নবীগঞ্জে পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিতে হাজারো পরিবার
- আপডেট সময় : ১১:৫৭:০৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ অগাস্ট ২০১৭
- / 212
নবীগঞ্জ সংবাদদাতাঃ হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার দিনারপুর পাহাড়ি অঞ্চলে প্রায় হাজারো পরিবার জীবনের ঝুকি নিয়ে পাহাড়ের পাদদেশে বসবাস করে আসছেন। মাঝে মধ্যে অঝোর ধারায় বৃষ্টির ফলে কোন কোন সময় পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটলে ও কোন প্রাণহানি হয়নি।
কিন্তু গত ৫ বছরে হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলা ও মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গলের পাহাড়ি এলাকায় মাঠি চাপা পড়ে দুটি পরিবারের ১২ জনসহ অন্তত ৩৫ জনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। দেখা গেছে লাগাতার বৃষ্টি হলেই পাহাড় ধসের ঘটনা শুরু হয়। সিলেট বিভাগের মধ্যে হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলা ও মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলায় পাহাড় ধ্বসে মৃত্যুর ঝুঁকি অনেক বেশী রয়েছে।
সম্প্রতি সময়ে নবীগঞ্জ উপজেলার পানিউমদা গ্রামে একই পরিবারের ৬ জন এবং শ্রীমঙ্গলে একই পরিবারে ৬ জনের মৃত্যু এখনো এলাকার লোকজনদের মনে আতংক রয়েছে। এমনকি গত বছরে নভেম্বর মাসে নবীগঞ্জ উপজেলার দিনারপুরের শংকর সেনা গ্রামে পাহাড়ের মাঠি কাটতে গিয়ে মাঠি চাপা পড়ে দুইজন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। ওই ঘটনার পর থেকে পাহাড় কাটা কিছুটা বন্ধ থাকলে ও দেখা গেছে আবারো মাঝে মধ্যে পাহাড় কাটা হয়ে থাকে। পরিতাপের বিষয় হচ্ছে সম্প্রতি সময়ে পাহাড় ধসে দুই উপজেলার অন্তত ৩৫ জন লোকের প্রাণহানি ঘটলে ও এখনো পাহাড়ের পাদদেশে জীবনের ঝুকি নিয়ে অনেকে বসবাস করছেন। এলাকার সচেতন মহল মনে করেন পাহাড়ের পাদদেশে যারা বসবাস করছেন তাদের পুনর্বাসনের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে উদ্দ্যোগ গ্রহন করা অতিব জরুরী হয়ে পড়েছে। সুত্রে আরো জানা গেছে, নবীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে সরকারের আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে পাহাড়ের টিলা কেটে সাবাড় করছেন এক শ্রেনীর প্রভাবশালীরা।
গত প্রায় এক যুগে ওই দুটি উপজেলার হাজারের ও বেশী সরকারের বিভিন্ন ব্যক্তি মালিকানাধীন পাহাড়ের টিলা সম্পুর্ণ অথবা আংশিক কেটে সমান করছেন। ফলে এসব পাহাড়ের টিলা ধ্বসে মৃত্যুর ঝুঁকি দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। স্থানীয়দের সাথে আলাপকালে তারা জানান, পাহাড়ের টিলা বেশীরভাগই কাটা হয়েছে, পাহাড়ের টিলা বেশীরভাগ কাটা হয়েছে আবাসিক প্রকল্প, বানিজ্যিক মার্কেট, অথবা ব্যক্তিগত ঘর-বাড়ি তৈরি মাটি ভরাটের জন্য। এমনকি সম্প্রতি সময়ে ঢাকা- সিলেট মহসড়ক নির্মান কাজ শুরু হলে নবীগঞ্জের দিনারপুর অঞ্চলের পাহাড় কেটে সাবাড় করে মাটি নেয়া হচ্ছিল। এসব পাহাড়ের টিলা কাটার ফলে দ্্রুত গতিতে প্রাকৃতিক বিপর্যয় ঘটেছে। এতে বিলিন হচ্ছে জীব-বৈচিত্র ও পরিবর্তন হচ্ছে ভুমি মাপের।
এছাড়া পাহাড়ের টিলা কেটে পাদদেশে নির্মাণ করা হচ্ছে ঝুকিপূর্ণ বাড়ি-ঘর। ফলে বর্ষা মৌসুমে পাহাড় ধসে ঘটছে প্রাণহানি। পাহাড়ের টিলা নিধনের প্রতিবাদে এখনও নবীগঞ্জ উপজেলায় বড় ধরণের কোন আন্দোলন হয়নি। দেখা গেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাঝে মধ্যে পাহাড় কাটার মাঠি নেয়ার সময় ট্রাক ও শ্রমিকদের আটক করলে ও কোন মুহূর্তেই পাহাড় কাটা বন্ধ হচ্ছে না। কিন্তু আসল অপরাধীরা থেকে যাচ্ছে ধরাছোয়ার বাহিরে। এরই ফলে নবীগঞ্জ উপজেলার পরিবেশ পরিস্থিতি এখন হুমকির মুখে।
এমনকি বর্তমানে পরিবেশ বিপর্যয় ঠেকাতে নবীগঞ্জের দিনারপুর এলাকার শত শত পাহাড় ও টিলা রক্ষায় প্রশাসনকে এগিয়ে আসতে হবে। এ ব্যাপারে নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা তাজিনা সারোয়ার বলেন,পাহাড় কাটার খবর পেয়ে একাধিকবার অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। বর্তমানে পাহাড় কাটা বন্ধ রয়েছে। যদি পরবর্তীতে কেউ পাহাড় কাটে তাহা হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।


























