স্বীকৃতি পাননি চট্টগ্রামের শহীদ মুক্তিযোদ্ধা নারায়ণ
- আপডেট সময় : ০২:৩২:৫৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ মার্চ ২০১৭
- / 464
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
স্বাধীনতার ৪৫ বছর পরও মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পাননি চট্টগ্রামের রাউজানের শহীদ মুক্তিযোদ্ধা স্বর্গীয় নারায়ন চন্দ্র বোস। মুক্তিযোদ্ধার খাতায় ঠাই হয়নি তার পরিবারের নাম। মেলেনি মুক্তিযোদ্ধা পরিবেিরর স্বীকৃতি।
১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীনের আন্দোলনে বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে মহান মুক্তিযোদ্ধে অংশ গ্রহন করে সম্মুখ সমরে থেকে পাক খানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করে হানাদার বাহীনির গুলিতে শহীদ হন স্বর্গীয় নারায়ন চন্দ্র বোস নামের এই মহান মুক্তিযোদ্ধা। কিন্তু স্বাধীনতার ৪৫ বছর পরও এই শহীদের মেলেনি মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি। মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের তালিকা থেকে বারবারেই উপেক্ষিত থেকে গেল নারায়ন চন্দ্র বোসের পরিবার।
স্বাধীনতার পর থেকে দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবার আজ যখন বর্তমান সরকারের আমলেমূল্যায়িত হচ্ছে প্রধান মন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা আলাদা মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রনালয় গঠন করে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের পূর্ণবাসন করছে ঠিক সেই সময়ে এসে ও স্বাধীনতা সংগ্রামে শহীদ হওয়া স্বর্গীয় নারায়ন চন্দ্র বোসের পরিবার চির অবহেলিত থেকে গেছে। বর্তমানে এই শহীদ মুক্তিযুদ্ধা পরিবারটি কঠিন সংগ্রামের মূখে অর্ধাহারে অনাহারে মানবেতর জীবন যাপন করছে।
জানাগেছে চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার ১৪ নং বাগোয়ান ইউনিয়নের কোয়েপাড়া গ্রামের বাসিন্দা স্বর্গীয় রজনী চন্দ্র বোসের ছেলে স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহন কারী শহীদ স্বর্গীয় নারায়ন চন্দ্র বোস ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যোদ্ধের সময় বোয়ালখালী উপজেলার কানুনগোপাড়ায় ড. স্যার আশুতোষ কলেজের অফিস সহকারী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তৎকালীন কলেজ অধ্যক্ষ স্বর্গীয় শান্তিময় খাস্তগীরের সাথে বসবাস করতেন। ১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার ডাক দিলে স্বর্গীয় নারায়ন চন্দ্র বোস এবং কলেজ অধ্যক্ষ ছাত্র ও কলেজের শিক্ষকদের ট্রেনিং নেওয়ার জন্য ভারতে পাঠিয়ে দেন। তারা ভারত থেকে ট্রেনিং নিয়ে আসলে স্বর্গীয় নারায়ন চন্দ্র বোস ও কলেজ অধ্যক্ষ শান্তিময় খান্তগীর ছাত্র ও শিক্ষকদের আশ্রয়দেন এবং আর্থিক সহ বিভিন্ন সহযোগিতা করেন। আর তখনই পাক খানাদার বাহিনী এ খবর জানতে পেরে ১৯৭১ সালের ৩১ শে জুলাই ভোর বেলায় অধ্যক্ষের বাসায়স্বর্গীয় নারায়ণ চন্দ্র বোস ও স্বর্গীয় শান্তিময় খাস্তগীরকে এক সঙ্গে গুলিতে হত্যা করেন।
শহীদ স্বর্গীয় নারায়ন চন্দ্র বোস মহান স্বাধীনতা যোদ্ধে পাক হানাদার বাহিনীর গুলিতে নিহত হওয়ার ঘটনাটি প্রত্যক্ষ ভাবে দেখেন ১৯৭২ সালে তৎকালিন স্যার আশুতোষ কলেজের অধ্যক্ষ, কানুনড়োপাড়া ড: বি, বি, হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও মুক্তিযোদ্ধ কালিন বাংলাদেশ মুক্তি বাহিনী বোয়ালখালী কানুনগোপাড়ার কমান্ডার (গ্রুপ নং-৩২) আবুল কালাম। তারা স্বর্গীয় নারায়ন চন্দ্র বোস যে একজন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা এবং পাক হানাদার বাহিনীর গুলিতে শহীদ হয়েছেন সে বিষয়টির সনদ দেন।
এদিকে নারায়ন চন্দ্র বোসের ছেলে স্বপন কান্তি বোস বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রিয় কমান্ড কাউন্সিলের আহব্বায়ক বরাবরে দেয়া আবেদনে জানান মহান স্বাধীনতা যোদ্ধে অংশগ্রহনকরে আমার পিতা পাক হানাদার বাহিনীর গুলিতে শহীদ হলেন কিন্তু স্বাধীনতার ৪৫ বছর অতিবাহিত হল এর পরও আমার পিতা নারায়ন চন্দ্র বোস এখনো পায়নি মুক্তিযোদ্ধার স্বীকিৃতি। আমরা পেলাম না মুক্তিযোদ্ধ পরিবারের সম্মান। তিনি আরো জানান বর্তমানে সরকার মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের তালিকা প্রস্তুত করার জন্য আবার সময় বাড়িয়েছেন। এ সময়ে হলে ও তার পিতার নাম শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় অর্ন্তভূক্তি করার জন্য মাননীয় প্রধান মন্ত্রী ও মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রীর কাছে আকুল আবেদন জানান।


























