নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হলেও দপ্তর নেই গুইমারা উপজেলা চেয়ারম্যানের
- আপডেট সময় : ০৯:৫৮:০১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৯ জুন ২০১৭
- / 338
খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি: নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হলেও এখনো বসার স্থান হয়নি গুইমারা উপজেলা চেয়ারম্যান উশ্যেপ্রু মারমা। ফলে ব্যাহত হচ্ছে দাপ্তরিক কার্যক্রম। ফলে সেবা বঞ্চিত হচ্ছে সাধারণ মানুষ। বিগত ৬ মার্চ ২০১৭ তারিখে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে আওয়ামীলীগ,বিএনপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থী চেয়ারম্যান প্রার্থী হওয়ার পর সাধারণ জনগণের ভোটে নির্বাচিত হওয়ার ৪ মাস অতিবাহিত হয়ে চললেও এখন দপ্তরহীন ভাবেই ঘুড়ে বেড়াচ্ছেন গুইমারা উপজেলা চেয়ারম্যান।
অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বর্তমান ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগের প্রার্থী মেমং মারমা নৌকা প্রতিকে ৫ হাজার ৭শ ৬৯ ভোট,বিএনপি প্রার্থী মো: ইউসুফ ধানের শীষ প্রতিকে ৩ হাজার ৮শ ৫৫ ভোট পেয়ে পরাজিত হয়। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আনারস প্রতিক নিয়ে উশ্যেপ্রু মারমা ৬ হাজার ৮শ ৯৫ ভোট পেয়ে জয় লাভ করলেও জনপ্রতিনিধি হিসেবে দপ্তরের চেয়ারে বসার ভাগ্য হয়নি তার। এখনও তিনি উপজেলার এ প্রান্ত থেকে ঐ প্রান্তে ছুটে চলেছেন। তারপরও দেখার কেউ নেই।
বিগত ৬ মার্চ ২০১৭ তারিখ নির্বাচিত হওয়ার পর গত ৪ এপ্রিল শপথ গ্রহণ করেন তিনি। ৬ এপ্রিল ক্ষমতা হস্থান্তর ও ২০ এপ্রিল আনুষ্ঠানিক ভাবে সরকারী গাড়ী বুজে পান এই নবসৃষ্ট গুইমারা উপজেলা চেয়ারম্যান উশ্যেপ্রু মারমা। উপজেলাবাসীরা তাদের পচন্দের প্রার্থী বাছাই করলেও নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে তাদের সে প্রত্যাশা পুরণে এখন বড় বাঁধা হয়ে দাড়িয়েছে সু-নিদিষ্ট দপ্তর ও বসার স্থান।
গুইমারা সাধারণ উপজেলাবাসী উলাপ্রু মারমা,আফজাল,হরি মোহন ত্রিপুরার বলেন, নির্বাচনে চেয়ারম্যান নির্বাচিত করলেও তাদের সেই চেয়ারম্যানের কাজ থেকে কাঙ্খিত সেবা পাওয়া এখনো সোনার হরিণের মতই অধরা। চেয়ারম্যানকে পথে পথে খুজে বেড়াতে হয়। নিদিষ্ট কোন বসার স্থান না থাকার ফলে সেবার স্থলে এখন সেবা বঞ্চিত হচ্ছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
তাই দ্রুত উপজেলা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য দপ্তর ও উপজেলা চেয়ারম্যানের বসার ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতা কামনা করেন। স্বার্থের হানাহানিতে যাতে সাধারণ মানুষ বলি না হয় সে দিকে সকলকে নজর দিলে সুষ্ঠ সমাধান দুরে নয় বলেও মন্তব্য করেন সচেতন উপজেলাবাসী।
এ নিয়ে খাগড়াছড়ির সিনিয়র সাংবাদিক,গুইমারা প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও বর্তমান গুইমারা উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি সাংবাদিক নুরুল আলম বলেন, একজন উপজেলা চেয়ারম্যান দপ্তরের অভাবে বসতে না পাড়াটা ব্যর্থতা। এর দায় সংশ্লিষ্টরা এড়াতে পারে না। কারণ দলমত নির্বিশেষে স্থানীয় সকলের সদ্য ইচ্ছা থাকলে সাধারণ জনগণ তাদের সেবা বঞ্চিত হবে না। আর এই চেয়ারম্যান আমাদের এ উপজেলারই সন্তান। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও এ বিষয়টি নজর দেয়ার উপর তিনি গুরুত্বরোপ করেন।
গুইমারা উপজেলা চেয়ারম্যান উশেপ্রু মারমা বলেন, আমি নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি যাদের ভোটে হয়েছি তারাই আজ সেবা বঞ্চিত। কারণ দপ্তর আর বসার কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। আমি দলমত নির্বিশেষে সকলের সহযোগিতা চাই। সেবাই আমার মুল লক্ষ। এ জন্য সংশ্লিষ্টদের সুদৃষ্টি থাকলে খুব দ্রুতই তা সমাধান সম্ভব বলে তিনি মন্তব্য করেন। এদিকে খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক রাশেদুল ইসলাম এর মুঠোফোনে বার বার কল দিয়েও এ বিষয়ে কথা বলা সম্ভব হয়নি।


























