ঢাকা ০১:২৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
দলের পারফরম্যান্সে খুশি কোচ থমাস ডুলি ভূমিধস জয়ের পর ডেমোক্রেটদের সামনে জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর বড় চ্যালেঞ্জ ভার্জিনিয়ায় স্ত্রী নিখোঁজের ঘটনায় আদালতে মুখ খুললেন অভিযোগে জড়িত ব্যক্তি নরেশ স্বাস্থ্য ব্যবস্থা পুনর্গঠনে সরকারের বিশাল কর্মপরিকল্পনা ও বাজেট বরাদ্দ দেশে সার উৎপাদন বাড়াতে তিনটি নতুন কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা চ্যালেঞ্জের মুখেও এমিরেটস গ্রুপের ১.১ বিলিয়ন ডলার মুনাফা নেতানিয়াহুর চেয়ে জনপ্রিয় জোহরান মামদানি, বলছে জিবিএওর জরিপ ইরানের ওপর নতুন সামরিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ভুটানকে হারিয়ে জয় দিয়ে সাফ মিশন শুরু বাংলাদেশের সাঁথিয়ায় ভাগ্নিকে নিরাপত্তা ঘটনায়: মামা আটক

ভার্জিনিয়ায় স্ত্রী নিখোঁজের ঘটনায় আদালতে মুখ খুললেন অভিযোগে জড়িত ব্যক্তি নরেশ

  • আপডেট সময় : ১২:০৬:১১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬
  • / 5
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আমেরিকার ভার্জিনিয়ায় স্ত্রী হত্যার দায়ে অভিযুক্ত ভারতীয় বংশোদ্ভূত নরেশ ভাট আদালতে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে চাঞ্চল্যকর জবানবন্দি দিয়েছেন।

তিনি আদালতকে জানান, তার ২৮ বছর বয়সী স্ত্রী মমতা কাফলে ভাট আত্মহত্যা করেছিলেন। নরেশের দাবি, ঘটনার দিন তিনি বিছানার পাশে বমি ও ওষুধের বোতল পড়ে থাকতে দেখেন। তার ভাষ্যমতে, মমতা প্রচুর পরিমাণে ট্যাবলেট ও বিষাক্ত কীটনাশক সেবন করেছিলেন। যদিও মামলার শুরু থেকেই নরেশ দাবি করে আসছেন যে মমতা আত্মহত্যা করেছেন, কিন্তু আদালতের সামনে তার এই স্বীকারোক্তি এখন নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। চেষ্টা করেছিলাম, কিন্তু ভীষণ ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। আমি পুরোপুরি আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েছিলাম।’।

তদন্তকারী কর্মকর্তাদের মতে, ২০২৪ সালের ২৯ জুলাই মমতা কাফলে ভাটকে শেষবারের মতো একটি ভিডিও কলে দেখা গিয়েছিল। এরপর থেকেই তিনি নিখোঁজ ছিলেন। নিখোঁজের বিষয়টি প্রথম নজরে আসে ৫ আগস্ট, যখন মমতা তার কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। পুলিশি অনুসন্ধানে নরেশকে বেশ কয়েকবার জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এক পর্যায়ে দম্পতির শোবার ঘর ও বাথরুমে রক্তের দাগ পাওয়া গেলে ২২ আগস্ট পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। এছাড়া তল্লাশি চালিয়ে চুল লেগে থাকা একটি ইলেকট্রিক করাত উদ্ধার করা হয়, যা এই হত্যাকাণ্ডের তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ আলামত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

আদালতের শুনানিতে নরেশ ভাট স্বীকার করেন যে, মমতা মারা গেছেন নিশ্চিত হওয়ার পর তিনি প্রায় এক ঘণ্টা ধরে তাকে কৃত্রিম শ্বাসপ্রশ্বাস বা সিপিআর দিয়ে বাঁচানোর চেষ্টা করেছিলেন। শেষ রক্ষা না হওয়ায় তিনি লাশ টুকরো টুকরো করার কঠিন সিদ্ধান্ত নেন। কেন তিনি জরুরি সেবা ৯১১-এ কল করেননি—বিচারকের এমন প্রশ্নের জবাবে নরেশ বলেন, প্রচণ্ড ভয় ও আতঙ্ক থেকে তিনি ঠিকমতো সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি। তবে আইনজীবীদের ধারণা, এই চাঞ্চল্যকর স্বীকারোক্তির মাধ্যমে তিনি মূলত মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এড়ানোর কৌশল অবলম্বন করছেন। কেন থামলেন—এমন প্রশ্নের উত্তরে নরেশ বলেন, ‘মানসিক ও শারীরিকভাবে আমি একদম শক্তি হারিয়ে ফেলেছিলাম।

ঘটনার বিভীষিকাময় বর্ণনা দিতে গিয়ে নরেশ বলেন, ২৯ জুলাই রাত আটটার দিকে তিনি তাদের ছোট মেয়েকে নিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। স্ত্রী কখন ওপরে এসেছিলেন তা তিনি জানতেন না। মমতা মারা গেছেন বুঝতে পেরে তিনি লাশ গুমের পরিকল্পনা করেন। নরেশ আরও জানান, প্রথমে তিনি পটোকম নদীতে লাশ ভাসিয়ে দেওয়ার কথা ভেবেছিলেন। পরে স্থানীয় ‘হোম ডিপো’ দোকান থেকে সরঞ্জাম কেনেন। এমনকি তিনি নিজেও আত্মহত্যা করার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন এবং গলায় তার পেঁচিয়ে রেখেছিলেন, কিন্তু মানসিক ও শারীরিক শক্তির অভাবে শেষ পর্যন্ত আর তা করা সম্ভব হয়নি। নিজে গলায় তার পেঁচিয়ে আত্মহত্যার প্রস্তুতি নিলেও শেষ পর্যন্ত তা করেননি জানিয়ে নরেশ বলেন, ‘আমি ক্যাবল তারসহ সব গুছিয়ে এনেছিলাম, কিন্তু শেষ পর্যন্ত আর নিজের প্রাণ নিইনি।’।

নরেশের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, বাথরুমেই করাত দিয়ে লাশের অংশগুলো আলাদা করা হয়। পরবর্তীতে সেগুলো বিভিন্ন প্লাস্টিকের ব্যাগে ভরে ডাস্টবিনে ফেলে দেওয়া হয় যাতে কেউ তার সন্ধান না পায়। প্রায় দুই বছরেরও বেশি সময় পার হলেও এখনো মমতা কাফলে ভাটের লাশের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। বর্তমানে নরেশ ভাটের বিরুদ্ধে স্ত্রীকে হত্যা, লাশ বিকৃত করা ও গুম করার অভিযোগ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। এই মামলার পরবর্তী ধাপগুলোতে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উঠে আসবে বলে আশা করছেন স্থানীয় সংশ্লিষ্টরা।

নিউজটি শেয়ার করুন

ভার্জিনিয়ায় স্ত্রী নিখোঁজের ঘটনায় আদালতে মুখ খুললেন অভিযোগে জড়িত ব্যক্তি নরেশ

আপডেট সময় : ১২:০৬:১১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬

আমেরিকার ভার্জিনিয়ায় স্ত্রী হত্যার দায়ে অভিযুক্ত ভারতীয় বংশোদ্ভূত নরেশ ভাট আদালতে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে চাঞ্চল্যকর জবানবন্দি দিয়েছেন।

তিনি আদালতকে জানান, তার ২৮ বছর বয়সী স্ত্রী মমতা কাফলে ভাট আত্মহত্যা করেছিলেন। নরেশের দাবি, ঘটনার দিন তিনি বিছানার পাশে বমি ও ওষুধের বোতল পড়ে থাকতে দেখেন। তার ভাষ্যমতে, মমতা প্রচুর পরিমাণে ট্যাবলেট ও বিষাক্ত কীটনাশক সেবন করেছিলেন। যদিও মামলার শুরু থেকেই নরেশ দাবি করে আসছেন যে মমতা আত্মহত্যা করেছেন, কিন্তু আদালতের সামনে তার এই স্বীকারোক্তি এখন নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। চেষ্টা করেছিলাম, কিন্তু ভীষণ ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। আমি পুরোপুরি আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েছিলাম।’।

তদন্তকারী কর্মকর্তাদের মতে, ২০২৪ সালের ২৯ জুলাই মমতা কাফলে ভাটকে শেষবারের মতো একটি ভিডিও কলে দেখা গিয়েছিল। এরপর থেকেই তিনি নিখোঁজ ছিলেন। নিখোঁজের বিষয়টি প্রথম নজরে আসে ৫ আগস্ট, যখন মমতা তার কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। পুলিশি অনুসন্ধানে নরেশকে বেশ কয়েকবার জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এক পর্যায়ে দম্পতির শোবার ঘর ও বাথরুমে রক্তের দাগ পাওয়া গেলে ২২ আগস্ট পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। এছাড়া তল্লাশি চালিয়ে চুল লেগে থাকা একটি ইলেকট্রিক করাত উদ্ধার করা হয়, যা এই হত্যাকাণ্ডের তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ আলামত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

আদালতের শুনানিতে নরেশ ভাট স্বীকার করেন যে, মমতা মারা গেছেন নিশ্চিত হওয়ার পর তিনি প্রায় এক ঘণ্টা ধরে তাকে কৃত্রিম শ্বাসপ্রশ্বাস বা সিপিআর দিয়ে বাঁচানোর চেষ্টা করেছিলেন। শেষ রক্ষা না হওয়ায় তিনি লাশ টুকরো টুকরো করার কঠিন সিদ্ধান্ত নেন। কেন তিনি জরুরি সেবা ৯১১-এ কল করেননি—বিচারকের এমন প্রশ্নের জবাবে নরেশ বলেন, প্রচণ্ড ভয় ও আতঙ্ক থেকে তিনি ঠিকমতো সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি। তবে আইনজীবীদের ধারণা, এই চাঞ্চল্যকর স্বীকারোক্তির মাধ্যমে তিনি মূলত মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এড়ানোর কৌশল অবলম্বন করছেন। কেন থামলেন—এমন প্রশ্নের উত্তরে নরেশ বলেন, ‘মানসিক ও শারীরিকভাবে আমি একদম শক্তি হারিয়ে ফেলেছিলাম।

ঘটনার বিভীষিকাময় বর্ণনা দিতে গিয়ে নরেশ বলেন, ২৯ জুলাই রাত আটটার দিকে তিনি তাদের ছোট মেয়েকে নিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। স্ত্রী কখন ওপরে এসেছিলেন তা তিনি জানতেন না। মমতা মারা গেছেন বুঝতে পেরে তিনি লাশ গুমের পরিকল্পনা করেন। নরেশ আরও জানান, প্রথমে তিনি পটোকম নদীতে লাশ ভাসিয়ে দেওয়ার কথা ভেবেছিলেন। পরে স্থানীয় ‘হোম ডিপো’ দোকান থেকে সরঞ্জাম কেনেন। এমনকি তিনি নিজেও আত্মহত্যা করার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন এবং গলায় তার পেঁচিয়ে রেখেছিলেন, কিন্তু মানসিক ও শারীরিক শক্তির অভাবে শেষ পর্যন্ত আর তা করা সম্ভব হয়নি। নিজে গলায় তার পেঁচিয়ে আত্মহত্যার প্রস্তুতি নিলেও শেষ পর্যন্ত তা করেননি জানিয়ে নরেশ বলেন, ‘আমি ক্যাবল তারসহ সব গুছিয়ে এনেছিলাম, কিন্তু শেষ পর্যন্ত আর নিজের প্রাণ নিইনি।’।

নরেশের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, বাথরুমেই করাত দিয়ে লাশের অংশগুলো আলাদা করা হয়। পরবর্তীতে সেগুলো বিভিন্ন প্লাস্টিকের ব্যাগে ভরে ডাস্টবিনে ফেলে দেওয়া হয় যাতে কেউ তার সন্ধান না পায়। প্রায় দুই বছরেরও বেশি সময় পার হলেও এখনো মমতা কাফলে ভাটের লাশের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। বর্তমানে নরেশ ভাটের বিরুদ্ধে স্ত্রীকে হত্যা, লাশ বিকৃত করা ও গুম করার অভিযোগ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। এই মামলার পরবর্তী ধাপগুলোতে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উঠে আসবে বলে আশা করছেন স্থানীয় সংশ্লিষ্টরা।