মাদকবিরোধী অভিযানে হাজারো মানুষ হত্যা করেছেন দুতার্তে: আইসিসি প্রসিকিউটর
- আপডেট সময় : ১০:৫৮:২১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / 57
বিডিসংবাদ অনলাইন ডেস্ক:
ফিলিপাইনের সাবেক প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুতার্তে তার মাদকবিরোধী অভিযানে হাজারো মানুষকে হত্যা করেছেন বলে অভিযোগ তুলেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) প্রসিকিউটররা।
দ্য হেগ থেকে এএফপি জানায়, শুক্রবার নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংক্রান্ত শুনানির সমাপনী দিনে প্রসিকিউটর জুলিয়ান নিকোলস বলেন, ‘তিনি তার হত্যাকাণ্ড নিয়ে গর্বিত। তিনি চান এভাবেই তাকে মনে রাখা হোক।’
নিকোলস আরও বলেন, ‘দশকের পর দশক ধরে নিজ দেশের মানুষদের, ফিলিপাইনের শিশুদের হত্যা চলেছে। তিনি বলেন, দেশের জন্যই সব করেছেন। কিন্তু তিনি হত্যার কথা অস্বীকার করেন না।’
প্রসিকিউশনের অভিযোগ, প্রেসিডেন্ট হওয়ার আগে দাভাও সিটির মেয়র থাকাকালে দুতার্তে একটি ‘ডেথ স্কোয়াড’ পরিচালনা করতেন, যা তিনি নিজেই গঠন করেছিলেন এবং দুই দশকের বেশি সময় ধরে পরিচালনা করেন। প্রেসিডেন্ট হওয়ার সময়ও তিনি হাজার হাজার মানুষ হত্যার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন এবং তা বাস্তবায়ন করেন।
সপ্তাহজুড়ে তিন বিচারকের একটি প্যানেল প্রসিকিউশন, ডিফেন্স এবং ভুক্তভোগীদের প্রতিনিধিদের বক্তব্য শুনেছেন। তারা সিদ্ধান্ত নেবেন, মামলাটি পূর্ণাঙ্গ বিচারে যাবে কি না।
দুতার্তে আদালতকক্ষে উপস্থিত ছিলেন না। তার আইনজীবীরা দাবি করেছেন, অসুস্থতার কারণে তিনি হাজির হতে পারেননি। তবে ভুক্তভোগীদের পক্ষ বলছে, নিহতদের স্বজনদের মুখোমুখি হতে না চাওয়ায় তিনি অনুপস্থিত।
দাভাও সিটির মেয়র এবং পরে প্রেসিডেন্ট থাকাকালে পরিচালিত তথাকথিত ‘মাদকবিরোধী যুদ্ধ’ ঘিরে দুতার্তের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের তিনটি অভিযোগ আনা হয়েছে।
প্রসিকিউশন ৭৬টি হত্যাকাণ্ডের নির্দিষ্ট ঘটনা উপস্থাপন করেছে, যেগুলোকে তারা হাজারো হত্যার একটি ‘প্রতীকী অংশ’ বলে উল্লেখ করেছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, নিহতের সংখ্যা কয়েক হাজার।
প্রতিরক্ষা পক্ষ বলেছে, দুতার্তের সঙ্গে সরাসরি কোনো হত্যাকাণ্ডের প্রমাণ নেই।
ভুক্তভোগীদের আইনজীবী গিলবার্ট আন্দ্রেস বলেন, প্রতিরক্ষা পক্ষের বক্তব্য তাদের কাছে এমন মনে হয়েছে যেন ‘নিহতদের স্বজনদের মতো তাদেরও আবার হত্যা করা হচ্ছে।’ তিনি অভিযোগগুলো বহাল রেখে পূর্ণাঙ্গ বিচার শুরুর আহ্বান জানান, যাতে ভুক্তভোগীরা ন্যায়বিচার পান।
শুনানি শেষে বিচারকরা লিখিত রায় দেওয়ার জন্য সর্বোচ্চ ৬০ দিন সময় পাবেন। তারা সব অভিযোগ বহাল রেখে বিচার শুরু করতে পারেন, কিছু অভিযোগ বাতিল করতে পারেন, অথবা পুরো মামলাই খারিজ করে দিতে পারেন। সে ক্ষেত্রে দুতার্তে মুক্তি পাবেন।
বিডিসংবাদ/এএইচএস


























