ঢাকা ১২:০৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ভুটানকে হারিয়ে জয় দিয়ে সাফ মিশন শুরু বাংলাদেশের সাঁথিয়ায় ভাগ্নিকে নিরাপত্তা ঘটনায়: মামা আটক ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’-এর দ্বিতীয় আসর উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী রিয়াদ বিমানবন্দরে হুতি হামলায় আহত আরও এক ভারতীয়র প্রয়াণ ষড়যন্ত্রের ফণা তুলেছে স্বৈরাচারী শক্তি: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান খুলনায় ২৫ মাসে ২২৫ মৃত্যুর ঘটনা: অপরাধের স্বর্গরাজ্যে আতঙ্কিত জনজীবন শাহজালাল তৃতীয় টার্মিনাল পরিচালনায় জাপানি কনসোর্টিয়ামের বড় অংশীদারত্ব খুলনায় প্রধানমন্ত্রীর সফরের মধ্যে বিএনপি নেতার ছেলেকে মৃত্যুর ঘটনায় বিনা জামানতে ঋণ দেওয়ার নামে প্রতারণা, সতর্ক করল বাংলাদেশ ব্যাংক সাতক্ষীরায় সড়ক দুর্ঘটনায় ভারসাম্যহীন নারীর মৃত্যু

২০২৫ সালে রোহিঙ্গা ইস্যু, যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, চীনের সাথে সম্পর্ক অগ্রাধিকার পাবে: তৌহিদ

  • আপডেট সময় : ০৮:১৮:৩৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ জানুয়ারী ২০২৫
  • / 107
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বিডিসংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ

পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন বলেছেন, ২০২৫ সালে বাংলাদেশের জন্য প্রধান অগ্রাধিকার হবে রোহিঙ্গা সংকট মোকাবেলার পাশাপাশি তিনটি প্রধান দেশ- যুক্তরাষ্ট্র, ভারত ও চীনের সাথে দৃঢ় দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক বজায় রাখা।

আজ বিকেলে তার মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গা সংকট সমাধান করা, এই তিনটি দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা এবং স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করে আমাদের অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে এগিয়ে নেওয়াকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।’

কোনো একটি দেশের চেয়ে অন্যকোনো দেশের ক্ষেত্রে কোনো বিশেষ অগ্রাধিকার রয়েছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তৌহিদ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র, ভারত বা চীনের ক্ষেত্রে কোনোভাবে কম অগ্রাধিকার দেওয়া হয় না।

তিনি বলেন, ‘আমরা এই তিনটি দেশের সাথে সম্পর্ক বজায় রাখার ক্ষেত্রে সমান অগ্রাধিকার দিই। কারণ তাদের সাথে আমাদের বিভিন্ন স্বার্থ গভীরভাবে সম্পৃক্ত রয়েছে। বাংলাদেশের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখার ক্ষেত্রেও এই দেশগুলোর নিজস্ব স্বার্থ রয়েছে।

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা আশা প্রকাশ করেন যে এ বছরের শেষ নাগাদ বিশ্বশক্তিগুলোর সঙ্গে ঢাকার সম্পর্ক আরও জোরদার হবে।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের জন্য ঢাকার অনুরোধের কোনো সুরাহা না হলে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের অবস্থা কী হবে সে সম্পর্কে জানতে চাইলে তৌহিদ বলেন, এটি হচ্ছে দুই প্রতিবেশীর মধ্যে বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় সমস্যার মধ্যে মাত্র একটি।

তিনি উল্লেখ করেন, হাসিনাকে দিল্লি থেকে ফিরিয়ে আনা এবং ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে ঢাকার প্রচেষ্টা সমানতালে চলবে। ‘আমি বিশ্বাস করি উভয় প্রচেষ্টা একই সাথে এগিয়ে যাবে।’

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা উল্লেখ করেন যে, দুই দেশের মধ্যে বেশ কিছু দ্বিপক্ষীয় বিষয় রয়েছে এবং আলোচনার মাধ্যমে সেগুলো সমাধানের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

প্রত্যর্পণ চুক্তির অধীনে, সম্প্রতি দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশন থেকে শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর পদক্ষেপের জন্য ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে একটি কূটনৈতিক চিঠি পাঠানো হয়েছে।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে, তারা চিঠির বিষয়ে ভারতের জবাবের অপেক্ষা করবেন এবং দিল্লি থেকে উত্তর পেলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

চীনের সাথে সম্পর্কের বিষয়ে তৌহিদ দুই দেশের মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার জন্য ২০ জানুয়ারি চীন সফরের পরিকল্পনার কথাও জানান।

তিনি তার আসন্ন দ্বিপক্ষীয় বেইজিং সফরের সময় আলোচনার জন্য নির্দিষ্ট বিষয়গুলো সম্পর্কে বিশদ বিবরণ না দিয়ে বলেন, ‘চীন আমন্ত্রণ জানিয়েছে এবং আমরা অভিন্ন বিষয়াদি আলোচনা করতে যাচ্ছি।’

তিনি এ সফরকে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের পাশাপাশি চীনের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে ঢাকার প্রয়াস হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মিয়ানমারের রাখাইনের পরিস্থিতি অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং, কারণ সেখানকার বাস্তবতা বদলে গেছে।

তিনি আরো বলেন, জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই বাংলাদেশের মূল লক্ষ্য। ‘এটি ছাড়া, রোহিঙ্গারা (মিয়ানমারে) ফিরতে রাজি হবে না।’

বিডিসংবাদ/এএইচএস

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

২০২৫ সালে রোহিঙ্গা ইস্যু, যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, চীনের সাথে সম্পর্ক অগ্রাধিকার পাবে: তৌহিদ

আপডেট সময় : ০৮:১৮:৩৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ জানুয়ারী ২০২৫

বিডিসংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ

পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন বলেছেন, ২০২৫ সালে বাংলাদেশের জন্য প্রধান অগ্রাধিকার হবে রোহিঙ্গা সংকট মোকাবেলার পাশাপাশি তিনটি প্রধান দেশ- যুক্তরাষ্ট্র, ভারত ও চীনের সাথে দৃঢ় দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক বজায় রাখা।

আজ বিকেলে তার মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গা সংকট সমাধান করা, এই তিনটি দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা এবং স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করে আমাদের অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে এগিয়ে নেওয়াকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।’

কোনো একটি দেশের চেয়ে অন্যকোনো দেশের ক্ষেত্রে কোনো বিশেষ অগ্রাধিকার রয়েছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তৌহিদ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র, ভারত বা চীনের ক্ষেত্রে কোনোভাবে কম অগ্রাধিকার দেওয়া হয় না।

তিনি বলেন, ‘আমরা এই তিনটি দেশের সাথে সম্পর্ক বজায় রাখার ক্ষেত্রে সমান অগ্রাধিকার দিই। কারণ তাদের সাথে আমাদের বিভিন্ন স্বার্থ গভীরভাবে সম্পৃক্ত রয়েছে। বাংলাদেশের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখার ক্ষেত্রেও এই দেশগুলোর নিজস্ব স্বার্থ রয়েছে।

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা আশা প্রকাশ করেন যে এ বছরের শেষ নাগাদ বিশ্বশক্তিগুলোর সঙ্গে ঢাকার সম্পর্ক আরও জোরদার হবে।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের জন্য ঢাকার অনুরোধের কোনো সুরাহা না হলে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের অবস্থা কী হবে সে সম্পর্কে জানতে চাইলে তৌহিদ বলেন, এটি হচ্ছে দুই প্রতিবেশীর মধ্যে বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় সমস্যার মধ্যে মাত্র একটি।

তিনি উল্লেখ করেন, হাসিনাকে দিল্লি থেকে ফিরিয়ে আনা এবং ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে ঢাকার প্রচেষ্টা সমানতালে চলবে। ‘আমি বিশ্বাস করি উভয় প্রচেষ্টা একই সাথে এগিয়ে যাবে।’

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা উল্লেখ করেন যে, দুই দেশের মধ্যে বেশ কিছু দ্বিপক্ষীয় বিষয় রয়েছে এবং আলোচনার মাধ্যমে সেগুলো সমাধানের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

প্রত্যর্পণ চুক্তির অধীনে, সম্প্রতি দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশন থেকে শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর পদক্ষেপের জন্য ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে একটি কূটনৈতিক চিঠি পাঠানো হয়েছে।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে, তারা চিঠির বিষয়ে ভারতের জবাবের অপেক্ষা করবেন এবং দিল্লি থেকে উত্তর পেলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

চীনের সাথে সম্পর্কের বিষয়ে তৌহিদ দুই দেশের মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার জন্য ২০ জানুয়ারি চীন সফরের পরিকল্পনার কথাও জানান।

তিনি তার আসন্ন দ্বিপক্ষীয় বেইজিং সফরের সময় আলোচনার জন্য নির্দিষ্ট বিষয়গুলো সম্পর্কে বিশদ বিবরণ না দিয়ে বলেন, ‘চীন আমন্ত্রণ জানিয়েছে এবং আমরা অভিন্ন বিষয়াদি আলোচনা করতে যাচ্ছি।’

তিনি এ সফরকে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের পাশাপাশি চীনের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে ঢাকার প্রয়াস হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মিয়ানমারের রাখাইনের পরিস্থিতি অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং, কারণ সেখানকার বাস্তবতা বদলে গেছে।

তিনি আরো বলেন, জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই বাংলাদেশের মূল লক্ষ্য। ‘এটি ছাড়া, রোহিঙ্গারা (মিয়ানমারে) ফিরতে রাজি হবে না।’

বিডিসংবাদ/এএইচএস