চ্যালেঞ্জের মুখেও এমিরেটস গ্রুপের ১.১ বিলিয়ন ডলার মুনাফা
- আপডেট সময় : ১০:৫০:৪৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬
- / 0
আঞ্চলিক সংঘাত, বিভিন্ন পরিচালনাগত প্রতিবন্ধকতা এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানির উচ্চমূল্য—সব প্রতিকূলতা মোকাবিলা করেও ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে দারুণ ব্যবসায়িক সাফল্য দেখিয়েছে এমিরেটস গ্রুপ। চলতি বছরের ১ এপ্রিল থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ছয় মাসের আর্থিক ফলাফলে দেখা গেছে, এই কঠিন সময়েও গ্রুপটি কর-পূর্ব মুনাফা হিসেবে ১ দশমিক ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।
এমিরেটস এয়ারলাইন ও ডানাটাসহ বিভিন্ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে গঠিত এই গ্রুপটি জানিয়েছে, চলমান আঞ্চলিক অস্থিরতার মধ্যেও তাদের শক্তিশালী ব্যবসায়িক মডেল এবং প্রতিকূলতা মোকাবিলার সুচিন্তিত কৌশল এই সাফল্য অর্জনে বড় ভূমিকা রেখেছে। তবে আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় সামগ্রিক চিত্রে কিছুটা ভাটা পড়েছে। গ্রুপটির কর-পরবর্তী নিট মুনাফা ৬৬ শতাংশ কমে ১ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে এবং মোট রাজস্ব ১২ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ১৮ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে, যা আগের অর্থবছরে ছিল ২০ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার।
এয়ারলাইন খাতের একক পারফরম্যান্সের দিকে তাকালে দেখা যায়, এমিরেটস এয়ারলাইন এই ছয় মাসে ১ বিলিয়ন ডলার কর-পূর্ব মুনাফা করেছে, যেখানে গত অর্থবছরের একই সময়ে এই অংক ছিল ৩ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার। অন্যান্য পরিচালনাগত আয়সহ এয়ারলাইনটির রাজস্ব ১৩ শতাংশ কমে ১৫ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া, কর-পরবর্তী মুনাফা ৬৬ শতাংশ কমে ৯০৩ মিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে।
গ্রুপটির চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী শেখ আহমেদ বিন সাঈদ আল মাকতুম এই ছয় মাসকে অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি জানান, নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও গ্রাহকদের চাহিদা ছিল স্থিতিশীল। বিশেষ করে কার্গো পরিবহন কার্যক্রম রাজস্ব ও নগদ প্রবাহ বজায় রাখতে বড় ভূমিকা রেখেছে। জ্বালানির দাম দ্বিগুণ হওয়া সত্ত্বেও বহর সম্প্রসারণ এবং সেবার মানোন্নয়নে বিনিয়োগ অব্যাহত রেখেছে গ্রুপটি। বর্তমানে দুবাইকে কেন্দ্র করে ১৫০টি বিমানবন্দরে ফ্লাইট পরিচালনা করছে এমিরেটস, যা তাদের নেটওয়ার্কের ৯১ শতাংশ পুনরুদ্ধার নির্দেশ করে।
তবে যাত্রী পরিবহনের ক্ষেত্রে কিছুটা বড় ধাক্কা লেগেছে। আগের অর্থবছরের তুলনায় ২২ শতাংশ যাত্রী কমেছে, যার সংখ্যা ২ কোটি ১৮ লাখ। সামগ্রিক পরিবহন সক্ষমতাও ১০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। অন্যদিকে, এমিরেটস স্কাইকার্গো বিভাগ ১২ লাখ টন পণ্য পরিবহন করেছে, যা আগের বছরের চেয়ে ১ শতাংশ কম হলেও এই খাত থেকে আয় বেড়েছে ৫২ শতাংশ। আকাশপথে সক্ষমতা হ্রাস এবং সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহনে বিঘ্ন ঘটায় কার্গো আয়ের এই উল্লম্ফন ঘটেছে।
সহযোগী প্রতিষ্ঠান ডানাটার রাজস্বও ৭ শতাংশ কমে ৩ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা আগের বছর ছিল ৩ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার। কোম্পানিটির কর-পূর্ব মুনাফা ৫১ শতাংশ কমে ১১২ মিলিয়ন ডলার এবং কর-পরবর্তী মুনাফা ৫৬ শতাংশ কমে ৮৪ মিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে।
গত ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এমিরেটস গ্রুপে ১ লাখ ২৮ হাজার ২৩৭ জন কর্মী কর্মরত ছিলেন, যা ৩১ মার্চের তুলনায় ২ শতাংশ কম। তবে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, ব্যবসায়িক ও পরিচালনাগত চাহিদা মেটাতে কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। সামগ্রিকভাবে, প্রতিকূল বৈশ্বিক পরিস্থিতির মধ্যেও কার্গো পরিবহন ও দক্ষ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে টিকে থাকার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে এমিরেটস।























