ক্যাচ হারেই ম্যাচ হার মানছেন সাকিবও
- আপডেট সময় : ১১:২৪:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ ডিসেম্বর ২০২২
- / 188
বিডিসংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ
ক্রিকেটের বহুল প্রচলিত একটি মন্তব্য হলো- ‘ক্যাচ মিস তো ম্যাচ মিস।’ এর সমার্থক কথাটিও খুব চলে, ‘ক্যাচেস উইন ম্যাচেস’, অর্থাৎ ক্যাচই ম্যাচ জেতায়। অবশ্য এমনি এমনিতেই তো আর এই বাক্যের প্রচলন হয়নি। ক্যাচ ছেড়ে ম্যাচ হারার অসংখ্য ঘটনার দেখা মিলেছে যুগে যুগে। যেখানে সর্বশেষ সংযোজন বাংলাদেশ-ভারত মধ্যকার দ্বিতীয় টেস্ট।
মিরপুরের এ ম্যাচে জয়ের জন্য ভারতকে ১৪৫ রানের লক্ষ্য দেয় বাংলাদেশ। যেখানে ৪ উইকেটে ৪৫ রান নিয়ে আজ রোববার খেলতে নামে সফরকারীরা। এক পর্যায়ে ৭৪ রানেই তারা হারিয়ে ফেলে ৭ উইকেট। তখনও জয় থেকে ভারত ঠিক ৭১ রান দূরে। মনে হচ্ছিল, বাংলাদেশের জেতাটা সময়ের ব্যাপার মাত্র। কিন্তু অষ্টম উইকেটে শ্রেয়াস আইয়ার ও রবিচন্দ্রন অশ্বিনের জুটিতেই ভেঙে গেল সে স্বপ্ন। ৪২ রানে অপরাজিত থাকেন অশ্বিন।
অথচ অশ্বিন ফিরতে পারতেন ব্যক্তিগত ১ রানে। মিরাজের করা বল অশ্বিন ডিফেন্স করার চেষ্টা করলেও ব্যাটে-বলে ঠিকঠাক হয়নি। ফলে গ্লাভসে লেগে বল শর্ট লেগে ক্যাচ উঠে। তবে সেটা লুফে নিতে পারেননি মুমিনুল হক। আর তাতেই বদলে যায় ম্যাচের চিত্র। দ্বিতীয় ইনিংসে তো মাত্র একবার, প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশী খেলোয়াড়দের হাত থেকে ক্যাচ ফসকেছে বেশ কয়েকবার।
দ্বিতীয় দিন লাঞ্চে যাওয়ার ঠিক আগের ওভারে মিরাজের লেংথ ডেলিভারি ঠিকঠাক খেলতে পারেননি রিশভ পান্ত। আউটসাইড এইডজ হয়ে বল চলে যায় প্রথম স্লিপে। তবে সেখানে দাঁড়ানো লিটন দাস ক্যাচটি তালুবন্দি করতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত পন্থ সংগ্রহ করেন ৯৩ রান। একই ঘটনা ঘটেছে ৮৭ রান করা শ্রেয়াস আইয়ারের সাথে। একাধিকবার জীবন পেয়েছেন এই ব্যাটসম্যান।
প্রথম ইনিংসের ৪৪তম ওভারে তাসকিনের বল ঠিকঠাক খেলতে পারেননি আইয়ার। তার ব্যাটের কানায় লেগে বল চলে যায় পয়েন্টে। তবে সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা মেহেদি হাসান মিরাজ লাফিয়েও তা তালুবন্দি করতে পারেননি। তবে সবচেয়ে সহজ ও দৃষ্টিকটূ সুযোগ মিস করেন নুরুল হাসান সোহান। সাকিবের বলে ডাউন দ্য উইকেটে খেলতে গিয়ে ব্যাটে-বলে মেলাতে পারেননি আইয়ার। তবে উইকেট কিপার সোহানও বল গ্লাভসে জমাতে পারেননি। ফলে সহজ স্ট্যাম্পিংয়ের সুযোগ হাতছাড়া হয়।
ক্যাচ মিসের এমন মহড়ার পর এ নিয়ে আক্ষেপ শোনা গেল বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক সাকিব আল হাসানের কণ্ঠে। সাকিব বলেন, ‘বিষয়টা হতাশাজনক। কারণ এগুলো ক্যাচ মিস অনেক বড় পার্থক্য গড়ে দিয়েছে। তারা হয়তো প্রথম ইনিংসে রান ৩১৪ না হয়ে ২৫০ করতে পারতো। দ্বিতীয় ইনিংসেও অবশ্যই সুযোগ ছিল। যদিও এসব ক্রিকেটের অংশ। তবে হতাশাজনক এ জন্য যে অন্য দলগুলো এসব মিস করে না, আমরা যেগুলো করি।’
ক্যাচ মিসের কারণ কী হতে পারে- এমন প্রশ্নে সাকিবের উত্তর, ‘হতে পারে মনোযোগের ঘাটতি, কে জানে, হতে পারে ফিটনেসের ঘাটতি বা অন্য কিছুও হতে পারে। তবে এসব খুঁজে বের করতে হবে যে কিভাবে আমরা আরো বড় সময় ধরে মনোযোগ ধরে রাখতে পারি এবং ভুলগুলো না করি। আমি নিশ্চিত, অন্য কোনো দলই এতগুলো সুযোগ দিতো না, যতটা সুযোগ আমরা দেই।’
বিডিসংবাদ/এএইচএস


























