ঢাকা ০২:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ঢাকা-চট্টগ্রামসহ বড় এলাকায় জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ বিপর্যয় ঢাকা ও চট্টগ্রামের একাংশে হঠাৎ বিদ্যুৎ বিপর্যয় ভোলায় বসতভিটার ট্যাক্স আদায়ের নামে প্রতারণার অভিযোগে গ্রেপ্তার ২ সীতাকুণ্ডে লরির ধাক্কায় দাঁড়িয়ে থাকা বাসের ৫ যাত্রী নিহত হুতি হামলায় রিয়াদের কিং খালিদ বিমানবন্দরে ৪ হাজার ফ্লাইট বাতিল মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে করপোরেট অনুদান ২৭৭ কোটি ডলার: শীর্ষে ইলন মাস্ক উখিয়ায় রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে ১০ মৃত্যু: উখিয়া থানার ওসিকে আদালতে তলব দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদারে একমত বাংলাদেশ ও জাপান অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে বাংলাদেশ ও জাপানের নতুন অংশীদারত্ব জাপানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে শীর্ষ বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

মির্জা ফখরুল খালেদা জিয়ার চিকিৎসা নিয়ে যা বলেছেন তা মিথ্যা ও ভিত্তিহীন : আইনমন্ত্রী

  • আপডেট সময় : ০৭:৩৬:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ অক্টোবর ২০২৩
  • / 121
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বিডিসংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসা নিয়ে যা বলেছেন তা সব মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।
আজ সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন আইনমন্ত্রী। এ সময় ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস ও আইন সচিব মোঃ গোলাম সারোয়ার উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনটি করা হয় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে। গতকাল মঙ্গলবার মির্জা ফখরুল বলেছিলেন, আইনমন্ত্রী একসময় বলেছিলেন দ- স্থগিত করে খালেদা জিয়াকে বাসায় থাকতে দেয়ার ক্ষমতা সরকারের নেই। অথচ তার কিছুদিন পর খালেদা জিয়া বাসায় এসেছিলেন। আজ আইনমন্ত্রী বলেন, মির্জা ফখরুলের এই বক্তব্য মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। কোথাও এমন কথা আমি বলিনি। আমি ২০১৬ সাল থেকে এ পর্যন্ত দেয়া বক্তব্যে কখনও আইনের বাইরে কোন কথা বলিনি।
আইনমন্ত্রী বলেন, একজন আইনজীবী হিসেবে আমি সংবিধান ও ফৌজদারী কার্যবিধি জানি। বিএনপি মহাসচিবকে সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ তথ্য বলার আহ্বান জানান আইনমন্ত্রী।
চিকিৎসার জন্য খালেদা জিয়ার বিদেশে যাওয়ার আইনি কোনো সুযোগ আছে কি না এ প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তার ক্ষমতা প্রয়োগ করে ফেলেছেন। পুনরায় এ ক্ষমতা প্রয়োগের আর কোনো সুযোগ নেই। রাষ্ট্রপতির কাছে তারা ক্ষমা চাইতে যাবে কি না সে পরামর্শ আমি দিতে চাই না। তবে রাষ্ট্রপতির ক্ষমা ছাড়া আর কোনো সুযোগ নেই।
রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমতা চাইতে হলে খালেদা জিয়াকে দোষ স্বীকার করে আবেদন করতে উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা চাওয়া সাংবিধানিক অধিকার। খালেদা জিয়া চাইলে ক্ষমা চেয়ে সাজা মওকুফ করার জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে আবেদন করতে পারেন।
আ স ম আবদুর রব ও হাজী সেলিম দ-প্রাপ্ত হওয়ার পরও তাদের দুজনকে বিদেশ যাওয়ার সুযোগ দিয়েছে সরকার। এ বিষয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, আবদুর রবকে মুক্তি দেয়া হয় সামরিক শাসন চলাকালে। তাকে ফৌজদারি কার্যবিধির ক্ষমতাবলে মুক্তি দেয়া হয়নি। আর হাজী সেলিমের দ-াদেশ বহাল থাকার পর তিনি আপিল করেন। আপিল করার পর হাইকোর্ট বিভাগ থেকে নির্দেশ দেয়া হয় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আত্মসমর্পণ করতে। তিনি ওই সময়ের আগেই দেশে চলে আসেন।
আইনমন্ত্রী বলেন,খালেদা জিয়ার ব্যাপারে আইনে কোথাও বলা নেই বিদেশে গিয়ে চিকিৎসা নেয়ার। তাকে শর্তযুক্ত মুক্তি দেয়া হয়। তাতে বলা আছে, বিদেশে যেতে পারবেন না। তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার বিদেশে গিয়ে চিকিৎসা নেয়ার বিষয়টি রাজনৈতিক নয়। এটি আইনি বিষয়।
আইনমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে কোনো শর্ত দেয়া হয়নি। তার বিদেশে যাওয়ার সময় কোনো শর্ত ছিল না। তাকে অনুমতি নিতে হয়নি।আনিসুল হক বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা ১/১১ পরবর্তী সময়ে তার বিরুদ্ধে আনা মামলায় জামিন লাভ করে বিদেশ গিয়েছিলেন।
আনিসুল হক বলেন, খালেদা জিয়ার বিদেশে চিকিৎসার জন্য মতামত রাজনৈতিক প্রতিহিংসা নয়, আইনি প্রয়োগ। তিনি বলেন, খালেদা জিয়াকে তার পরিবারের আবেদনের প্রেক্ষিতে চিকিৎসার জন্য শর্তযুক্ত মুক্তি দেয়া হয়েছে। যা এখনো অব্যাহত রয়েছে। ফৌজদারী কার্যবিধির ৪০১ এর (১) ক্ষমতাবলে সরকারের নির্বাহী আদেশে সেটা পাসড অ্যান্ড ক্লোজড হয়ে গেছে। সেটা খোলার আর কোনো অবকাশ নেই।

বিডিসংবাদ/এএইচএস

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

মির্জা ফখরুল খালেদা জিয়ার চিকিৎসা নিয়ে যা বলেছেন তা মিথ্যা ও ভিত্তিহীন : আইনমন্ত্রী

আপডেট সময় : ০৭:৩৬:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ অক্টোবর ২০২৩

বিডিসংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসা নিয়ে যা বলেছেন তা সব মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।
আজ সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন আইনমন্ত্রী। এ সময় ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস ও আইন সচিব মোঃ গোলাম সারোয়ার উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনটি করা হয় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে। গতকাল মঙ্গলবার মির্জা ফখরুল বলেছিলেন, আইনমন্ত্রী একসময় বলেছিলেন দ- স্থগিত করে খালেদা জিয়াকে বাসায় থাকতে দেয়ার ক্ষমতা সরকারের নেই। অথচ তার কিছুদিন পর খালেদা জিয়া বাসায় এসেছিলেন। আজ আইনমন্ত্রী বলেন, মির্জা ফখরুলের এই বক্তব্য মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। কোথাও এমন কথা আমি বলিনি। আমি ২০১৬ সাল থেকে এ পর্যন্ত দেয়া বক্তব্যে কখনও আইনের বাইরে কোন কথা বলিনি।
আইনমন্ত্রী বলেন, একজন আইনজীবী হিসেবে আমি সংবিধান ও ফৌজদারী কার্যবিধি জানি। বিএনপি মহাসচিবকে সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ তথ্য বলার আহ্বান জানান আইনমন্ত্রী।
চিকিৎসার জন্য খালেদা জিয়ার বিদেশে যাওয়ার আইনি কোনো সুযোগ আছে কি না এ প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তার ক্ষমতা প্রয়োগ করে ফেলেছেন। পুনরায় এ ক্ষমতা প্রয়োগের আর কোনো সুযোগ নেই। রাষ্ট্রপতির কাছে তারা ক্ষমা চাইতে যাবে কি না সে পরামর্শ আমি দিতে চাই না। তবে রাষ্ট্রপতির ক্ষমা ছাড়া আর কোনো সুযোগ নেই।
রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমতা চাইতে হলে খালেদা জিয়াকে দোষ স্বীকার করে আবেদন করতে উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা চাওয়া সাংবিধানিক অধিকার। খালেদা জিয়া চাইলে ক্ষমা চেয়ে সাজা মওকুফ করার জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে আবেদন করতে পারেন।
আ স ম আবদুর রব ও হাজী সেলিম দ-প্রাপ্ত হওয়ার পরও তাদের দুজনকে বিদেশ যাওয়ার সুযোগ দিয়েছে সরকার। এ বিষয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, আবদুর রবকে মুক্তি দেয়া হয় সামরিক শাসন চলাকালে। তাকে ফৌজদারি কার্যবিধির ক্ষমতাবলে মুক্তি দেয়া হয়নি। আর হাজী সেলিমের দ-াদেশ বহাল থাকার পর তিনি আপিল করেন। আপিল করার পর হাইকোর্ট বিভাগ থেকে নির্দেশ দেয়া হয় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আত্মসমর্পণ করতে। তিনি ওই সময়ের আগেই দেশে চলে আসেন।
আইনমন্ত্রী বলেন,খালেদা জিয়ার ব্যাপারে আইনে কোথাও বলা নেই বিদেশে গিয়ে চিকিৎসা নেয়ার। তাকে শর্তযুক্ত মুক্তি দেয়া হয়। তাতে বলা আছে, বিদেশে যেতে পারবেন না। তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার বিদেশে গিয়ে চিকিৎসা নেয়ার বিষয়টি রাজনৈতিক নয়। এটি আইনি বিষয়।
আইনমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে কোনো শর্ত দেয়া হয়নি। তার বিদেশে যাওয়ার সময় কোনো শর্ত ছিল না। তাকে অনুমতি নিতে হয়নি।আনিসুল হক বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা ১/১১ পরবর্তী সময়ে তার বিরুদ্ধে আনা মামলায় জামিন লাভ করে বিদেশ গিয়েছিলেন।
আনিসুল হক বলেন, খালেদা জিয়ার বিদেশে চিকিৎসার জন্য মতামত রাজনৈতিক প্রতিহিংসা নয়, আইনি প্রয়োগ। তিনি বলেন, খালেদা জিয়াকে তার পরিবারের আবেদনের প্রেক্ষিতে চিকিৎসার জন্য শর্তযুক্ত মুক্তি দেয়া হয়েছে। যা এখনো অব্যাহত রয়েছে। ফৌজদারী কার্যবিধির ৪০১ এর (১) ক্ষমতাবলে সরকারের নির্বাহী আদেশে সেটা পাসড অ্যান্ড ক্লোজড হয়ে গেছে। সেটা খোলার আর কোনো অবকাশ নেই।

বিডিসংবাদ/এএইচএস