ঢাকা ১১:৩৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
দেশের দুই জেলায় বজ্রবৃষ্টিসহ ঝোড়ো হাওয়ার সতর্কবার্তা রাজধানীর বাজারে সবজির চড়া দাম, শিমের কেজি ২০০ টাকা তিন মাসে দ্বিগুণ হলো এয়ার অ্যাস্ট্রার উড়োজাহাজ বহর নেতানিয়াহুকে সমর্থন নেই ট্রাম্পের, ইরান ইস্যুতে দিলেন কড়া বার্তা মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচন: আগাম ভোটে ডেমোক্র্যাটদের ভালো সাড়া মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচন: আগাম ভোটে ডেমোক্র্যাটদের ভালো সাড়া মিষ্টির শূন্য আসনে ৯০ দিনের মধ্যে উপনির্বাচন: ইসি বিএনপি জোটেরই থাকবে শূন্য হওয়া সংরক্ষিত নারী আসন: ইসি ক্যাশলেস লেনদেনে বাংলা কিউআর ব্যবহার হবে সম্পূর্ণ ফ্রি শুক্রবার ঢাকায় পৌঁছাচ্ছে রূপপুর প্রকল্পের বাড়তি ইউরেনিয়াম জ্বালানি

জসিমুন্নেছা খাতুনই দাবার মুকুটহীন সম্রাজ্ঞী রানী হামিদ

  • আপডেট সময় : ১২:৪১:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০১৭
  • / 293
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

৭৩তম জন্মদিন নীরবেই পালিত হল রানী হামিদের। পরিবার-পরিজনের সঙ্গে দিনটি একান্তেই কাটালেন বাংলাদেশের দাবার মুকুটহীন সম্রাজ্ঞী রানী হামিদ। নাম ছিল জসিমুন্নেছা খাতুন। দাদি আদর করে নাতনির নাম রেখেছিলেন। ব্রিটিশ মহারানী ভিক্টোরিয়ার ভক্ত ছিলেন বাবা মমতাজ আলী। মেয়েকে ডাকতেন ‘রানী’ বলে। স্বামী লে. কর্নেল (অব.) হামিদের সংসারে এসে নামের সঙ্গে জুড়ে গেল ‘হামিদ’ নামটি। বাবার ডাকা ‘রানী’র সঙ্গে ‘হামিদ’ যোগ হওয়ায় হয়ে গেলেন ‘রানী হামিদ’। পরীক্ষার সনদপত্রেই টিকে থাকল আসল নামটি, জসিমুন্নেছা খাতুন।

তবে রানী হামিদের জন্মদিন নিয়ে বেশ মজার ঘটনা রয়েছে। সনদপত্রে তার জন্মদিন ২৩ ফেব্রুয়ারি ১৯৪৪ সাল। সেই অনুযায়ী জন্মদিনটি পালন করে আসছেন। তবে তার বাবা সৈয়দ মমতাজ আলীর ’৫২ সালের ডায়েরিটি নতুন করে জন্মদিনটি সামনে নিয়ে এসেছে। ডায়েরিতে লেখা আছে, ‘রানী ওয়াজ বর্ন ১৪ জুলাই ১৯৪৪।’ বাবার মৃত্যুর পর ডায়েরিটি পান রানী হামিদ। কী আর করা। ১৪ জুলাই আর জন্মদিন পালন করা হয় না। বৃহস্পতিবার ছেলেমেয়ে ও নাতি-নাতনিরা মিলে তাদের প্রিয় মানুষের জন্মদিন পালন করে।

সিলেটের রাখাইলের সবুজে ঘেরা প্রকৃতির মধ্যে কেটেছে তার শৈশব। চল্লিশের দশকের বাংলার আর দশটা মফস্বল শহরের মতো রাখাইলের সমাজ ব্যবস্থাও ছিল রক্ষণশীল। কিন্তু সেই রক্ষণশীল সমাজের মধ্যেও দস্যি উপাধি পেয়েছিলেন রানী হামিদ। ছোটাছুটি আর দৌড়াদৌড়ি করেই কাটত তার ছেলেবেলা। হতে পারতেন অ্যাথলেট। কিন্তু বাবা মমতাজ আলীর জন্য জীবনের মোড় ঘুরে যায় এই সম্রাজ্ঞীর। বাবা সৈয়দ মমতাজ আলী বন্ধুদের নিয়ে যখন দাবায় মগ্ন থাকতেন, তখন ছোট্ট রানী অবাক বিস্ময়ে তাকিয়ে থাকতেন মন্ত্রী-ঘোড়ার দিকে। বাবার কাছেই শিখেছেন রাজা-মন্ত্রী-কিস্তি আর পনেরো চাল। সেই থেকেই আপন করে নিয়েছেন সাদা-কালোর ৬৪ ঘর। ‘অ্যাথলেটিক্সে আমি অন্যসব মেয়ের চেয়ে একটু দ্রুতই দৌড়াতে পারতাম। কিন্তু দাবার বোর্ড আমাকে আকৃষ্ট করেছিল। বাবাই শিখিয়েছিলেন সব কিছু’, বলছিলেন দাবার এই রানী। তার কথা, ‘আমার ‘রানী হামিদ’ হয়ে ওঠার জন্য দু’জনের কাছে ঋণী। প্রথমজন বাবা মমতাজ আলী আর দ্বিতীয়জন স্বামী লে. কর্নেল (অব.) এমএ হামিদ। বাবার উৎসাহ-অনুপ্রেরণা আর সঙ্গ না পেলে আমার পক্ষে কোনো অর্জনই সম্ভব ছিল না। স্বামীর উদার সমর্থন ছাড়া একজন গৃহবধূ কীভাবে দেশ-বিদেশে দাবা খেলতে পারে? তিনিই আমাকে জোর করে, তাড়া দিয়ে দাবার বই লিখতে বাধ্য করেছেন। যেটি বাংলাদেশে দাবা শিক্ষার প্রথম বই।’

ছোটবেলায় দাবায় হাতেখড়ি হলেও প্রতিযোগিতামূলক আসরে নাম লেখাতে লেগেছে ৩৩ বছর। ১৯৭৭ সালে এসএ মহসিন স্মৃতি টুর্নামেন্ট দিয়ে দাবায় আত্মপ্রকাশ হয় রানী হামিদের। এর দু’বছর পর ৩৫ বছর বয়সে প্রথমবারের মতো জাতীয় মহিলা চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জেতেন তিনি। তারপর আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। ১৯৮৪ সাল পর্যন্ত টানা ছ’বার এই পুরস্কার জেতেন। তারপর থেকে দু-এক বছর পরপরই আলোচনায় নিজেকে তুলে এনেছিলেন জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জিতে। তবে ১৯৯৩ সালে সড়ক দুর্ঘটনা রানী হামিদের খেলার ওপর প্রভাব ফেলেছিল। জাতীয় দাবায় ১৮ বার চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন। তবে ১৯৭৭, ৭৮ ও ৭৯ সালে জাতীয় মহিলা দাবায় চ্যাম্পিয়ন হলেও তা রেকর্ডভুক্ত হয়নি।

রানী হামিদের কথা, ‘১৯৮৩ সালে ব্রিটিশ মহিলা ওপেনে প্রথম শিরোপা জিতে সবচেয়ে বেশি খুশি হয়েছিলাম। কারণ ব্রিটিশরা এক সময় আমাদের শোষণ করেছে। সেই ব্রিটিশদের হারিয়েই আমি চ্যাম্পিয়ন হয়েছি। তারপর আরও দু’বার ব্রিটিশ মহিলা ওপেনে চ্যাম্পিয়ন হয়েছি। আর আন্তর্জাতিক মাস্টারের প্রথম নর্ম পাওয়ার মুহূর্তটি আমার কাছে ছিল বিশেষ আনন্দের। আমার জানাই ছিল না যে, আমি নর্ম পেয়েছি।’ তিনি বলেন, ‘বাবা ও স্বামী- উভয়ের সংসারই ছিল ক্রীড়াবান্ধব। স্বামী লে. কর্নেল (অব.) আবদুল হামিদ ছিলেন এ দেশের হ্যান্ডবলের পথিকৃৎ। বড় ছেলে কায়সার হামিদ জাতীয় ফুটবল দলে খেলেছে। মেজ ছেলে সোহেল হামিদ স্কোয়াশ, হ্যান্ডবল, ক্রিকেট ও ফুটবল খেলেছে। এখন সে স্কোয়াশ অ্যান্ড র‌্যাকেটস ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক। ছোট ছেলে শাহজাহান হামিদ ববি জাতীয় হ্যান্ডবল দলের সাবেক খেলোয়াড়। মেয়ে জেবিন হামিদ টুকটাক দাবা খেলেছে। ববি হামিদের মেয়ে সামাহা হামিদ স্কলাস্টিকার হয়ে হ্যান্ডবল খেলে। কায়সার হামিদের ছোট ছেলে সাদাত হামিদ জুনিয়র পর্যায়ে ফুটবল খেলছে।’

একনজরে রানী হামিদ

জন্ম : ১৯৪৪ (সিলেট, রাখাইলে)

প্রথম টুর্নামেন্ট : এসএ মহসিন স্মৃতি টুর্নামেন্ট, ১৯৭৭

জাতীয় মহিলা চ্যাম্পিয়ন : ১৯৭৯, ১৯৮০, ১৯৮১, ১৯৮২, ১৯৮৩, ১৯৮৪, ১৯৮৮, ১৯৯০, ১৯৯২, ১৯৯৬, ১৯৯৮, ২০০১, ২০০৪, ২০০৬, ২০০৭, ২০০৮ ও ২০১১

আইএম খেতাব অর্জন : ১৯৮৫

ব্রিটিশ মহিলা চ্যাম্পিয়নশিপ : ১৯৮৩, ১৯৮৫ ও ১৯৮৯।

সূত্র: যুগান্তর।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

জসিমুন্নেছা খাতুনই দাবার মুকুটহীন সম্রাজ্ঞী রানী হামিদ

আপডেট সময় : ১২:৪১:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০১৭

৭৩তম জন্মদিন নীরবেই পালিত হল রানী হামিদের। পরিবার-পরিজনের সঙ্গে দিনটি একান্তেই কাটালেন বাংলাদেশের দাবার মুকুটহীন সম্রাজ্ঞী রানী হামিদ। নাম ছিল জসিমুন্নেছা খাতুন। দাদি আদর করে নাতনির নাম রেখেছিলেন। ব্রিটিশ মহারানী ভিক্টোরিয়ার ভক্ত ছিলেন বাবা মমতাজ আলী। মেয়েকে ডাকতেন ‘রানী’ বলে। স্বামী লে. কর্নেল (অব.) হামিদের সংসারে এসে নামের সঙ্গে জুড়ে গেল ‘হামিদ’ নামটি। বাবার ডাকা ‘রানী’র সঙ্গে ‘হামিদ’ যোগ হওয়ায় হয়ে গেলেন ‘রানী হামিদ’। পরীক্ষার সনদপত্রেই টিকে থাকল আসল নামটি, জসিমুন্নেছা খাতুন।

তবে রানী হামিদের জন্মদিন নিয়ে বেশ মজার ঘটনা রয়েছে। সনদপত্রে তার জন্মদিন ২৩ ফেব্রুয়ারি ১৯৪৪ সাল। সেই অনুযায়ী জন্মদিনটি পালন করে আসছেন। তবে তার বাবা সৈয়দ মমতাজ আলীর ’৫২ সালের ডায়েরিটি নতুন করে জন্মদিনটি সামনে নিয়ে এসেছে। ডায়েরিতে লেখা আছে, ‘রানী ওয়াজ বর্ন ১৪ জুলাই ১৯৪৪।’ বাবার মৃত্যুর পর ডায়েরিটি পান রানী হামিদ। কী আর করা। ১৪ জুলাই আর জন্মদিন পালন করা হয় না। বৃহস্পতিবার ছেলেমেয়ে ও নাতি-নাতনিরা মিলে তাদের প্রিয় মানুষের জন্মদিন পালন করে।

সিলেটের রাখাইলের সবুজে ঘেরা প্রকৃতির মধ্যে কেটেছে তার শৈশব। চল্লিশের দশকের বাংলার আর দশটা মফস্বল শহরের মতো রাখাইলের সমাজ ব্যবস্থাও ছিল রক্ষণশীল। কিন্তু সেই রক্ষণশীল সমাজের মধ্যেও দস্যি উপাধি পেয়েছিলেন রানী হামিদ। ছোটাছুটি আর দৌড়াদৌড়ি করেই কাটত তার ছেলেবেলা। হতে পারতেন অ্যাথলেট। কিন্তু বাবা মমতাজ আলীর জন্য জীবনের মোড় ঘুরে যায় এই সম্রাজ্ঞীর। বাবা সৈয়দ মমতাজ আলী বন্ধুদের নিয়ে যখন দাবায় মগ্ন থাকতেন, তখন ছোট্ট রানী অবাক বিস্ময়ে তাকিয়ে থাকতেন মন্ত্রী-ঘোড়ার দিকে। বাবার কাছেই শিখেছেন রাজা-মন্ত্রী-কিস্তি আর পনেরো চাল। সেই থেকেই আপন করে নিয়েছেন সাদা-কালোর ৬৪ ঘর। ‘অ্যাথলেটিক্সে আমি অন্যসব মেয়ের চেয়ে একটু দ্রুতই দৌড়াতে পারতাম। কিন্তু দাবার বোর্ড আমাকে আকৃষ্ট করেছিল। বাবাই শিখিয়েছিলেন সব কিছু’, বলছিলেন দাবার এই রানী। তার কথা, ‘আমার ‘রানী হামিদ’ হয়ে ওঠার জন্য দু’জনের কাছে ঋণী। প্রথমজন বাবা মমতাজ আলী আর দ্বিতীয়জন স্বামী লে. কর্নেল (অব.) এমএ হামিদ। বাবার উৎসাহ-অনুপ্রেরণা আর সঙ্গ না পেলে আমার পক্ষে কোনো অর্জনই সম্ভব ছিল না। স্বামীর উদার সমর্থন ছাড়া একজন গৃহবধূ কীভাবে দেশ-বিদেশে দাবা খেলতে পারে? তিনিই আমাকে জোর করে, তাড়া দিয়ে দাবার বই লিখতে বাধ্য করেছেন। যেটি বাংলাদেশে দাবা শিক্ষার প্রথম বই।’

ছোটবেলায় দাবায় হাতেখড়ি হলেও প্রতিযোগিতামূলক আসরে নাম লেখাতে লেগেছে ৩৩ বছর। ১৯৭৭ সালে এসএ মহসিন স্মৃতি টুর্নামেন্ট দিয়ে দাবায় আত্মপ্রকাশ হয় রানী হামিদের। এর দু’বছর পর ৩৫ বছর বয়সে প্রথমবারের মতো জাতীয় মহিলা চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জেতেন তিনি। তারপর আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। ১৯৮৪ সাল পর্যন্ত টানা ছ’বার এই পুরস্কার জেতেন। তারপর থেকে দু-এক বছর পরপরই আলোচনায় নিজেকে তুলে এনেছিলেন জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জিতে। তবে ১৯৯৩ সালে সড়ক দুর্ঘটনা রানী হামিদের খেলার ওপর প্রভাব ফেলেছিল। জাতীয় দাবায় ১৮ বার চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন। তবে ১৯৭৭, ৭৮ ও ৭৯ সালে জাতীয় মহিলা দাবায় চ্যাম্পিয়ন হলেও তা রেকর্ডভুক্ত হয়নি।

রানী হামিদের কথা, ‘১৯৮৩ সালে ব্রিটিশ মহিলা ওপেনে প্রথম শিরোপা জিতে সবচেয়ে বেশি খুশি হয়েছিলাম। কারণ ব্রিটিশরা এক সময় আমাদের শোষণ করেছে। সেই ব্রিটিশদের হারিয়েই আমি চ্যাম্পিয়ন হয়েছি। তারপর আরও দু’বার ব্রিটিশ মহিলা ওপেনে চ্যাম্পিয়ন হয়েছি। আর আন্তর্জাতিক মাস্টারের প্রথম নর্ম পাওয়ার মুহূর্তটি আমার কাছে ছিল বিশেষ আনন্দের। আমার জানাই ছিল না যে, আমি নর্ম পেয়েছি।’ তিনি বলেন, ‘বাবা ও স্বামী- উভয়ের সংসারই ছিল ক্রীড়াবান্ধব। স্বামী লে. কর্নেল (অব.) আবদুল হামিদ ছিলেন এ দেশের হ্যান্ডবলের পথিকৃৎ। বড় ছেলে কায়সার হামিদ জাতীয় ফুটবল দলে খেলেছে। মেজ ছেলে সোহেল হামিদ স্কোয়াশ, হ্যান্ডবল, ক্রিকেট ও ফুটবল খেলেছে। এখন সে স্কোয়াশ অ্যান্ড র‌্যাকেটস ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক। ছোট ছেলে শাহজাহান হামিদ ববি জাতীয় হ্যান্ডবল দলের সাবেক খেলোয়াড়। মেয়ে জেবিন হামিদ টুকটাক দাবা খেলেছে। ববি হামিদের মেয়ে সামাহা হামিদ স্কলাস্টিকার হয়ে হ্যান্ডবল খেলে। কায়সার হামিদের ছোট ছেলে সাদাত হামিদ জুনিয়র পর্যায়ে ফুটবল খেলছে।’

একনজরে রানী হামিদ

জন্ম : ১৯৪৪ (সিলেট, রাখাইলে)

প্রথম টুর্নামেন্ট : এসএ মহসিন স্মৃতি টুর্নামেন্ট, ১৯৭৭

জাতীয় মহিলা চ্যাম্পিয়ন : ১৯৭৯, ১৯৮০, ১৯৮১, ১৯৮২, ১৯৮৩, ১৯৮৪, ১৯৮৮, ১৯৯০, ১৯৯২, ১৯৯৬, ১৯৯৮, ২০০১, ২০০৪, ২০০৬, ২০০৭, ২০০৮ ও ২০১১

আইএম খেতাব অর্জন : ১৯৮৫

ব্রিটিশ মহিলা চ্যাম্পিয়নশিপ : ১৯৮৩, ১৯৮৫ ও ১৯৮৯।

সূত্র: যুগান্তর।