তাহসিফ মৃত্যুর ঘটনা: ৩ দিনের নতুন রিমান্ডে বন্ধু দীপ
- আপডেট সময় : ০৪:৩১:১১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬
- / 0
বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা এম তাহসিফ সাউরি হত্যা মামলায় চার দিনের রিমান্ড শেষে বন্ধু আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপকে পুনরায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক ফিরোজ উদ্দিন আসামি দীপকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন জানান। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাসান শাহাদাত তিন দিনের রিমান্ড আদেশ দেন। আদালতের এই সিদ্ধান্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক ফিরোজ উদ্দিন তাকে আদালতে হাজির করে ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন।
রিমান্ড আবেদনে পুলিশের যুক্তি ও প্রাপ্ত তথ্য
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করেন, আগের চার দিনের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদকালে আসামি দীপ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। তবে ঘটনার মূল রহস্য উন্মোচনে তিনি কৌশলে একাধিক প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে গেছেন এবং নীরবতা পালন করেছেন। তার দেওয়া তথ্যের সত্যতা পুলিশ বর্তমানে গভীরভাবে যাচাই-বাছাই করছে। মূল রহস্য উন্মোচনের স্বার্থেই তাকে আবারও বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি করা প্রয়োজন বলে আদালতে জানায় তদন্তকারী দল।
পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাস্য ও রিমান্ড আবেদনের আটটি মূল কারণের মধ্যে রয়েছে
- সংগৃহীত সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে তাতে অভিযুক্ত দীপের উপস্থিতির সত্যতা যাচাই ও পর্যবেক্ষণ করা।
- ভিকটিম তাহসিফের সঙ্গে ‘নেস্ট বার অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট’-এ অবস্থানকালে দীপ কেন ১৫ থেকে ২০ মিনিটের জন্য অন্যত্র সরে গিয়েছিলেন এবং কার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন তা উদ্ঘাটন করা।
- তাহসিফ, আসামি দীপ এবং অন্যান্য জড়িতদের মোবাইল ফোনের সিডিআর (কল ডিটেইল রেকর্ড) সংগ্রহ করে বিস্তারিত পর্যালোচনা করা।
- হত্যাকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট মোটিভ বা অপরাধের কারণ উদ্ঘাটন এবং মূল অপরাধের স্থান চিহ্নিত করা।
- ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য অজ্ঞাতনামা আসামিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা।
ঘটনার পেছনের গতিবিধি ও সিসিটিভি চিত্র
জিজ্ঞাসাবাদে দীপ পুলিশকে জানান, গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টার দিকে তিনি তাহসিফকে নিজের বাসা থেকে ডেকে বের করেন। এরপর তাহসিফ, দীপ এবং মামলার আরেক সন্দিগ্ধ আসামি ১৯ বছর বয়সী জেরিকা তাসনিম দিশা একসঙ্গে বিভিন্ন স্থানে ঘুরে বেড়ান। একপর্যায়ে দিশা নিজের বাসায় ফিরে যান। পরবর্তীতে ২৮ অক্টোবর রাত ১২টা ৪০ মিনিটের দিকে তাহসিফ ও দীপ টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকায় পৌঁছান। দীপের দাবি অনুযায়ী, সেখান থেকে তুরাগ নদের তীরবর্তী একটি মাঠে পৌঁছানোর পর কয়েকজন লোককে দেখে তারা দুজন আলাদা হয়ে যান।
ঘটনাস্থল ও আশপাশের বিভিন্ন স্থানের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ২৭ অক্টোবর রাত ১০টা ১৭ মিনিটে উত্তরার ১১ নম্বর সেক্টরের ‘নেস্ট রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড বার’-এ একটি মোটরসাইকেলে চড়ে পৌঁছান তাহসিফ ও তার এক বান্ধবী।
এর কিছুক্ষণ পরই আরেকটি মোটরসাইকেলে এসে সেখানে উপস্থিত হন দীপ।
তিনটি গাড়ি পার্ক করার পর তারা তিনজনই একসাথে ভবনের ভেতরে প্রবেশ করেন। অন্য একটি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, তাহসিফ ও তার বান্ধবী লিফটের সামনে দাঁড়িয়ে দীপের অপেক্ষায় ছিলেন। হেলমেট পরা অবস্থায় দীপ পৌঁছালে তিনজনই বারের লিফটে চড়ে উপরে যান এবং সেখানে প্রায় দেড় ঘণ্টা সময় কাটান।
মরদেহ উদ্ধার ও মামলা
তদন্ত সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের তথ্যমতে, বার থেকে বের হওয়ার পর প্রথমে তাহসিফের বান্ধবীকে তার পৌঁছে দেওয়া হয়। এরপর তাহসিফ ও দীপ আবার টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকার দিকে রওনা হন। মৃত্যুর ঠিক আগ মুহূর্তে তাহসিফকে দীপ ও দিশার সঙ্গেই দেখা গিয়েছিল, ফলে উক্ত হত্যাকাণ্ডে তাদের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ কোনো সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে বিষয়টি নিয়ে তদন্তকারীদের পক্ষ থেকে এখনো কোনো মন্তব্য করা হয়নি।
উল্লেখ্য, গত ২৮ অক্টোবর বিকেলে তুরাগ নদের রাজাবাড়ী ঘাট সংলগ্ন এলাকা থেকে এম তাহসিফ সাউরির ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করে টঙ্গী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির একটি দল। এরপর ময়নাতদন্তের কার্যক্রম সম্পন্ন করতে মরদেহ শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়। এই নৃশংস ঘটনার বিচার চেয়ে ৩১ অক্টোবর তাহসিফের বাবা কে এম এনায়েতুল করিম উত্তরখান থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের অভিযুক্ত করা হয়েছিল। পরবর্তীতে তদন্তের ভিত্তিতে বন্ধু দীপকে গ্রেপ্তার দেখায় পুলিশ। বর্তমানে মামলাটি আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্ত করছে নৌ-পুলিশ। *অজ্ঞাতনামা অপর আসামিদের গ্রেফতার ও সনাক্তের লক্ষ্যে।






















