হজ ও ওমরাহকে ঘিরে নতুন রূপে ফিরছে মালয়েশিয়ার রায়ানি
- আপডেট সময় : ১১:২২:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 13
প্রায় ১০ বছরের বিরতি কাটিয়ে মালয়েশিয়ার আকাশসীমায় আবারো ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছে দেশটির প্রথম হালালভিত্তিক বিমান সংস্থা রায়ানি এয়ার। এবার নিয়মিত বাণিজ্যিক ফ্লাইট পরিচালনার পরিবর্তে প্রতিষ্ঠানটি সম্পূর্ণ ভিন্ন কৌশল নিয়ে মাঠে নামছে। নতুন উদ্যোগের নাম দেওয়া হয়েছে ‘রায়ানি এয়ার ২.০ হালাল’, যা মূলত হজ ও ওমরাহ পালন করতে যাওয়া মুসলিম তীর্থযাত্রীদের বিশেষ সেবা প্রদানের দিকে নজর দেবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৭ সালে একটি এয়ারবাস এ৩৩০-৩০০ মডেলের উড়োজাহাজ দিয়ে তারা নতুন করে কার্যক্রম শুরুর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। মূলত চার্টার ফ্লাইট বা বিশেষ মৌসুমি ফ্লাইট পরিচালনার মাধ্যমেই এই লক্ষ্য বাস্তবায়িত হবে।
এর আগে ২০১৫ সালে যাত্রা শুরু করে রায়ানি এয়ার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছিল। সে সময় তারা তাদের হালাল নীতি, যেমন বিমানে মদ ও শূকরের মাংস নিষিদ্ধ রাখা এবং ধর্মীয় রীতি মেনে সেবা প্রদানের জন্য ব্যাপক পরিচিতি পেয়েছিল। তবে সেবার নিয়মিত অভ্যন্তরীণ রুটে ফ্লাইট চালু করার এক বছরের মাথায় ২০১৬ সালে মালয়েশিয়ার বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রক সংস্থার কড়াকড়িতে তাদের এয়ার অপারেটর সার্টিফিকেট স্থগিত করা হয়। নিরাপত্তা ও পরিচালনাগত বিভিন্ন ঘাটতির কারণে তাদের কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। এবারের নতুন মডেলে তারা তীর্থযাত্রীদের চাহিদাকে কাজে লাগিয়ে বাজারের নির্দিষ্ট একটি অবস্থানে জায়গা করে নিতে চায়।
তবে পুনরায় ফিরে আসার পথটি রায়ানি এয়ারের জন্য সহজ হবে না। কারণ, মালয়েশিয়ার হজ ও ওমরাহ পরিবহনের বাজারে আগে থেকেই শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে মালয়েশিয়া এয়ারলাইনসের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ‘আমাল’। তাদের বড় আকারের উড়োজাহাজবহর এবং হজ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে সুদীর্ঘ ব্যবসায়িক সম্পর্ক রায়ানি এয়ারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। এছাড়া প্রস্তাবিত এই কার্যক্রম শুরুর আগে মালয়েশিয়ার সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের অনুমতি ও নিরাপত্তা সনদ নতুন করে অর্জন করতে হবে।
এখন পর্যন্ত মালয়েশিয়ার বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ এবং লেম্বাগা তাবুং হাজি এই প্রকল্প নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া বা মন্তব্য করেনি। রায়ানি এয়ারের পুনরায় আকাশে ওড়ার বিষয়টি পুরোপুরি নির্ভর করছে নিয়ন্ত্রক সংস্থার শর্তপূরণ এবং সব ধরনের সরকারি অনুমোদনের ওপর। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে এবং আইনি জটিলতা নিরসন হলে, ২০২৭ সালেই হয়তো তীর্থযাত্রীদের সেবায় নতুন রূপে দেখা মিলতে পারে রায়ানি এয়ারের।























