আলীরাজের বাসায় মিশা-জায়েদ

আজ ১৫ মার্চ। বর্ষপঞ্জি হিসেবে বুধবার। বাংলা চলচ্চিত্রের অন্যতম শক্তিমান অভিনেতা চিত্রনায়ক আলীরাজের ৬০তম জন্মদিন। এদিন জন্মদিনে শুভেচ্ছা জানাতে আলীরাজকে চমকে দেন চলচ্চিত্র শিল্পী পরিবার। এতে মিশা সওদাগর, নৃত্যপরিচালক মাসুম আজিজ এবং চিত্রনায়ক জায়েদ খান তাকে ফুলের তোড়া দিয়ে শুভকামনা জানান।

সিরাজগঞ্জের ধানবান্দির ছেলে ডাব্লু আনোয়ার ১৯৮৫ সালে চলচ্চিত্রে এসে হয়ে যান আলীরাজ। তার প্রথম চলচ্চিত্র ‘সৎ ভাই’ (১৯৮৫)। এটি পরিচালনা করেন নায়ক রাজ রাজ্জাক। নায়ক হিসেবে আলীরাজ অভিনয় করেছেন একশো’রও বেশি চলচ্চিত্রে। আর চরিত্রাভিনেতা হিসেবে অভিনয় করেছেন আরো সাড়ে তিনশো চলচ্চিত্রে। বিষয়টিকে অভিনয় জীবনের অনেক বড় অর্জন হিসেবেই মনে করেন আলীরাজ।

নিজের অভিনয় জীবন এবং জন্মদিন প্রসঙ্গে আলীরাজ বলেন, ‘আজ একটি কথা বিশেষভাবে বলতে চাই, এদেশের প্রখ্যাত সিনেমাটোগ্রাফার আনোয়ার হোসেন বুলু আমার বন্ধু। সে যদি আমাকে সিরাজগঞ্জ থেকে ঢাকায় না নিয়ে আসতো তাহলে আমি সেই গ্রামেই পড়ে থাকতাম। কোনদিনই আলীরাজ পারতাম না। আবার আমার গুরু নায়ক রাজ রাজ্জাকও আজকের আলীরাজ হওয়ার কারিগর। আল্লাহর অসীম রহমতে এবং এই দু’জন মানুষের সহযোগিতায় আমি আজকের অবস্থানে আসতে পেরেছি। আর আজ ষাট বছরে পা দিচ্ছি। পিছনে ফিরে তাকাল দেখি আমার ভাগ্যে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার নেই। কিন্তু কোন দুঃখ নেই। মানুষের যে ভালোবাসা পেয়েছি তাই নিয়ে আমি অনেক সন্তুষ্ট।’

আলীরাজের মূল নাম আনোয়ার হোসেন। বিটিভিতে অভিনয়ের জন্য আবেদন করার সময় আনোয়ার হোসেন বুলু তার নাম লিখে দেন ডাব্লু আনোয়ার। আলীরাজের স্ত্রী ঝিনুক একজন নৃত্যশিল্পী এবং এক ছেলে স্মরণ, এক মেয়ে স্বর্ণী। বিটিভিতে ‘আয়না’ ধারাবাহিকে ‘ভাঙ্গনের শব্দশুনি’ নাটকে প্রথম অভিনয় করেন তিনি। নাটকটির রচয়িতা ছিলেন সেলিম আল দীন এবং প্রযোজক ছিলেন নাসির উদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু। তবে বিটিভির ধারাবাহিক ‘ঢাকায় থাকি’ ছিলো টিভি নাটকে তার অভিনয় জীবনের সেরা কাজ। এতে তিনি মাহমুদ চরিত্রে অভিনয় করে বেশ আলোচিত হয়েছিলেন।