বাকেরগঞ্জে গৃহবধূর মৃত্যু: দুই শিশুর পাশে দাঁড়ালেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা
- আপডেট সময় : ১২:৫৯:৫৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 22
বরিশালের বাকেরগঞ্জে যৌতুকের দাবিতে স্বামী সোহেল সিকদারের অমানুষিক নির্যাতনের শিকার হয়ে প্রাণ হারানো জান্নাতুল মাওয়া মুক্তা আক্তারের দুই এতিম শিশু সন্তান সাফওয়ান (৫) ও তাসফিয়া (৪)-এর পাশে দাঁড়িয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিলটন চন্দ্র পাল। মর্মান্তিক এই ঘটনার খবর পেয়ে সোমবার দুপুরে তিনি উপজেলার দুধল ইউনিয়নের পশ্চিম সরসী গ্রামে নিহতের বাবার বাড়িতে যান। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন শরশী পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ ওসি আবদুস সালাম, উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব কামরুজ্জামান মিজান, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামান এবং উপজেলা যুবদল আহ্বায়ক এনায়েত হোসেন খান বিপু।
নিহতের বাড়িতে পৌঁছে ইউএনও শোকসন্তপ্ত মা এবং দুই শিশুকে জড়িয়ে ধরে সান্ত্বনা দেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে তিনি শিশু দুটির জন্য খাদ্যসামগ্রী ও নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান করেন। এ সময় অবুঝ দুই শিশু ডুকরে কেঁদে উঠে জানায়, তাদের বাবাই মাকে মেরে ফেলেছে। শিশুদের এই করুণ আর্তি ও স্বজনদের আহাজারিতে এলাকায় হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
ঘটনার বিষয়ে ইউএনও মিলটন চন্দ্র পাল বলেন, মিথ্যা অপবাদ ও যৌতুকের লোভে মুক্তাকে অন্যায়ভাবে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে। তিনি দৃঢ়ভাবে জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি যেন কোনোভাবেই আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে পার না পায়, সেজন্য তার সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসন নিহতের পরিবারের পাশে থাকবে।
উল্লেখ্য, গত ২ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে পারিবারিক কলহ ও যৌতুকের দাবিতে সোহেল তার স্ত্রী মুক্তার ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালায়। ঘাতক সোহেল সেই নির্যাতনের লোমহর্ষক ভিডিও ধারণ করে মুক্তার ভাই তারেক হাওলাদারের মোবাইলে পাঠিয়ে হুমকি দেয়। ভাই তারেক বোনকে না মারার জন্য আকুতি জানালেও শেষ রক্ষা হয়নি; মারধরের একপর্যায়ে মুক্তা মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সেখানে পৌঁছে তিনি নিহতের বুকফাটা কান্নায় ভেঙে পড়া মুক্তার মা এবং অনাথ দুই শিশু সন্তান—সাফওয়ান (৫) ও তাসফিয়া (৪)-কে জড়িয়ে ধরে সমবেদনা জানান।




















