ঢাকা ০৫:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
কমিউনিস্ট স্লোগান কি ‘জয় বাংলা’? ইতিহাসের প্রেক্ষাপটে বিশ্লেষণ দেশে ডেঙ্গুতে একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যু ১১, মোট প্রাণহানি ৪০০ না ফেরার দেশে সিআইডি খ্যাত নির্মাতা বিপি সিংহ ৩০০ কোটির বিনিয়োগ, তবুও বেতন বকেয়া চালডাল কর্মীদের লন্ডন ডব্লিউটিএম-এ প্রিমিয়াম কেবিনসেবা দেখাবে মালয়েশিয়া এয়ারলাইনস সারের দাবিতে হাতীবান্ধায় মহাসড়ক অবরোধ করলেন কৃষকরা ঢাকা-চট্টগ্রামসহ বড় এলাকায় জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ বিপর্যয় ঢাকা ও চট্টগ্রামের একাংশে হঠাৎ বিদ্যুৎ বিপর্যয় ভোলায় বসতভিটার ট্যাক্স আদায়ের নামে প্রতারণার অভিযোগে গ্রেপ্তার ২ সীতাকুণ্ডে লরির ধাক্কায় দাঁড়িয়ে থাকা বাসের ৫ যাত্রী নিহত

কমিউনিস্ট স্লোগান কি ‘জয় বাংলা’? ইতিহাসের প্রেক্ষাপটে বিশ্লেষণ

  • আপডেট সময় : ০৫:৪২:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
  • / 2
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রাজনৈতিক ইতিহাসে স্লোগান কেবল কিছু শব্দের সমষ্টি নয়; বরং তা শ্রেণিসংগ্রাম, গণ-অভ্যুত্থান এবং জাতীয় মুক্তির আকাঙ্ক্ষার প্রতীক। একটি স্লোগান কোন সামাজিক প্রেক্ষাপটে জন্ম নিয়েছে এবং সময়ের বিবর্তনে তার অর্থ কীভাবে বদলেছে, তা বুঝতে হলে কেবল পরিচিত বাক্য মুখস্থ করা যথেষ্ট নয়। এজন্য প্রয়োজন গভীর ঐতিহাসিক ও আদর্শগত বিশ্লেষণ। কমিউনিস্ট আন্দোলনের সবচেয়ে পরিচিত আন্তর্জাতিক স্লোগান হলো ‘দুনিয়ার মজদুর এক হও’। ১৮৪৮ সালে কার্ল মার্কস ও ফ্রিডরিখ এঙ্গেলসের লেখা ‘কমিউনিস্ট ইশতেহার’-এর শেষ আহ্বানে এই স্লোগানটি যুক্ত ছিল, যা ইংরেজিতে ‘Workers of the world, unite!’ হিসেবে পরিচিত। এর মূল দর্শন হলো, শ্রমিকের অধিকার বা মুক্তির সংগ্রাম জাতীয় সীমানার গণ্ডিতে আটকে রাখা সম্ভব নয়, কারণ পুঁজি ও শ্রমিকের সংহতি—উভয়ই আন্তর্জাতিক। তাই কমিউনিস্ট ও বামপন্থী রাজনীতির স্লোগান নিয়ে আলোচনা করতে হলে শুধু পরিচিত কয়েকটি বাক্য মুখস্থ করলেই চলে না, বুঝতে হয় সেগুলোর পেছনের ইতিহাস ও মতাদর্শ।

কমিউনিস্ট বা বামপন্থী রাজনীতির ক্ষেত্রটি কেবল একটি স্লোগানে সীমাবদ্ধ নয়। শ্রমিকের সংগঠন, কৃষকের ভূমির দাবি, সাম্রাজ্যবাদবিরোধিতা, পুঁজিবাদী শোষণের বিরুদ্ধে অবস্থান এবং সমাজতান্ত্রিক সমাজ গঠনের স্বপ্নকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন সময়ে নানা স্লোগান উঠে এসেছে। এর মধ্যে ‘শ্রমিক-কৃষক এক হও’ বাম রাজনীতির একটি বহুল পরিচিত আহ্বান। যদিও শ্রমিক ও কৃষকের সামাজিক অবস্থান ও স্বার্থ ভিন্ন, তবুও উৎপাদন, মজুরি ও সম্পদ বণ্টনের ক্ষেত্রে তাঁদের অভিজ্ঞতার মিল থেকে এই ঐক্যের ধারণাটি তৈরি হয়েছে।

বাংলাদেশের বাম আন্দোলনের ইতিহাসে বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন স্লোগান শোনা গেছে। যেমন ১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থানের সময় ‘কৃষক শ্রমিক অস্ত্র ধর, জনগণতন্ত্র কায়েম কর’ কিংবা ‘মুক্তির এই পথ, সশস্ত্র বিপ্লব’-এর মতো স্লোগানগুলো ছিল সেই সময়ের বিপ্লবী রাজনীতির ধারক। তবে এগুলোকে সব বামপন্থী দলের অভিন্ন অবস্থান হিসেবে দেখা সমীচীন নয়। শ্রমিক আন্দোলনের অন্যতম দাবি ‘শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি চাই’—এর সঙ্গে নিরাপদ কর্মপরিবেশ, শ্রমঘণ্টা নিয়ন্ত্রণ ও সামাজিক নিরাপত্তার প্রশ্নগুলোও যুক্ত। কোনো নির্দিষ্ট দাবি বাম রাজনীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হলেই সেটিই কমিউনিস্টদের একান্ত নিজস্ব স্লোগান, এমনটি ভাবা ভুল; কারণ এসব দাবি বিভিন্ন মতাদর্শের সংগঠনও তুলতে পারে। বৈষম্যের অবসান চাই, সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করো।

উপমহাদেশের বিপ্লবী রাজনীতিতে ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ (বিপ্লব দীর্ঘজীবী হোক) স্লোগানটির ব্যাপক প্রচলন রয়েছে। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে বিভিন্ন বিপ্লবী ও বামপন্থী ধারার কর্মসূচিতে এটি ব্যবহৃত হয়েছে, তবে এটিকে কেবল কমিউনিস্টদের স্লোগান বলা ইতিহাসকে খণ্ডিত করা হবে। একই কথা প্রযোজ্য ‘বিপ্লব দীর্ঘজীবী হোক’ বা ‘শোষণমুক্ত সমাজ চাই’-এর মতো আহ্বানগুলোর ক্ষেত্রে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক পটচিত্রে ১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থান ছিল বহুমুখী রাজনৈতিক ও সামাজিক শক্তির অংশগ্রহণ। সে সময় ছাত্র, শ্রমিক ও কৃষকদের স্লোগানে একদিকে যেমন স্বাধিকারের দাবি ছিল, অন্যদিকে ছিল শ্রেণিসংগ্রাম ও বৈপ্লবিক রাজনীতির ভাষাও। মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর জনসভায় উচ্চারিত ‘ভোটের আগে ভাত চাই’ স্লোগানটিও রাজনৈতিক অধিকার ও অর্থনৈতিক চাহিদার সম্পর্কের এক অনন্য উদাহরণ। এই মিলের ভিত্তিতে ঐক্য গড়ে তোলাই স্লোগানটির রাজনৈতিক তাৎপর্য।

অন্যদিকে, বাংলাদেশের জাতীয় ইতিহাসে ‘জয় বাংলা’ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও আবেগপূর্ণ স্লোগান। এটি বাঙালির স্বাধিকার, জাতীয়তাবাদী আন্দোলন এবং ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে অবিচ্ছেদ্যভাবে যুক্ত। কিন্তু এর ঐতিহাসিক তাৎপর্য এবং কমিউনিস্ট আন্দোলনের শ্রেণিভিত্তিক স্লোগানের দর্শন এক নয়। ‘দুনিয়ার মজদুর এক হও’ মূলত আন্তর্জাতিক শ্রমিক সংহতির আহ্বান, আর ‘জয় বাংলা’ বাঙালির জাতীয় মুক্তির আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন। যদিও মুক্তিযুদ্ধে বামপন্থী কর্মীরা সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছিলেন, কিন্তু সেই অংশগ্রহণের কারণে ‘জয় বাংলা’কে কমিউনিস্ট মতাদর্শের স্লোগান হিসেবে গণ্য করা যায় না। তেমনি কোনো নির্দিষ্ট দল দীর্ঘদিন ব্যবহার করেছে বলেই তার ঐতিহাসিক গুরুত্বকে কেবল দলীয় গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ করাও অনুচিত।

বাম ও কমিউনিস্ট রাজনীতির আদর্শগত আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ পায় বিভিন্ন স্লোগানের মাধ্যমে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এর মধ্যে রয়েছে ‘সকল দেশের শ্রমিক এক হও’, ‘সমাজতন্ত্র দীর্ঘজীবী হোক’ ইত্যাদি। তেমনি শ্রমিক-কৃষকের অধিকার নিয়ে ‘কৃষকের ফসলের ন্যায্য দাম চাই’ বা ‘শ্রমিক-কৃষকের সংগ্রাম, চলবেই অবিরাম’-এর মতো স্লোগানও প্রচলিত। পরিশেষে, কমিউনিস্ট বা বামপন্থী রাজনীতির সামনে আজও বড় প্রশ্ন হলো—স্লোগানের বক্তব্য বাস্তব জীবনে কতটা প্রতিফলিত হচ্ছে। শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি, কৃষকের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা, গণতান্ত্রিক জবাবদিহি এবং সাম্প্রদায়িকতাবিরোধী অবস্থান—এসব কাজের মাধ্যমেই মূলত একটি সংগঠনের প্রকৃত আদর্শের বাস্তবতা যাচাই করা সম্ভব। একইভাবে কৃষকের ন্যায্য মূল্য, জমির অধিকার এবং ঋণের বোঝা কমানোর দাবি বামপন্থী রাজনীতির দীর্ঘদিনের আলোচ্য বিষয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

কমিউনিস্ট স্লোগান কি ‘জয় বাংলা’? ইতিহাসের প্রেক্ষাপটে বিশ্লেষণ

আপডেট সময় : ০৫:৪২:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

রাজনৈতিক ইতিহাসে স্লোগান কেবল কিছু শব্দের সমষ্টি নয়; বরং তা শ্রেণিসংগ্রাম, গণ-অভ্যুত্থান এবং জাতীয় মুক্তির আকাঙ্ক্ষার প্রতীক। একটি স্লোগান কোন সামাজিক প্রেক্ষাপটে জন্ম নিয়েছে এবং সময়ের বিবর্তনে তার অর্থ কীভাবে বদলেছে, তা বুঝতে হলে কেবল পরিচিত বাক্য মুখস্থ করা যথেষ্ট নয়। এজন্য প্রয়োজন গভীর ঐতিহাসিক ও আদর্শগত বিশ্লেষণ। কমিউনিস্ট আন্দোলনের সবচেয়ে পরিচিত আন্তর্জাতিক স্লোগান হলো ‘দুনিয়ার মজদুর এক হও’। ১৮৪৮ সালে কার্ল মার্কস ও ফ্রিডরিখ এঙ্গেলসের লেখা ‘কমিউনিস্ট ইশতেহার’-এর শেষ আহ্বানে এই স্লোগানটি যুক্ত ছিল, যা ইংরেজিতে ‘Workers of the world, unite!’ হিসেবে পরিচিত। এর মূল দর্শন হলো, শ্রমিকের অধিকার বা মুক্তির সংগ্রাম জাতীয় সীমানার গণ্ডিতে আটকে রাখা সম্ভব নয়, কারণ পুঁজি ও শ্রমিকের সংহতি—উভয়ই আন্তর্জাতিক। তাই কমিউনিস্ট ও বামপন্থী রাজনীতির স্লোগান নিয়ে আলোচনা করতে হলে শুধু পরিচিত কয়েকটি বাক্য মুখস্থ করলেই চলে না, বুঝতে হয় সেগুলোর পেছনের ইতিহাস ও মতাদর্শ।

কমিউনিস্ট বা বামপন্থী রাজনীতির ক্ষেত্রটি কেবল একটি স্লোগানে সীমাবদ্ধ নয়। শ্রমিকের সংগঠন, কৃষকের ভূমির দাবি, সাম্রাজ্যবাদবিরোধিতা, পুঁজিবাদী শোষণের বিরুদ্ধে অবস্থান এবং সমাজতান্ত্রিক সমাজ গঠনের স্বপ্নকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন সময়ে নানা স্লোগান উঠে এসেছে। এর মধ্যে ‘শ্রমিক-কৃষক এক হও’ বাম রাজনীতির একটি বহুল পরিচিত আহ্বান। যদিও শ্রমিক ও কৃষকের সামাজিক অবস্থান ও স্বার্থ ভিন্ন, তবুও উৎপাদন, মজুরি ও সম্পদ বণ্টনের ক্ষেত্রে তাঁদের অভিজ্ঞতার মিল থেকে এই ঐক্যের ধারণাটি তৈরি হয়েছে।

বাংলাদেশের বাম আন্দোলনের ইতিহাসে বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন স্লোগান শোনা গেছে। যেমন ১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থানের সময় ‘কৃষক শ্রমিক অস্ত্র ধর, জনগণতন্ত্র কায়েম কর’ কিংবা ‘মুক্তির এই পথ, সশস্ত্র বিপ্লব’-এর মতো স্লোগানগুলো ছিল সেই সময়ের বিপ্লবী রাজনীতির ধারক। তবে এগুলোকে সব বামপন্থী দলের অভিন্ন অবস্থান হিসেবে দেখা সমীচীন নয়। শ্রমিক আন্দোলনের অন্যতম দাবি ‘শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি চাই’—এর সঙ্গে নিরাপদ কর্মপরিবেশ, শ্রমঘণ্টা নিয়ন্ত্রণ ও সামাজিক নিরাপত্তার প্রশ্নগুলোও যুক্ত। কোনো নির্দিষ্ট দাবি বাম রাজনীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হলেই সেটিই কমিউনিস্টদের একান্ত নিজস্ব স্লোগান, এমনটি ভাবা ভুল; কারণ এসব দাবি বিভিন্ন মতাদর্শের সংগঠনও তুলতে পারে। বৈষম্যের অবসান চাই, সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করো।

উপমহাদেশের বিপ্লবী রাজনীতিতে ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ (বিপ্লব দীর্ঘজীবী হোক) স্লোগানটির ব্যাপক প্রচলন রয়েছে। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে বিভিন্ন বিপ্লবী ও বামপন্থী ধারার কর্মসূচিতে এটি ব্যবহৃত হয়েছে, তবে এটিকে কেবল কমিউনিস্টদের স্লোগান বলা ইতিহাসকে খণ্ডিত করা হবে। একই কথা প্রযোজ্য ‘বিপ্লব দীর্ঘজীবী হোক’ বা ‘শোষণমুক্ত সমাজ চাই’-এর মতো আহ্বানগুলোর ক্ষেত্রে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক পটচিত্রে ১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থান ছিল বহুমুখী রাজনৈতিক ও সামাজিক শক্তির অংশগ্রহণ। সে সময় ছাত্র, শ্রমিক ও কৃষকদের স্লোগানে একদিকে যেমন স্বাধিকারের দাবি ছিল, অন্যদিকে ছিল শ্রেণিসংগ্রাম ও বৈপ্লবিক রাজনীতির ভাষাও। মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর জনসভায় উচ্চারিত ‘ভোটের আগে ভাত চাই’ স্লোগানটিও রাজনৈতিক অধিকার ও অর্থনৈতিক চাহিদার সম্পর্কের এক অনন্য উদাহরণ। এই মিলের ভিত্তিতে ঐক্য গড়ে তোলাই স্লোগানটির রাজনৈতিক তাৎপর্য।

অন্যদিকে, বাংলাদেশের জাতীয় ইতিহাসে ‘জয় বাংলা’ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও আবেগপূর্ণ স্লোগান। এটি বাঙালির স্বাধিকার, জাতীয়তাবাদী আন্দোলন এবং ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে অবিচ্ছেদ্যভাবে যুক্ত। কিন্তু এর ঐতিহাসিক তাৎপর্য এবং কমিউনিস্ট আন্দোলনের শ্রেণিভিত্তিক স্লোগানের দর্শন এক নয়। ‘দুনিয়ার মজদুর এক হও’ মূলত আন্তর্জাতিক শ্রমিক সংহতির আহ্বান, আর ‘জয় বাংলা’ বাঙালির জাতীয় মুক্তির আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন। যদিও মুক্তিযুদ্ধে বামপন্থী কর্মীরা সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছিলেন, কিন্তু সেই অংশগ্রহণের কারণে ‘জয় বাংলা’কে কমিউনিস্ট মতাদর্শের স্লোগান হিসেবে গণ্য করা যায় না। তেমনি কোনো নির্দিষ্ট দল দীর্ঘদিন ব্যবহার করেছে বলেই তার ঐতিহাসিক গুরুত্বকে কেবল দলীয় গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ করাও অনুচিত।

বাম ও কমিউনিস্ট রাজনীতির আদর্শগত আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ পায় বিভিন্ন স্লোগানের মাধ্যমে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এর মধ্যে রয়েছে ‘সকল দেশের শ্রমিক এক হও’, ‘সমাজতন্ত্র দীর্ঘজীবী হোক’ ইত্যাদি। তেমনি শ্রমিক-কৃষকের অধিকার নিয়ে ‘কৃষকের ফসলের ন্যায্য দাম চাই’ বা ‘শ্রমিক-কৃষকের সংগ্রাম, চলবেই অবিরাম’-এর মতো স্লোগানও প্রচলিত। পরিশেষে, কমিউনিস্ট বা বামপন্থী রাজনীতির সামনে আজও বড় প্রশ্ন হলো—স্লোগানের বক্তব্য বাস্তব জীবনে কতটা প্রতিফলিত হচ্ছে। শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি, কৃষকের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা, গণতান্ত্রিক জবাবদিহি এবং সাম্প্রদায়িকতাবিরোধী অবস্থান—এসব কাজের মাধ্যমেই মূলত একটি সংগঠনের প্রকৃত আদর্শের বাস্তবতা যাচাই করা সম্ভব। একইভাবে কৃষকের ন্যায্য মূল্য, জমির অধিকার এবং ঋণের বোঝা কমানোর দাবি বামপন্থী রাজনীতির দীর্ঘদিনের আলোচ্য বিষয়।