ঢাকা ০৬:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
জাতীয় সংসদের কার্য উপদেষ্টা কমিটির পঞ্চম বৈঠক অনুষ্ঠিত মধ্যবর্তী নির্বাচনে ধাক্কা খেয়ে ইরানের বিষয়ে দ্বিধায় ট্রাম্প চকরিয়ায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় শিশুসহ প্রাণ হারালেন দুইজন আর্থিক দুর্নীতির চেয়ে বুদ্ধিবৃত্তিক ক্ষতি বিচার বিভাগে বেশি: আইনমন্ত্রী সৌদি রুটে ফ্লাইট বাতিলের সময় বাড়াল ইতিহাদ ও ফ্লাইদুবাই সোনাদিয়া সমুদ্রবন্দর না হওয়ায় বড় কৌশলগত সুযোগ হারিয়েছে বাংলাদেশ অর্থমন্ত্রী -: বিগত সরকারের আমলে জিডিপি’র হিসাবে গরমিল পাওয়া গেছে ইসরাইলি নির্বাচনের ফল চ্যালেঞ্জ করে আদালতে লিকুদ পার্টি প্রকৃত সফলতার পথে মুমিনের জীবনযাপনের ৮টি মৌলিক গুণ নাশকতা ও আতঙ্ক ছড়াতে বাসে অগ্নিসংযোগ ও ককটেল বিস্ফোরণ: ডিএমপি

নিত্যপণ্যের বাজারে অস্থিরতা, লাফিয়ে বাড়ছে দাম

  • আপডেট সময় : ০১:৫১:৪৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২০
  • / 166
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বিডিসংবাদ অনলাইন ডেস্ক

চালের দাম তো বাড়ছেই৷ সেই সঙ্গে দর বেড়েছে প্রায় সব নিত্য প্রয়োজনীয় ভোগ্য পণ্যেরও৷ এজন্য দায়ী করা হচেছ বন্যা আর সিন্ডিকেটকে৷ চালের বাজার বাড়ার পিছনে দায়ী করা হচ্ছে ধানের বাড়তি দামকেও৷

করোনায় সাধারণ মানুষের জন্য আরেক দফা আপদ হয়ে এসেছে বাজারের বাড়তি দাম৷ কলাবাগানের বেসরকারি চাকরিজীবী শামসুদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘‘করোনার কারণে বেতনের ঠিক নাই৷ তার ওপর নিত্যপণ্যের দাম বাড়ায় এখন দিশেহারা অবস্থা৷ কিভাবে চলব বুঝতে পারছি না৷’’

বাজারে খোঁজ নিয়ে দেখা যায় খাবারের জন্য জরুরি যা যা দরকার তার প্রায় প্রত্যেকটিরই দাম বেড়েছে এক-দুই সপ্তাহের ভিতরে৷ বশির উদ্দিন রোডের মুদি দোকানদার মিন্টু মিয়া জানান, ‘‘সব ধরনের চালের দামই কেজিতে তিন থেকে পাঁচ টাকা বেড়েছে৷ ডিমের দাম হালিতে বেড়েছে চার টাকা৷ পেঁয়াজ, আলু, চিনি সব কিছুরই দাম বাড়তির দিকে৷ এর বাইরে তেল, দুধসহ আরো অনেক পণ্যের দাম ধীরে ধীরে বাড়ছে৷’’

উর্দ্ধমুখী মাছ, মাংসের দামও৷ এজন্য বিক্রেতারা দায়ী করছেন বন্যা আর বৃষ্টিকে৷ সবজিসহ কাঁচাবাজারেও এমন কোনো পণ্য নাই যার দাম বাড়েনি৷ বেগুন ৭০ টাকা, চিচিঙ্গা ৬০ টাকা, করলা ৭০ টাকা, পটল ৫০ টাকা, ঢেঁড়শ ৫০ টাকা, বরবটি ৭০ টাকা, টমেটো ১২০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে৷ এই দর সাধারণ সময়ের চেয়ে গড়ে ১০-১২ টাকা বেশি বলে জানান বিক্রেতারা৷

টিসিবি’র তথ্য মতে নাজিরশাইল ও মিনিকেট চাল বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৫৫ টাকা থেকে ৬৪ টাকায়, যেখানে এক সপ্তাহ আগে বিক্রি হয়েছে ৫০ টাকা থেকে ৬২ টাকায়৷ আর গতবছর একই সময়ে প্রতি কেজির দাম ছিল ৪৭-৫৬ টাকা৷ একইভাবে মাঝারি মানের পাইজাম ও লতা চাল কেজিতে তিন থেকে পাঁচ টাকা বেড়েছে৷

আর মোটা চাল প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪৪-৪৮ টাকায়৷যা এক সপ্তাহ আগে ছিলো ৪০-৪৫ টাকা৷ কিন্তু টিসিবি’র এই হিসাবের সঙ্গে বাজারের দরের তফাৎ রয়েছে৷ মিন্টু মিয়া জানান, ‘‘এখন মিনিকেট চাল ৬৮ টাকা কেজি বিক্রি হয়৷ আর মাঝারি মানে বিরি ২৮ চাল বিক্রি হয় ৫১ টাকা কেজি৷’’

আড়ৎদাররা অবশ্য দাবি করছেন তারা চালের দাম বাড়াচ্ছেন না, মিল মালিকরা বাড়াচ্ছেন৷ তাদের আগের মজুত থাকায় এবং প্রতিযোগিতার কারণে তাদের পক্ষে দাম তেমন বাড়ানো সম্ভব হয় না৷ বাবুবাজার-বাদামতলী আড়ৎদার সমিতির সাধারণ সম্পাদক নাজিম উদ্দিন বলেন, ‘‘এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে খুচরা ব্যবসায়ীরা৷ তারা বন্যা এবং বৃষ্টির অজুহাতে দাম বাড়িয়ে দিয়েছে৷’’

কিন্তু মিল মালিকরা দাবি করেছেন, ধানের দাম বেশি হওয়ায় চালের দাম বাড়াতে তারা বাধ্য হয়েছেন৷

বাংলাদেশ অটো রাইস মিল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এবিএম খোরশেদ আলম বলেন, ‘‘মোটা ধানের মন আগে এই সময়ে ছিলো ৭০০ টাকা৷ আর এই বছর এক হাজার টাকার উপরে৷ মিনিকেট ও নাজিরশাইল ধান গত বছর এই সময়ে ছিলো ৯০০ টাকা৷ আর এ বছর এক হাজার ২০০ টাকা৷”

তিনি দাবি করেন, ‘‘এবার ধানের দাম বেশির পিছনে সিন্ডিকেট আছে৷ আর সরকার ধান উৎপাদনের যে হিসাব দিচ্ছে আমার মনে হয় তা ঠিক নয়৷ তাই সরবরাহ সংকট আছে৷’’

চালের বাজার নির্ভর করে সরকারের মজুত এবং আগামি দিনের সরবরাহ পরিস্থিতির ওপর৷ সরকারি হিসাবে ১০ লাখ টন চাল মজুত থাকার কথা বলা হলেও গত বছরের তুলনায় তা চার লাখ টন কম৷ আর সরকার যে দাম নির্ধারণ করছে তাতে ধান-চাল সংগ্রহ সফল হয়নি৷

সিপিডির অর্থনীতিবিদ ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, ‘‘দীর্ঘস্থায়ী বন্যার কারণে আগামী আমন ধানে একটা নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া পড়বে৷ ফলে সব মিলিয়ে চালের সরবরাহে এবার চ্যালেঞ্জ আছে৷ তাই যথা সময়ে চাল আমদানি না করলে পরিস্থিতি খারাপ হতে পারে৷’’

বাংলাদেশে এই সময়টাতে ভোগ্য ও নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য আমদানি নির্ভর অনেকটাই৷ আর বন্যার কারণে শাক সবজিসহ আরো অনেক নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের উৎপাদন ব্যাহত করেছে৷ করোনায় সরকারকে ত্রাণ ও অন্যান্য খাতে অনেক টাকা খরচ করতে হয়েছে৷

তাই এই অর্থনীতিবিদ মনে করেন, ‘‘বাজার মনিটরিং-এর সাথে বেসরকারি পর্যায়ে ভোগ্যপণ্য আমদানিতে উৎসাহ দেয়া প্রয়োজন৷’’ ডয়চে ভেলে

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

নিত্যপণ্যের বাজারে অস্থিরতা, লাফিয়ে বাড়ছে দাম

আপডেট সময় : ০১:৫১:৪৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২০

বিডিসংবাদ অনলাইন ডেস্ক

চালের দাম তো বাড়ছেই৷ সেই সঙ্গে দর বেড়েছে প্রায় সব নিত্য প্রয়োজনীয় ভোগ্য পণ্যেরও৷ এজন্য দায়ী করা হচেছ বন্যা আর সিন্ডিকেটকে৷ চালের বাজার বাড়ার পিছনে দায়ী করা হচ্ছে ধানের বাড়তি দামকেও৷

করোনায় সাধারণ মানুষের জন্য আরেক দফা আপদ হয়ে এসেছে বাজারের বাড়তি দাম৷ কলাবাগানের বেসরকারি চাকরিজীবী শামসুদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘‘করোনার কারণে বেতনের ঠিক নাই৷ তার ওপর নিত্যপণ্যের দাম বাড়ায় এখন দিশেহারা অবস্থা৷ কিভাবে চলব বুঝতে পারছি না৷’’

বাজারে খোঁজ নিয়ে দেখা যায় খাবারের জন্য জরুরি যা যা দরকার তার প্রায় প্রত্যেকটিরই দাম বেড়েছে এক-দুই সপ্তাহের ভিতরে৷ বশির উদ্দিন রোডের মুদি দোকানদার মিন্টু মিয়া জানান, ‘‘সব ধরনের চালের দামই কেজিতে তিন থেকে পাঁচ টাকা বেড়েছে৷ ডিমের দাম হালিতে বেড়েছে চার টাকা৷ পেঁয়াজ, আলু, চিনি সব কিছুরই দাম বাড়তির দিকে৷ এর বাইরে তেল, দুধসহ আরো অনেক পণ্যের দাম ধীরে ধীরে বাড়ছে৷’’

উর্দ্ধমুখী মাছ, মাংসের দামও৷ এজন্য বিক্রেতারা দায়ী করছেন বন্যা আর বৃষ্টিকে৷ সবজিসহ কাঁচাবাজারেও এমন কোনো পণ্য নাই যার দাম বাড়েনি৷ বেগুন ৭০ টাকা, চিচিঙ্গা ৬০ টাকা, করলা ৭০ টাকা, পটল ৫০ টাকা, ঢেঁড়শ ৫০ টাকা, বরবটি ৭০ টাকা, টমেটো ১২০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে৷ এই দর সাধারণ সময়ের চেয়ে গড়ে ১০-১২ টাকা বেশি বলে জানান বিক্রেতারা৷

টিসিবি’র তথ্য মতে নাজিরশাইল ও মিনিকেট চাল বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৫৫ টাকা থেকে ৬৪ টাকায়, যেখানে এক সপ্তাহ আগে বিক্রি হয়েছে ৫০ টাকা থেকে ৬২ টাকায়৷ আর গতবছর একই সময়ে প্রতি কেজির দাম ছিল ৪৭-৫৬ টাকা৷ একইভাবে মাঝারি মানের পাইজাম ও লতা চাল কেজিতে তিন থেকে পাঁচ টাকা বেড়েছে৷

আর মোটা চাল প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪৪-৪৮ টাকায়৷যা এক সপ্তাহ আগে ছিলো ৪০-৪৫ টাকা৷ কিন্তু টিসিবি’র এই হিসাবের সঙ্গে বাজারের দরের তফাৎ রয়েছে৷ মিন্টু মিয়া জানান, ‘‘এখন মিনিকেট চাল ৬৮ টাকা কেজি বিক্রি হয়৷ আর মাঝারি মানে বিরি ২৮ চাল বিক্রি হয় ৫১ টাকা কেজি৷’’

আড়ৎদাররা অবশ্য দাবি করছেন তারা চালের দাম বাড়াচ্ছেন না, মিল মালিকরা বাড়াচ্ছেন৷ তাদের আগের মজুত থাকায় এবং প্রতিযোগিতার কারণে তাদের পক্ষে দাম তেমন বাড়ানো সম্ভব হয় না৷ বাবুবাজার-বাদামতলী আড়ৎদার সমিতির সাধারণ সম্পাদক নাজিম উদ্দিন বলেন, ‘‘এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে খুচরা ব্যবসায়ীরা৷ তারা বন্যা এবং বৃষ্টির অজুহাতে দাম বাড়িয়ে দিয়েছে৷’’

কিন্তু মিল মালিকরা দাবি করেছেন, ধানের দাম বেশি হওয়ায় চালের দাম বাড়াতে তারা বাধ্য হয়েছেন৷

বাংলাদেশ অটো রাইস মিল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এবিএম খোরশেদ আলম বলেন, ‘‘মোটা ধানের মন আগে এই সময়ে ছিলো ৭০০ টাকা৷ আর এই বছর এক হাজার টাকার উপরে৷ মিনিকেট ও নাজিরশাইল ধান গত বছর এই সময়ে ছিলো ৯০০ টাকা৷ আর এ বছর এক হাজার ২০০ টাকা৷”

তিনি দাবি করেন, ‘‘এবার ধানের দাম বেশির পিছনে সিন্ডিকেট আছে৷ আর সরকার ধান উৎপাদনের যে হিসাব দিচ্ছে আমার মনে হয় তা ঠিক নয়৷ তাই সরবরাহ সংকট আছে৷’’

চালের বাজার নির্ভর করে সরকারের মজুত এবং আগামি দিনের সরবরাহ পরিস্থিতির ওপর৷ সরকারি হিসাবে ১০ লাখ টন চাল মজুত থাকার কথা বলা হলেও গত বছরের তুলনায় তা চার লাখ টন কম৷ আর সরকার যে দাম নির্ধারণ করছে তাতে ধান-চাল সংগ্রহ সফল হয়নি৷

সিপিডির অর্থনীতিবিদ ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, ‘‘দীর্ঘস্থায়ী বন্যার কারণে আগামী আমন ধানে একটা নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া পড়বে৷ ফলে সব মিলিয়ে চালের সরবরাহে এবার চ্যালেঞ্জ আছে৷ তাই যথা সময়ে চাল আমদানি না করলে পরিস্থিতি খারাপ হতে পারে৷’’

বাংলাদেশে এই সময়টাতে ভোগ্য ও নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য আমদানি নির্ভর অনেকটাই৷ আর বন্যার কারণে শাক সবজিসহ আরো অনেক নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের উৎপাদন ব্যাহত করেছে৷ করোনায় সরকারকে ত্রাণ ও অন্যান্য খাতে অনেক টাকা খরচ করতে হয়েছে৷

তাই এই অর্থনীতিবিদ মনে করেন, ‘‘বাজার মনিটরিং-এর সাথে বেসরকারি পর্যায়ে ভোগ্যপণ্য আমদানিতে উৎসাহ দেয়া প্রয়োজন৷’’ ডয়চে ভেলে