ঢাকা ০৫:৪০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
চৌদ্দগ্রামে বিজিবির অভিযানে প্রায় ৩৯ লাখ টাকার ভারতীয় শাড়ি রাষ্ট্রদূত দাউদ আলীকে ফেরানো মন্ত্রণালয়ের নিজস্ব সিদ্ধান্ত: শামা ওবায়েদ জাপান সফরে তারেক রহমান: অর্থনৈতিক সহযোগিতায় নতুন গতির আশা পুলিশ বল প্রয়োগে ফ্যাসিবাদী, না করলে দুর্বল: আইজিপি ফেনীর ফাজিলপুরবাসীর দাবী আলহাজ্ব মাওলানা নুরুল আমিনকে বিএনপির মনোনয়ন দেয়া হোক সংবিধান সংশোধন কমিটির নবম বৈঠক: প্রাধান্য পাচ্ছে জুলাই সনদ একাত্তরের ভূমিকার কারণেই আ. লীগের সমর্থন চায় জামায়াত: রিজভী ইতালির আট শহরে বিক্ষোভ: কঠোর নিরাপত্তা ও ড্রোন নজরদারি কানাডায় অভিবাসন জালিয়াতি: ৫ বাংলাদেশির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গাজীপুরে পোশাক কারখানায় আগুন, নিয়ন্ত্রণে ৫ ইউনিট

গাজায় ছেঁড়া নোট জোড়া দিয়ে ঘুরছে সাদানির পরিবারের চাকা

  • আপডেট সময় : ১১:২০:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৫
  • / 97
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বিডিসংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ

আঠার পাত্র, ব্লেড আর তীক্ষ্ম চোখ-এই তিনের মেলবন্ধনে ছেঁড়াফাটা নোট ঠিকঠাক করার কাজ করছেন মানাল আল-সাদানি। যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় কাগজের টাকার অবস্থা বর্তমানে এতটাই খারাপ যে এই কাজটি অপরিহার্য হয়ে উঠেছে।

ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের নুসেইরাত এলাকা থেকে এএফপি এ খবর জানায়।

২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ইসরাইল-হামাস যুদ্ধের সময় দীর্ঘ অবরোধে থাকায় গাজার ভেতরে মৌলিক পণ্যসামগ্রীর ঘাটতি দেখা দেয়। নতুন ব্যাংকনোট সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অবস্থা আরও নাজুক হয়।

প্রতিদিন সাদানি আল-বুরেইজ শরণার্থী শিবির থেকে কয়েক কিলোমিটার হেঁটে ছোট প্লাস্টিকের টেবিলটি নিয়ে নুসেইরাত শিবিরের বাজারে এসে বসেন। প্রতিটি নোট ঠিক করে দেওয়ার বিনিময়ে গ্রাহকরা তাকে কয়েকটি কয়েন দিয়ে যান।

এক একজন করে গ্রাহক তার টেবিলের সামনে গিয়ে দাঁড়ান। তাদের হাতে ইসরাইলি শেকেল নোট। কোনটি ছেঁড়া, কোনটি আবার জীর্ণ।

সাদানি এএফপিকে বলেন, আমি কাজ করার সিদ্ধান্ত নিই এবং নোট মেরামত শুরু করি। এটিই আমার রোজগারের একমাত্র পথ।

তিনি আরও বলেন, আমি নারী বলে অনেকেই আমাকে পাশে দাঁড়িয়েছে ও সমর্থন দিয়েছে। কেউ কেউ ২০ শেকেলের নোট দিয়ে বলত, এক বা দুই শেকেলের বিনিময়ে এটা ঠিক করে দিন। আমি রাজি হয়ে যেতাম। আলহামদুলিল্লাহ, এভাবেই চলছে।

সাদানি পুরু কাচের ওপর নোটগুলো রাখেন। তারপর ইউটিলিটি নাইফের ব্লেড দিয়ে আঠা লাগান, আঙুল দিয়ে মসৃণ করেন। কাজ শেষে আলোতে তুলে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে পরীক্ষা করেন এবং নিজের কাজ যাচাই করেন।

কাজের ফাঁকে এই কর্মব্যস্ত নারীর মন পড়ে থাকে ঘরে, তার দুই মেয়ের কাছে। কাঁপা গলায় সাদানি বলেন, আমাকে সহানুভূতির চোখে দেখুন। আমি খুব ক্লান্ত এক ফিলিস্তিনি মা, এটা বুঝুন ।

ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডজুড়ে ইসরাইলি ‘নিউ শেকেল’ ব্যবহৃত হয়। এক শেকেলের মূল্য প্রায় ০.৩০ মার্কিন ডলার। ২০১৪ সালে ইসরাইলের ‘সি’ সিরিজের নোট প্রথম বাজারে আসে। হিব্রু ভাষার বিশিষ্ট কবিদের ছবি রয়েছে এসব নোটে। ২০ শেকেল লাল, ৫০ সবুজ, ১০০ কমলা আর ২০০ শেকেলের নোট নীল রংয়ের।

সাদানি রং ঘষে নোটের চেহারা খানিকটা ফিরিয়ে আনার চেষ্টাও করেন। এক গ্রাহকের হাতে দুটি ২০ শেকেল নোট দিয়ে বলেন, যাও, এখন এটা দিয়ে বিস্কুট কিনে খাও।

ক্রেতা নাবিলা শেনার জানান ছেঁড়া নোট তাদের জীবনে কতটা বিপদ ডেকে এনেছে। তিনি বলেন, টাকাগুলোর বেশিরভাগই অচল। দোকানে গেলে বলে এগুলো নষ্ট ব্যবহার করা যাবে না। তাই বাধ্য হয়ে আমরা নোট জোড়াতালি দিতে এখানে আসি।

তিনি আরও বলেন, ২০ শেকেলের নোট ঠিক করতে দুই শেকেল লাগে, ৫০ শেকেলের জন্য তিন শেকেল দিতে হয়।

তবে নাবিলা অভিযোগ করে বলেন, এ সমস্যার সমাধান হওয়া দরকার। আমাদেরকে ব্যবহারযোগ্য টাকা দিতে হবে, যাতে স্বাভাবিকভাবে জীবনধারণ করতে পারি।

আমাদের কাছে থাকা নোটগুলো ছেঁড়াফাটা বলে কিছুই কিনতে পারি না।
বিডিসংবাদ/এএইচএস

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

গাজায় ছেঁড়া নোট জোড়া দিয়ে ঘুরছে সাদানির পরিবারের চাকা

আপডেট সময় : ১১:২০:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৫

বিডিসংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ

আঠার পাত্র, ব্লেড আর তীক্ষ্ম চোখ-এই তিনের মেলবন্ধনে ছেঁড়াফাটা নোট ঠিকঠাক করার কাজ করছেন মানাল আল-সাদানি। যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় কাগজের টাকার অবস্থা বর্তমানে এতটাই খারাপ যে এই কাজটি অপরিহার্য হয়ে উঠেছে।

ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের নুসেইরাত এলাকা থেকে এএফপি এ খবর জানায়।

২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ইসরাইল-হামাস যুদ্ধের সময় দীর্ঘ অবরোধে থাকায় গাজার ভেতরে মৌলিক পণ্যসামগ্রীর ঘাটতি দেখা দেয়। নতুন ব্যাংকনোট সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অবস্থা আরও নাজুক হয়।

প্রতিদিন সাদানি আল-বুরেইজ শরণার্থী শিবির থেকে কয়েক কিলোমিটার হেঁটে ছোট প্লাস্টিকের টেবিলটি নিয়ে নুসেইরাত শিবিরের বাজারে এসে বসেন। প্রতিটি নোট ঠিক করে দেওয়ার বিনিময়ে গ্রাহকরা তাকে কয়েকটি কয়েন দিয়ে যান।

এক একজন করে গ্রাহক তার টেবিলের সামনে গিয়ে দাঁড়ান। তাদের হাতে ইসরাইলি শেকেল নোট। কোনটি ছেঁড়া, কোনটি আবার জীর্ণ।

সাদানি এএফপিকে বলেন, আমি কাজ করার সিদ্ধান্ত নিই এবং নোট মেরামত শুরু করি। এটিই আমার রোজগারের একমাত্র পথ।

তিনি আরও বলেন, আমি নারী বলে অনেকেই আমাকে পাশে দাঁড়িয়েছে ও সমর্থন দিয়েছে। কেউ কেউ ২০ শেকেলের নোট দিয়ে বলত, এক বা দুই শেকেলের বিনিময়ে এটা ঠিক করে দিন। আমি রাজি হয়ে যেতাম। আলহামদুলিল্লাহ, এভাবেই চলছে।

সাদানি পুরু কাচের ওপর নোটগুলো রাখেন। তারপর ইউটিলিটি নাইফের ব্লেড দিয়ে আঠা লাগান, আঙুল দিয়ে মসৃণ করেন। কাজ শেষে আলোতে তুলে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে পরীক্ষা করেন এবং নিজের কাজ যাচাই করেন।

কাজের ফাঁকে এই কর্মব্যস্ত নারীর মন পড়ে থাকে ঘরে, তার দুই মেয়ের কাছে। কাঁপা গলায় সাদানি বলেন, আমাকে সহানুভূতির চোখে দেখুন। আমি খুব ক্লান্ত এক ফিলিস্তিনি মা, এটা বুঝুন ।

ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডজুড়ে ইসরাইলি ‘নিউ শেকেল’ ব্যবহৃত হয়। এক শেকেলের মূল্য প্রায় ০.৩০ মার্কিন ডলার। ২০১৪ সালে ইসরাইলের ‘সি’ সিরিজের নোট প্রথম বাজারে আসে। হিব্রু ভাষার বিশিষ্ট কবিদের ছবি রয়েছে এসব নোটে। ২০ শেকেল লাল, ৫০ সবুজ, ১০০ কমলা আর ২০০ শেকেলের নোট নীল রংয়ের।

সাদানি রং ঘষে নোটের চেহারা খানিকটা ফিরিয়ে আনার চেষ্টাও করেন। এক গ্রাহকের হাতে দুটি ২০ শেকেল নোট দিয়ে বলেন, যাও, এখন এটা দিয়ে বিস্কুট কিনে খাও।

ক্রেতা নাবিলা শেনার জানান ছেঁড়া নোট তাদের জীবনে কতটা বিপদ ডেকে এনেছে। তিনি বলেন, টাকাগুলোর বেশিরভাগই অচল। দোকানে গেলে বলে এগুলো নষ্ট ব্যবহার করা যাবে না। তাই বাধ্য হয়ে আমরা নোট জোড়াতালি দিতে এখানে আসি।

তিনি আরও বলেন, ২০ শেকেলের নোট ঠিক করতে দুই শেকেল লাগে, ৫০ শেকেলের জন্য তিন শেকেল দিতে হয়।

তবে নাবিলা অভিযোগ করে বলেন, এ সমস্যার সমাধান হওয়া দরকার। আমাদেরকে ব্যবহারযোগ্য টাকা দিতে হবে, যাতে স্বাভাবিকভাবে জীবনধারণ করতে পারি।

আমাদের কাছে থাকা নোটগুলো ছেঁড়াফাটা বলে কিছুই কিনতে পারি না।
বিডিসংবাদ/এএইচএস