ঢাকা ০৪:৫৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ভুটানকে হারিয়ে জয় দিয়ে সাফ মিশন শুরু বাংলাদেশের সাঁথিয়ায় ভাগ্নিকে নিরাপত্তা ঘটনায়: মামা আটক ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’-এর দ্বিতীয় আসর উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী রিয়াদ বিমানবন্দরে হুতি হামলায় আহত আরও এক ভারতীয়র প্রয়াণ ষড়যন্ত্রের ফণা তুলেছে স্বৈরাচারী শক্তি: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান খুলনায় ২৫ মাসে ২২৫ মৃত্যুর ঘটনা: অপরাধের স্বর্গরাজ্যে আতঙ্কিত জনজীবন শাহজালাল তৃতীয় টার্মিনাল পরিচালনায় জাপানি কনসোর্টিয়ামের বড় অংশীদারত্ব খুলনায় প্রধানমন্ত্রীর সফরের মধ্যে বিএনপি নেতার ছেলেকে মৃত্যুর ঘটনায় বিনা জামানতে ঋণ দেওয়ার নামে প্রতারণা, সতর্ক করল বাংলাদেশ ব্যাংক সাতক্ষীরায় সড়ক দুর্ঘটনায় ভারসাম্যহীন নারীর মৃত্যু

১ কেজি চিনির উৎপাদন ব্যয় ৫৪২ টাকা

  • আপডেট সময় : ০১:০৮:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০২৪
  • / 178
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বিডিসংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ

ঝিনাইদহের মোবারকগঞ্জ চিনিকলের (মোচিক) সরকারি ভ্যাট ও ব্যাংকের সুদ দিয়ে প্রতি কেজি চিনি উৎপাদন ব্যয় হচ্ছে ৫৪২ টাকা। এর আগে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে প্রতি কেজি চিনিতে ৪১৭ টাকা লোকসান দিয়ে শুরু করে আখ মাড়াই।

তথ্য মতে, গত মাড়াই মৌসুমে চিনি উৎপাদন হার ছিল অন্য অর্থবছরের থেকে অনেক কম। গত অর্থবছরে ২৫’শ টন চিনি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও অর্জিত হয় মাত্র ১৮’শ ৭১ মেট্রিক টন। এছাড়া মিলটিতে অপারেশনাল লস দেখানো হয়েছে ৩৪ কোটি ও ব্যাংক ঋণের সুদ দেখানো হয়েছে ৩৬ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে ৭০ কোটি টাকা লোকসানের বোঝা আর ৩৫০ কোটি টাকা ব্যাংকের দেনা মাথায় নিয়ে আবার আখ মাড়াই মৌসুম উদ্বোধন করা হয়েছে।

শুক্রবার (১৩ ডিসেম্বর) বিকেলে মোবরাকগঞ্জ চিনিকলে আড়ম্বর করে ৫৮তম মাড়াই মৌসুম শুরু করা হয়।

মোবরাকগঞ্জ চিনিকলের তথ্য মতে, ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ শহর সংলগ্ন এলাকায় ১৯৬৫ সালে তিন কোটি ৪৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ২০৭ দশমিক ৯৩ একর নিজস্ব জমির ওপর নেদারল্যান্ডস সরকারের সহযোগিতায় মোবারকগঞ্জ চিনিকলটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। এর মধ্যে ২০ দশমিক ৬২ একর জমিতে কারখানা, ৩৮ দশমিক ২২ একর জমিতে কর্মকর্তা ও শ্রমিক-কর্মচারীদের জন্য আবাসিক কলোনি, ২৩ দশমিক ৯৮ একর পুকুর, ১০৭ একর জমিতে ইক্ষু খামার ও ১৮ দশমিক ১২ একর জমিতে রয়েছে সাবজোন অফিস ও আখ ক্রয়কেন্দ্র।

আরো জানা যায়, প্রতিষ্ঠাকালীন মৌসুমে পরীক্ষামূলকভাবে ৬০ কর্মদিবস আখ মাড়াই করে লক্ষ্যপূরণ হওয়ায় ১৯৬৭-৬৮ মাড়াই মৌসুম থেকে বাণিজ্যিকভাবে চিনি উৎপাদন শুরু করে। ঝিনাইদহের ছয় উপজেলা ছাড়াও যশোরের দু’টি উপজেলা নিয়ে গঠিত মিলে আটটি জোন ও ১৮ দশমিক ১২ একর জমিজুড়ে রয়েছে সাবজোন অফিস ও আখ ক্রয়কেন্দ্র।

৪৮টি আখক্রয় কেন্দ্রর আওতায় চাষযোগ্য জমির পরিমাণ রয়েছে তিন লাখ একর।

মোচিক এলাকার কৃষকদের অভিযোগ, মিলের কর্মকর্তা ও সিবিএ নেতাদের লাগামহীন দুর্নীতি, কর্তব্য অবহেলা ও অদক্ষতার কারণে মিলটি ঐতিহ্য হারাচ্ছে। এছাড়া আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে অতিরিক্ত অদক্ষ জনবল নিয়োগের ফলে মিলকে প্রতি বছর বেতন ভাতা বাবদ অতিরিক্ত টাকা গুনতে হয়।

আব্দুর রহমান নামে এক কৃষক বলেন, আখের মূল্য না থাকার কারণে চাষিরা আখ চাষে আগ্রহ হারিয়েছে। এতে ঝিনাইদহের পশ্চিমাঞ্চলের বোড়াই, নারায়ণপুর, কাশিমনগর, হলিধানী ও ঝিনাইদহ শহরের গোপীনাথপুর এলাকার আখ ক্রয় কেন্দ্র বছরের পর বছর বন্ধ রয়েছে। সেখানে এখন পালংশাক ও সবজির আবাদ হচ্ছে।

মিল সংশ্লিষ্টদের দাবি, মোচিক বন্ধ থাকলে কর্মচারীদের বেতন ভাতা বাবদ বছরে আট কোটি টাকা আর চালালে ৫০ থেকে এক’শ কোটি টাকা পর্যন্ত লোকসান হয়। ফলে চালানোর থেকে না চালানো সরকারের জন্য ভালো। আর চালাতে হলে মিলটি আধুনিকায়ন করলে আবারও লাভের মুখ দেখতে পারবে মোচিক।

অবিশ্বাস্য চিনির উৎপাদন ব্যয় নিশ্চত করে মোচিকের জিএম (ফাইন্যান্স) হিরণ বিশ্বাস বলেন, চলতি মাড়াই মৌসুমে ৭০ হাজার টন আখ মাড়াই করে তিন হাজার ৯২০ মেট্রিক টন চিনি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। চিনি আহরণের হার পাঁচ দশমিক ছয় শতাংশ।

তিনি বলেন, ২০২৩-২৪ মাড়াই মৌমুমে প্রতি কেজি চিনি উৎপাদন করতে ব্যয় হয়েছে ৩৪৯ টাকা ৫০ পয়সা। তবে কর্মচারীদের বেতন ভাতা, সরকারের ভ্যাট আইটি ও ব্যাংকের সুদ যোগ করলে উৎপাদন ব্যয় আরো বেশি হবে।

ধারাবাহিক লোকসানের কারণ ব্যাখা করে তিনি বলেন, ১৯৬৫ সালে স্থাপিত সেই পুরানো যন্ত্রপাতি দিয়ে চিনি উৎপাদন করা হচ্ছে। মিলটিতে কোনো আধুনিকতার ছোঁয়া লাগেনি। ব্রিটিশ আমলের যন্ত্রাংশে মেরামতসহ ব্যবস্থাপনা বাবদ প্রতি বছরই বাড়ছে জ্বালানিসহ অন্যান্য খরচ। এ কারণে প্রতি বছর লোকসানের বোঝা বাড়ছে। তাছাড়া আখের চাষযোগ্য জমিতে কৃষকরা কলা, ড্রাগন, পেয়ারা ও কুলসহ বিভিন্ন ফল-ফুল চাষ করছেন। এতে আখ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হচ্ছে না।

মহাব্যবস্থাপক (কৃষি) গৌতম কুমার বলেন, নিচু জমিতে উৎপাদিত আখে চিনির উৎপাদন হার কম হয়। তাছাড়া মাড়াই মৌসুম শুরু হলে এক শ্রেণির আখচাষি ওজন বৃদ্ধি করার জন্য জমিতে সেচ ও সার প্রয়োগ করেন। ফলে চিনি উৎপাদন হার কমে যায়।

এ বিষয়ে মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাইফুল ইসলাম বলেন, মিলটির লোকসান কমাতে এবং আখের উৎপাদন বাড়াতে চাষিদের নিয়মিত সার, বীজ ও কীটনাশক সরবরাহ করা হচ্ছে।

মিল এলাকার কৃষকদের আখ চাষে উৎসাহ দিতে তাদের সচেতনতার কথা জানিয়ে ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, প্রতি বছর যে লোকসান হয় তার বেশিরভাগ ব্যাংক ঋণ ও সরকারের ভ্যাট বাবাদ পরিশোধ করতে হয়। এরপরও গত বছর মিলটিতে অপারেশনাল লস হয়েছে ৩৪ কোটি টাকা।

বিডিসংবাদ/এএইচএস

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

১ কেজি চিনির উৎপাদন ব্যয় ৫৪২ টাকা

আপডেট সময় : ০১:০৮:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০২৪

বিডিসংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ

ঝিনাইদহের মোবারকগঞ্জ চিনিকলের (মোচিক) সরকারি ভ্যাট ও ব্যাংকের সুদ দিয়ে প্রতি কেজি চিনি উৎপাদন ব্যয় হচ্ছে ৫৪২ টাকা। এর আগে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে প্রতি কেজি চিনিতে ৪১৭ টাকা লোকসান দিয়ে শুরু করে আখ মাড়াই।

তথ্য মতে, গত মাড়াই মৌসুমে চিনি উৎপাদন হার ছিল অন্য অর্থবছরের থেকে অনেক কম। গত অর্থবছরে ২৫’শ টন চিনি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও অর্জিত হয় মাত্র ১৮’শ ৭১ মেট্রিক টন। এছাড়া মিলটিতে অপারেশনাল লস দেখানো হয়েছে ৩৪ কোটি ও ব্যাংক ঋণের সুদ দেখানো হয়েছে ৩৬ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে ৭০ কোটি টাকা লোকসানের বোঝা আর ৩৫০ কোটি টাকা ব্যাংকের দেনা মাথায় নিয়ে আবার আখ মাড়াই মৌসুম উদ্বোধন করা হয়েছে।

শুক্রবার (১৩ ডিসেম্বর) বিকেলে মোবরাকগঞ্জ চিনিকলে আড়ম্বর করে ৫৮তম মাড়াই মৌসুম শুরু করা হয়।

মোবরাকগঞ্জ চিনিকলের তথ্য মতে, ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ শহর সংলগ্ন এলাকায় ১৯৬৫ সালে তিন কোটি ৪৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ২০৭ দশমিক ৯৩ একর নিজস্ব জমির ওপর নেদারল্যান্ডস সরকারের সহযোগিতায় মোবারকগঞ্জ চিনিকলটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। এর মধ্যে ২০ দশমিক ৬২ একর জমিতে কারখানা, ৩৮ দশমিক ২২ একর জমিতে কর্মকর্তা ও শ্রমিক-কর্মচারীদের জন্য আবাসিক কলোনি, ২৩ দশমিক ৯৮ একর পুকুর, ১০৭ একর জমিতে ইক্ষু খামার ও ১৮ দশমিক ১২ একর জমিতে রয়েছে সাবজোন অফিস ও আখ ক্রয়কেন্দ্র।

আরো জানা যায়, প্রতিষ্ঠাকালীন মৌসুমে পরীক্ষামূলকভাবে ৬০ কর্মদিবস আখ মাড়াই করে লক্ষ্যপূরণ হওয়ায় ১৯৬৭-৬৮ মাড়াই মৌসুম থেকে বাণিজ্যিকভাবে চিনি উৎপাদন শুরু করে। ঝিনাইদহের ছয় উপজেলা ছাড়াও যশোরের দু’টি উপজেলা নিয়ে গঠিত মিলে আটটি জোন ও ১৮ দশমিক ১২ একর জমিজুড়ে রয়েছে সাবজোন অফিস ও আখ ক্রয়কেন্দ্র।

৪৮টি আখক্রয় কেন্দ্রর আওতায় চাষযোগ্য জমির পরিমাণ রয়েছে তিন লাখ একর।

মোচিক এলাকার কৃষকদের অভিযোগ, মিলের কর্মকর্তা ও সিবিএ নেতাদের লাগামহীন দুর্নীতি, কর্তব্য অবহেলা ও অদক্ষতার কারণে মিলটি ঐতিহ্য হারাচ্ছে। এছাড়া আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে অতিরিক্ত অদক্ষ জনবল নিয়োগের ফলে মিলকে প্রতি বছর বেতন ভাতা বাবদ অতিরিক্ত টাকা গুনতে হয়।

আব্দুর রহমান নামে এক কৃষক বলেন, আখের মূল্য না থাকার কারণে চাষিরা আখ চাষে আগ্রহ হারিয়েছে। এতে ঝিনাইদহের পশ্চিমাঞ্চলের বোড়াই, নারায়ণপুর, কাশিমনগর, হলিধানী ও ঝিনাইদহ শহরের গোপীনাথপুর এলাকার আখ ক্রয় কেন্দ্র বছরের পর বছর বন্ধ রয়েছে। সেখানে এখন পালংশাক ও সবজির আবাদ হচ্ছে।

মিল সংশ্লিষ্টদের দাবি, মোচিক বন্ধ থাকলে কর্মচারীদের বেতন ভাতা বাবদ বছরে আট কোটি টাকা আর চালালে ৫০ থেকে এক’শ কোটি টাকা পর্যন্ত লোকসান হয়। ফলে চালানোর থেকে না চালানো সরকারের জন্য ভালো। আর চালাতে হলে মিলটি আধুনিকায়ন করলে আবারও লাভের মুখ দেখতে পারবে মোচিক।

অবিশ্বাস্য চিনির উৎপাদন ব্যয় নিশ্চত করে মোচিকের জিএম (ফাইন্যান্স) হিরণ বিশ্বাস বলেন, চলতি মাড়াই মৌসুমে ৭০ হাজার টন আখ মাড়াই করে তিন হাজার ৯২০ মেট্রিক টন চিনি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। চিনি আহরণের হার পাঁচ দশমিক ছয় শতাংশ।

তিনি বলেন, ২০২৩-২৪ মাড়াই মৌমুমে প্রতি কেজি চিনি উৎপাদন করতে ব্যয় হয়েছে ৩৪৯ টাকা ৫০ পয়সা। তবে কর্মচারীদের বেতন ভাতা, সরকারের ভ্যাট আইটি ও ব্যাংকের সুদ যোগ করলে উৎপাদন ব্যয় আরো বেশি হবে।

ধারাবাহিক লোকসানের কারণ ব্যাখা করে তিনি বলেন, ১৯৬৫ সালে স্থাপিত সেই পুরানো যন্ত্রপাতি দিয়ে চিনি উৎপাদন করা হচ্ছে। মিলটিতে কোনো আধুনিকতার ছোঁয়া লাগেনি। ব্রিটিশ আমলের যন্ত্রাংশে মেরামতসহ ব্যবস্থাপনা বাবদ প্রতি বছরই বাড়ছে জ্বালানিসহ অন্যান্য খরচ। এ কারণে প্রতি বছর লোকসানের বোঝা বাড়ছে। তাছাড়া আখের চাষযোগ্য জমিতে কৃষকরা কলা, ড্রাগন, পেয়ারা ও কুলসহ বিভিন্ন ফল-ফুল চাষ করছেন। এতে আখ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হচ্ছে না।

মহাব্যবস্থাপক (কৃষি) গৌতম কুমার বলেন, নিচু জমিতে উৎপাদিত আখে চিনির উৎপাদন হার কম হয়। তাছাড়া মাড়াই মৌসুম শুরু হলে এক শ্রেণির আখচাষি ওজন বৃদ্ধি করার জন্য জমিতে সেচ ও সার প্রয়োগ করেন। ফলে চিনি উৎপাদন হার কমে যায়।

এ বিষয়ে মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাইফুল ইসলাম বলেন, মিলটির লোকসান কমাতে এবং আখের উৎপাদন বাড়াতে চাষিদের নিয়মিত সার, বীজ ও কীটনাশক সরবরাহ করা হচ্ছে।

মিল এলাকার কৃষকদের আখ চাষে উৎসাহ দিতে তাদের সচেতনতার কথা জানিয়ে ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, প্রতি বছর যে লোকসান হয় তার বেশিরভাগ ব্যাংক ঋণ ও সরকারের ভ্যাট বাবাদ পরিশোধ করতে হয়। এরপরও গত বছর মিলটিতে অপারেশনাল লস হয়েছে ৩৪ কোটি টাকা।

বিডিসংবাদ/এএইচএস