ঢাকা ০৯:১১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জাপানে অসাংবিধানিক জলবায়ু নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগে সরকারের বিরুদ্ধে মামলা

  • আপডেট সময় : ১১:১২:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / 204
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বিডিসংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ

জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় ‘অসাংবিধানিক’ নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগে বৃহস্পতিবার জাপানের কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে শত শত মানুষ মামলা করেছেন। দেশটিতে এই প্রথম জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত ঘটনায় এ ধরনের মামলা হলো।

টোকিও থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

মামলায় জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় জাপানের প্রচেষ্টাকে ‘চরমভাবে অপর্যাপ্ত’ আখ্যা দিয়ে সমালোচনা করা হয়েছে এবং বলা হয়েছে, এর ফলে প্রায় ৪৫০ জন বাদীর স্বাস্থ্য ও জীবিকা হুমকির মুখে পড়েছে।

প্রধান আইনজীবী আকিহিরো শিমা এএফপিকে বলেন, আমরা আদালতে আমাদের অভিযোগপত্র ও প্রমাণ জমা দিয়েছি। আমাদের মামলা আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করা হয়েছে।

বাদী নির্মাণশ্রমিক কিইচি আকিয়ামা বলেন, নিরন্তর দাবদাহ তাদের কাজের গতি কমিয়ে দিয়েছে, ফলে তার ব্যবসায় বড় ধরনের ক্ষতি হচ্ছে।

৫৭ বছর বয়সি আকিয়ামা বলেন, এমন ঘটনাও ঘটেছে, যেখানে মানুষ মাঠেই অজ্ঞান হয়ে পড়েছে কিংবা বাড়ি ফেরার পর মারা গেছে।

কিয়োটো বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক মাসাকো ইচিহারা বলেন, এর আগে জাপানের আদালতে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ জলবায়ু-সংক্রান্ত পাঁচটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

তবে ইচিহারা এবং মামলার আইনজীবীরা বলেন, এটি জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে প্রথম ক্ষতিপূরণ দাবি।

অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ‘বিবাদির জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলার পদক্ষেপ চরমভাবে অপর্যাপ্ত, যার ফলে বাদীদের শান্তিপূর্ণ জীবনযাপন ও স্থিতিশীল জলবায়ুর অধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে।’

১৮৯৮ সালে রেকর্ড রাখা শুরুর পর থেকে চলতি বছর জাপান সবচেয়ে উষ্ণ গ্রীষ্ম পার করেছে। বাদীদের দাবি, এ ধরনের তাপপ্রবাহ অর্থনৈতিক ক্ষতি, ফসল নষ্ট এবং অনেককে মারাত্মক হিটস্ট্রোকের ঝুঁকিতে ফেলছে।
তীব্র গরমে প্রায়ই বাইরে কাজ করা আকিয়ামা বলেন, এখন তাদের কোনো প্রকল্প শেষ করতে অনুমিত সময়ের তিন গুণ সময় লাগছে।

তিনি আরো বলেন, আমি শাবল দিয়ে টানা ১০ মিনিটের বেশি কাজ করতে পারি না, বসে বিশ্রাম নিতে হয়।

তিনি আরো বলেন, সরকার যদি নীতিমালা বাস্তবায়নে আরো উদ্যোগী হতো, তাহলে আমরা এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে পড়তাম না।

বিডিসংবাদ/এএইচএস

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

জাপানে অসাংবিধানিক জলবায়ু নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগে সরকারের বিরুদ্ধে মামলা

আপডেট সময় : ১১:১২:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫

বিডিসংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ

জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় ‘অসাংবিধানিক’ নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগে বৃহস্পতিবার জাপানের কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে শত শত মানুষ মামলা করেছেন। দেশটিতে এই প্রথম জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত ঘটনায় এ ধরনের মামলা হলো।

টোকিও থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

মামলায় জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় জাপানের প্রচেষ্টাকে ‘চরমভাবে অপর্যাপ্ত’ আখ্যা দিয়ে সমালোচনা করা হয়েছে এবং বলা হয়েছে, এর ফলে প্রায় ৪৫০ জন বাদীর স্বাস্থ্য ও জীবিকা হুমকির মুখে পড়েছে।

প্রধান আইনজীবী আকিহিরো শিমা এএফপিকে বলেন, আমরা আদালতে আমাদের অভিযোগপত্র ও প্রমাণ জমা দিয়েছি। আমাদের মামলা আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করা হয়েছে।

বাদী নির্মাণশ্রমিক কিইচি আকিয়ামা বলেন, নিরন্তর দাবদাহ তাদের কাজের গতি কমিয়ে দিয়েছে, ফলে তার ব্যবসায় বড় ধরনের ক্ষতি হচ্ছে।

৫৭ বছর বয়সি আকিয়ামা বলেন, এমন ঘটনাও ঘটেছে, যেখানে মানুষ মাঠেই অজ্ঞান হয়ে পড়েছে কিংবা বাড়ি ফেরার পর মারা গেছে।

কিয়োটো বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক মাসাকো ইচিহারা বলেন, এর আগে জাপানের আদালতে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ জলবায়ু-সংক্রান্ত পাঁচটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

তবে ইচিহারা এবং মামলার আইনজীবীরা বলেন, এটি জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে প্রথম ক্ষতিপূরণ দাবি।

অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ‘বিবাদির জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলার পদক্ষেপ চরমভাবে অপর্যাপ্ত, যার ফলে বাদীদের শান্তিপূর্ণ জীবনযাপন ও স্থিতিশীল জলবায়ুর অধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে।’

১৮৯৮ সালে রেকর্ড রাখা শুরুর পর থেকে চলতি বছর জাপান সবচেয়ে উষ্ণ গ্রীষ্ম পার করেছে। বাদীদের দাবি, এ ধরনের তাপপ্রবাহ অর্থনৈতিক ক্ষতি, ফসল নষ্ট এবং অনেককে মারাত্মক হিটস্ট্রোকের ঝুঁকিতে ফেলছে।
তীব্র গরমে প্রায়ই বাইরে কাজ করা আকিয়ামা বলেন, এখন তাদের কোনো প্রকল্প শেষ করতে অনুমিত সময়ের তিন গুণ সময় লাগছে।

তিনি আরো বলেন, আমি শাবল দিয়ে টানা ১০ মিনিটের বেশি কাজ করতে পারি না, বসে বিশ্রাম নিতে হয়।

তিনি আরো বলেন, সরকার যদি নীতিমালা বাস্তবায়নে আরো উদ্যোগী হতো, তাহলে আমরা এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে পড়তাম না।

বিডিসংবাদ/এএইচএস