এড়াতে ২৫ পোশাক কারখানা ছুটি ঘোষণা ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে যুক্তরাষ্ট্রের গোপন হামলা অব্যাহত নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে নতুন গ্যাসকূপের সন্ধান, মিলবে ২০ বছর ভারতে বিমানের টিকিটের ভাড়ায় আসছে নতুন নিয়ম যুবলীগ নেতার প্রতিষ্ঠানকে কোটি টাকার কাজ পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ নির্বাচিত হলে বেকারদের কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি জাকির হোসেনের

তিন মাসে ভোক্তা অধিদপ্তরের অভিযানে আদায় ৫ কোটি ৩৫ লাখ টাকা

  • আপডেট সময় : ১২:১৮:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬
  • / 0
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দেশের নিত্যপণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখা এবং ভোক্তাদের স্বার্থ সুরক্ষায় কঠোর অবস্থানে রয়েছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। ভোক্তাদের কাছ থেকে পণ্যের মূল্য আদায়ে স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং ব্যবসায়িক কার্যক্রমে প্রচলিত আইন মেনে চলার বিষয়েও গুরুত্ব দিচ্ছে অধিদপ্তর।

সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন মাসে দেশজুড়ে মোট ৫ হাজার ৯৭টি বাজার তদারকি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এই সময়ে বিভিন্ন অনিয়মের দায়ে ৫ হাজার ৫৫৪টি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হয়েছে এবং আদায় করা হয়েছে ৫ কোটি ৩৫ লাখ ৮৭ হাজার ৪০০ টাকা।

অতিরিক্ত মুনাফার উদ্দেশ্যে পণ্য মজুদ, কৃত্রিম সংকট তৈরি, পণ্যের মোড়কে সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য উল্লেখ না থাকা, ওজন ও পরিমাপে কারচুপি এবং মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য বিক্রির মতো অনিয়মের বিরুদ্ধে এসব অভিযান চালানো হয়। ভোজ্যতেল, ছোলা ও ডালের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে অধিদপ্তর। অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া মাত্রই সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পণ্যের গুণগত মান, মেয়াদ এবং সঠিক ওজন ও পরিমাপ নিশ্চিত করতেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

অভিযান চলাকালে ব্যবসায়ীদের দৃশ্যমান স্থানে হালনাগাদ মূল্যতালিকা প্রদর্শন এবং কেনাবেচায় স্বচ্ছতা বজায় রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়। হোটেল ও রেস্তোরাঁগুলোতেও আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে তদারকি করা হচ্ছে। শুধু শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নয়, বাজার ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফেরাতে ও ব্যবসায়ীদের সচেতন করতে লিফলেট বিতরণসহ নানা প্রচারণামূলক কার্যক্রমও পরিচালনা করছে সংস্থাটি। হোটেল ও রেস্তোরাঁয় সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধিবিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, তাও যাচাই করা হয়।

জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. জহিরুল ইসলাম জানান, অনিয়ম দমনে সারা দেশে তাদের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা শুধু জরিমানা আদায়ের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করি না, বরং ব্যবসায়ী ও ভোক্তাদের সচেতন করাও আমাদের অন্যতম উদ্দেশ্য।’

মহাপরিচালক আরও উল্লেখ করেন, জরিমানা করার পরও যদি কোনো প্রতিষ্ঠান বারবার অনিয়ম করতে থাকে, তবে সেই প্রতিষ্ঠান সিলগালা করে দেওয়া হচ্ছে। তিনি ব্যবসায়ীদের নৈতিকতার সঙ্গে ব্যবসা পরিচালনার আহ্বান জানিয়ে বলেন, শুধু সরকারি অভিযান দিয়ে বাজার নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়; একটি নিরাপদ ও সুষ্ঠু বাজার ব্যবস্থা গড়ে তুলতে ব্যবসায়ীদের দায়িত্বশীল ভূমিকা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন।

নিউজটি শেয়ার করুন

তিন মাসে ভোক্তা অধিদপ্তরের অভিযানে আদায় ৫ কোটি ৩৫ লাখ টাকা

আপডেট সময় : ১২:১৮:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬

দেশের নিত্যপণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখা এবং ভোক্তাদের স্বার্থ সুরক্ষায় কঠোর অবস্থানে রয়েছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। ভোক্তাদের কাছ থেকে পণ্যের মূল্য আদায়ে স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং ব্যবসায়িক কার্যক্রমে প্রচলিত আইন মেনে চলার বিষয়েও গুরুত্ব দিচ্ছে অধিদপ্তর।

সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন মাসে দেশজুড়ে মোট ৫ হাজার ৯৭টি বাজার তদারকি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এই সময়ে বিভিন্ন অনিয়মের দায়ে ৫ হাজার ৫৫৪টি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হয়েছে এবং আদায় করা হয়েছে ৫ কোটি ৩৫ লাখ ৮৭ হাজার ৪০০ টাকা।

অতিরিক্ত মুনাফার উদ্দেশ্যে পণ্য মজুদ, কৃত্রিম সংকট তৈরি, পণ্যের মোড়কে সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য উল্লেখ না থাকা, ওজন ও পরিমাপে কারচুপি এবং মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য বিক্রির মতো অনিয়মের বিরুদ্ধে এসব অভিযান চালানো হয়। ভোজ্যতেল, ছোলা ও ডালের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে অধিদপ্তর। অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া মাত্রই সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পণ্যের গুণগত মান, মেয়াদ এবং সঠিক ওজন ও পরিমাপ নিশ্চিত করতেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

অভিযান চলাকালে ব্যবসায়ীদের দৃশ্যমান স্থানে হালনাগাদ মূল্যতালিকা প্রদর্শন এবং কেনাবেচায় স্বচ্ছতা বজায় রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়। হোটেল ও রেস্তোরাঁগুলোতেও আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে তদারকি করা হচ্ছে। শুধু শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নয়, বাজার ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফেরাতে ও ব্যবসায়ীদের সচেতন করতে লিফলেট বিতরণসহ নানা প্রচারণামূলক কার্যক্রমও পরিচালনা করছে সংস্থাটি। হোটেল ও রেস্তোরাঁয় সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধিবিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, তাও যাচাই করা হয়।

জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. জহিরুল ইসলাম জানান, অনিয়ম দমনে সারা দেশে তাদের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা শুধু জরিমানা আদায়ের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করি না, বরং ব্যবসায়ী ও ভোক্তাদের সচেতন করাও আমাদের অন্যতম উদ্দেশ্য।’

মহাপরিচালক আরও উল্লেখ করেন, জরিমানা করার পরও যদি কোনো প্রতিষ্ঠান বারবার অনিয়ম করতে থাকে, তবে সেই প্রতিষ্ঠান সিলগালা করে দেওয়া হচ্ছে। তিনি ব্যবসায়ীদের নৈতিকতার সঙ্গে ব্যবসা পরিচালনার আহ্বান জানিয়ে বলেন, শুধু সরকারি অভিযান দিয়ে বাজার নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়; একটি নিরাপদ ও সুষ্ঠু বাজার ব্যবস্থা গড়ে তুলতে ব্যবসায়ীদের দায়িত্বশীল ভূমিকা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন।