ঢাকা ১১:০০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ভুটানকে হারিয়ে জয় দিয়ে সাফ মিশন শুরু বাংলাদেশের সাঁথিয়ায় ভাগ্নিকে নিরাপত্তা ঘটনায়: মামা আটক ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’-এর দ্বিতীয় আসর উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী রিয়াদ বিমানবন্দরে হুতি হামলায় আহত আরও এক ভারতীয়র প্রয়াণ ষড়যন্ত্রের ফণা তুলেছে স্বৈরাচারী শক্তি: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান খুলনায় ২৫ মাসে ২২৫ মৃত্যুর ঘটনা: অপরাধের স্বর্গরাজ্যে আতঙ্কিত জনজীবন শাহজালাল তৃতীয় টার্মিনাল পরিচালনায় জাপানি কনসোর্টিয়ামের বড় অংশীদারত্ব খুলনায় প্রধানমন্ত্রীর সফরের মধ্যে বিএনপি নেতার ছেলেকে মৃত্যুর ঘটনায় বিনা জামানতে ঋণ দেওয়ার নামে প্রতারণা, সতর্ক করল বাংলাদেশ ব্যাংক সাতক্ষীরায় সড়ক দুর্ঘটনায় ভারসাম্যহীন নারীর মৃত্যু

আওয়ামী লীগ সরকারের সময় চট্টগ্রামে খাল খননের নামে লুটপাট হয়েছে: উপদেষ্টা আদিলুর

  • আপডেট সময় : ০৯:৩৯:৫৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৫
  • / 118
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বিডিসংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ

আওয়ামী লীগ সরকারের সময় চট্টগ্রামে খাল খননের নামে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি এবং বিপুল অর্থ লুটপাট হয়েছে বলে মন্তব্য করে গৃহায়ন ও গণপূর্ত এবং শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান বলেছেন, আমাদের দেশ তো ব্যাপক লুটপাটের শিকার হয়েছিল। অর্থনৈতিক অবস্থা একেবারেই খারাপ করে দেওয়া হয়েছিল। আমরা সেখান থেকে উদ্ধারের চেষ্টা করছি। চলতি বছর চট্টগ্রাম নগরীর ২১টি খাল খননের জন্য সরকার ১০ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে।

শুক্রবার নগরীর বহদ্দারহাটের বারইপাড়া ও ষোলশহরের সুন্নিয়া মাদরাসা খাল খনন কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে এক কিলোমিটার এলাকায় খাল-নালা খনন ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের উদ্বোধনীতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন উপদেষ্টা। এ সময় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন তাকে খাল খনন কাজের অগ্রগতি তুলে ধরেন।

এরপর সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক বাকলিয়া কৃষিখাল খনন কার্যক্রম ও চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের অগ্রগতি পরিদর্শন করেন উপদেষ্টা।

আদিলুর রহমান খান বলেন, গত অনেক বছর নদী, নালা, খাল ও শহরের ভেতর যে জলাবদ্ধতা, এসবের কোনো খোঁজ করা হয়নি। ব্যাপক অভিযোগ ছিল। জনগণের জন্য যেসব কাজ করা দরকার ছিল সেসব হয়নি। প্রতি বছর চট্টগ্রাম পানিতে তলিয়ে যায়। আমরা চেষ্টা করছি শহরের ভেতরে যতগুলো নালা-খাল, সমুদ্র ও নদীতে পানি যাওয়ার প্রবাহ সেগুলো চালু করার।

তিনি বলেন, ‘এগুলো কিন্তু রাতারাতি করা যাবে না। কাজটি আমরা শুরু করলাম। কাজটি এগিয়ে যাবে, যাতে এবারের বর্ষায় আমরা যতটুকু পারি জলাবদ্ধতা কমিয়ে আনতে পারি। এ বর্ষার পরেরটাতে যাতে পানি সরে যাওয়ার মতো অবস্থা হয়, সেজন্য আমরা কাজ করছি। এ বর্ষায় যেন আগের অবস্থার মতো না হয় এবং জলাবদ্ধতা কম হয় সে চেষ্টা করা হচ্ছে।’

সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, অন্যান্য বছরের মতো পানি উঠবে না তবে জলাবদ্ধতা হবে। বিগত বছরে নগরীর ৩ সেবা সংস্থা সিডিএ, সিটি করপোরেশন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের সমন্বয়হীনতার কারণে প্রতিবছর নগরবাসীকে জলাবদ্ধতার কবলে পড়তে হয়েছে। তবে আগামী দিনে নাগরিক ভোগান্তি নিরসনে সেবা সংস্থা গুলো সমন্বয় করে কাজ করবে বলেও জানান তিনি।

সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন আরও বলেন, ‘এরআগে আরো তিনজন উপদেষ্টা জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের কাজ পরিদর্শনে এসেছিলেন। আমরা সবাই সমন্বিতভাবে কাজ করলে নগরবাসীকে জলাবদ্ধতা থেকে রেহাই দিতে পারব বলে আশা করছি। আগে সমন্বয় ছিল না, এখন আমরা সব সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে কাজ করছি। আশা করছি, একটি রেজাল্ট পাব। হয়তো এ মৌসুমে ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ ফলাফল পাব। ১০০ শতাংশ রেজাল্ট পেতে আরো এক বছর সময় লাগবে।’

এরআগে গত ১৯ জানুয়ারি জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের অগ্রগতি দেখতে চট্টগ্রাম এসেছিলেন অন্তর্বর্তী সরকারের গঠিত উচ্চপর্যায়ের মনিটরিং টিমের তিন উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান, সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানও ফারুক-ই-আজম বীর প্রতীক। পরিদর্শন শেষে চট্টগ্রাম নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থাগুলোকে আগামী বর্ষার আগে করণীয় হিসেবে ১১ দফা কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ দিয়েছিলেন তারা।

কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থাগুলোকে আগামী মে পর্যন্ত চার মাস সময় বেঁধে দিয়েছিলেন তিন উপদেষ্টা। এ সময়ের মধ্যে কর্মপরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়নে ব্যর্থ হলে সংস্থাগুলোকে শাস্তির আওতায় আনা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টারা।

চট্টগ্রাম নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে সিডিএ দুটি, সিটি করপোরেশন একটি এবং পানি উন্নয়ন বোর্ড একটি করে প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। চার প্রকল্পে মোট ব্যয় প্রায় ১৪ হাজার ৩৫১ কোটি টাকা। এরমধ্যে ২০১৭ সালে শুরু হওয়া ‘চট্টগ্রাম শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনকল্পে খাল পুনঃখনন, সম্প্রসারণ, সংস্কার ও উন্নয়ন’

শীর্ষক ৮ হাজার ৬২৬ কোটি টাকা ব্যয়ে সবচেয়ে বড় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে সিডিএ। প্রকল্পের অগ্রগতি প্রায় ৭৫ শতাংশ।
বিডিসংবাদ/এএইচএস

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

আওয়ামী লীগ সরকারের সময় চট্টগ্রামে খাল খননের নামে লুটপাট হয়েছে: উপদেষ্টা আদিলুর

আপডেট সময় : ০৯:৩৯:৫৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৫

বিডিসংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ

আওয়ামী লীগ সরকারের সময় চট্টগ্রামে খাল খননের নামে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি এবং বিপুল অর্থ লুটপাট হয়েছে বলে মন্তব্য করে গৃহায়ন ও গণপূর্ত এবং শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান বলেছেন, আমাদের দেশ তো ব্যাপক লুটপাটের শিকার হয়েছিল। অর্থনৈতিক অবস্থা একেবারেই খারাপ করে দেওয়া হয়েছিল। আমরা সেখান থেকে উদ্ধারের চেষ্টা করছি। চলতি বছর চট্টগ্রাম নগরীর ২১টি খাল খননের জন্য সরকার ১০ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে।

শুক্রবার নগরীর বহদ্দারহাটের বারইপাড়া ও ষোলশহরের সুন্নিয়া মাদরাসা খাল খনন কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে এক কিলোমিটার এলাকায় খাল-নালা খনন ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের উদ্বোধনীতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন উপদেষ্টা। এ সময় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন তাকে খাল খনন কাজের অগ্রগতি তুলে ধরেন।

এরপর সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক বাকলিয়া কৃষিখাল খনন কার্যক্রম ও চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের অগ্রগতি পরিদর্শন করেন উপদেষ্টা।

আদিলুর রহমান খান বলেন, গত অনেক বছর নদী, নালা, খাল ও শহরের ভেতর যে জলাবদ্ধতা, এসবের কোনো খোঁজ করা হয়নি। ব্যাপক অভিযোগ ছিল। জনগণের জন্য যেসব কাজ করা দরকার ছিল সেসব হয়নি। প্রতি বছর চট্টগ্রাম পানিতে তলিয়ে যায়। আমরা চেষ্টা করছি শহরের ভেতরে যতগুলো নালা-খাল, সমুদ্র ও নদীতে পানি যাওয়ার প্রবাহ সেগুলো চালু করার।

তিনি বলেন, ‘এগুলো কিন্তু রাতারাতি করা যাবে না। কাজটি আমরা শুরু করলাম। কাজটি এগিয়ে যাবে, যাতে এবারের বর্ষায় আমরা যতটুকু পারি জলাবদ্ধতা কমিয়ে আনতে পারি। এ বর্ষার পরেরটাতে যাতে পানি সরে যাওয়ার মতো অবস্থা হয়, সেজন্য আমরা কাজ করছি। এ বর্ষায় যেন আগের অবস্থার মতো না হয় এবং জলাবদ্ধতা কম হয় সে চেষ্টা করা হচ্ছে।’

সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, অন্যান্য বছরের মতো পানি উঠবে না তবে জলাবদ্ধতা হবে। বিগত বছরে নগরীর ৩ সেবা সংস্থা সিডিএ, সিটি করপোরেশন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের সমন্বয়হীনতার কারণে প্রতিবছর নগরবাসীকে জলাবদ্ধতার কবলে পড়তে হয়েছে। তবে আগামী দিনে নাগরিক ভোগান্তি নিরসনে সেবা সংস্থা গুলো সমন্বয় করে কাজ করবে বলেও জানান তিনি।

সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন আরও বলেন, ‘এরআগে আরো তিনজন উপদেষ্টা জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের কাজ পরিদর্শনে এসেছিলেন। আমরা সবাই সমন্বিতভাবে কাজ করলে নগরবাসীকে জলাবদ্ধতা থেকে রেহাই দিতে পারব বলে আশা করছি। আগে সমন্বয় ছিল না, এখন আমরা সব সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে কাজ করছি। আশা করছি, একটি রেজাল্ট পাব। হয়তো এ মৌসুমে ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ ফলাফল পাব। ১০০ শতাংশ রেজাল্ট পেতে আরো এক বছর সময় লাগবে।’

এরআগে গত ১৯ জানুয়ারি জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের অগ্রগতি দেখতে চট্টগ্রাম এসেছিলেন অন্তর্বর্তী সরকারের গঠিত উচ্চপর্যায়ের মনিটরিং টিমের তিন উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান, সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানও ফারুক-ই-আজম বীর প্রতীক। পরিদর্শন শেষে চট্টগ্রাম নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থাগুলোকে আগামী বর্ষার আগে করণীয় হিসেবে ১১ দফা কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ দিয়েছিলেন তারা।

কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থাগুলোকে আগামী মে পর্যন্ত চার মাস সময় বেঁধে দিয়েছিলেন তিন উপদেষ্টা। এ সময়ের মধ্যে কর্মপরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়নে ব্যর্থ হলে সংস্থাগুলোকে শাস্তির আওতায় আনা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টারা।

চট্টগ্রাম নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে সিডিএ দুটি, সিটি করপোরেশন একটি এবং পানি উন্নয়ন বোর্ড একটি করে প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। চার প্রকল্পে মোট ব্যয় প্রায় ১৪ হাজার ৩৫১ কোটি টাকা। এরমধ্যে ২০১৭ সালে শুরু হওয়া ‘চট্টগ্রাম শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনকল্পে খাল পুনঃখনন, সম্প্রসারণ, সংস্কার ও উন্নয়ন’

শীর্ষক ৮ হাজার ৬২৬ কোটি টাকা ব্যয়ে সবচেয়ে বড় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে সিডিএ। প্রকল্পের অগ্রগতি প্রায় ৭৫ শতাংশ।
বিডিসংবাদ/এএইচএস