ঢাকা ০৫:৩৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ভারতের সঙ্গে করা ১০১টি চুক্তি পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত সরকারের: চিফ হুইপ সংকট কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, অক্টোবরেই ফিরছে স্বাভাবিক ফ্লাইট লালবাগে নিখোঁজ ব্যবসায়ীর রহস্যজনক অন্তর্ধানের ঘটনায় তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য মধ্যবর্তী নির্বাচনে জয়ের লক্ষ্যে সমর্থকদের নিয়ে শপথ নিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়া ও চীনের উত্থান: গত ২৫ বছরে আমূল বদলে যাওয়া বিশ্ব রাজনীতির সমীকরণ ১৮তম ব্রিকস সম্মেলন: বিশ্বনেতাদের বরণে প্রস্তুত দিল্লি, মোদির সঙ্গে পুতিন-পেজেশকিয়ানের বৈঠক আজ একতরফা আধিপত্য রুখতে ব্রিকসের ওপর জোর দিলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এআই কি মানবজাতির অস্তিত্বের জন্য হুমকি? বড় সতর্কবার্তা দিলেন গবেষকরা মক্কা চুক্তির পর ইয়েমেনে সৌদি জোটের ব্যাপক বিমান হামলার অভিযোগ শনিবার ভারতে শুরু হচ্ছে ব্রিকসের শীর্ষ সম্মেলন, পুতিনসহ যোগ দিচ্ছেন বিশ্বনেতারা

যুক্তরাষ্ট্রে এক বাড়িতে ৬ বাংলাদেশীর লাশ, হত্যার ধারাবিবরণী

  • আপডেট সময় : ০১:৫৫:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ এপ্রিল ২০২১
  • / 219
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বিডিসংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ

সোমবার ভোর থেকেই ডালাসে বসবাসরত বাংলাদেশী অনেকে বাড়িটির সামনে জমায়েত হয়েছেন – ছবি- সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের ডালাস শহরের একটি বাড়ি থেকে ছয়জন বাংলাদেশীর লাশ উদ্ধার করেছে স্থানীয় পুলিশ। স্থানীয় সময় সোমবার ভোরে ফোনকল পেয়ে পুলিশ ডালাসের একটি বাড়ি থেকে লাশগুলো উদ্ধার করে। পরে লাশগুলো ময়নাতদন্তের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তারা সবাই বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক ও একই পরিবারের সদস্য।

টেক্সাসের পুলিশ বলছে, পরিবারটির দু’জন সদস্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। তারা দু’জন আপন ভাই। তারাই তাদের মা, বাবা, বোন ও নানীকে হত্যার পর নিজেরা আত্মহত্যা করেছে।

পুলিশের বক্তব্য, ওই দু’ভাই বিষণ্ণতায় ভুগছিলেন ছিলেন। ঘটনার আগে তাদের একজন ফেসবুক নোটে তা উল্লেখ করেছেন। দু’ভাইয়ের মধ্যে ছোটজন ফেসবুকে দীর্ঘ নোটে তাদের বিষণ্ণতায় ভোগার ইতিহাস, হত্যার পরিকল্পনা ও ঘটনা সম্পর্কে বিশদ বর্ণনা দিয়েছেন।

বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব নর্থ টেক্সাসের সেক্রেটারি নাহিদা আলী বিবিসিকে বলেছেন, আকস্মিক এ ঘটনায় টেক্সাসের পুরো বাংলাদেশী সম্প্রদায় হতবাক হয়ে পড়েছে। তার বর্ণনায়, পরিবারটি ছিল ছিমছাম ও শান্তিপ্রিয়। প্রতিবেশীসহ অন্যদের সহযোগিতার করার ক্ষেত্রে তাদের সুনাম আছে। তিনটি সন্তানই খুব মেধাবী ছিল। ছোট ছেলেটি ফেসবুকে একটি নোট দিয়ে গেছে। যেখানে বলা হয়েছে যে তিনি ও তার ভাই বিষণ্ণতায় ভুগছিলেন দীর্ঘ দিন ধরে।

নাহিদা আলী আরো বলেন, বিষণ্ণতার জন্য তারা দীর্ঘ দিন ধরে চিকিৎসাও নিয়েছে বলে ছোট ছেলেটি তার নোটে লিখেছেন। যদিও পরিবার থেকে এসব কখনো অন্যদের সাথে শেয়ার করেনি।

বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার সকালে নিউইয়র্ক থেকে বিবিসির সংবাদদাতা লাবলু আনসার জানান, কিছুক্ষণ আগে ঘটনাস্থল থেকে লাশগুলো উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নেয়া হয়েছে। এ সময় স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে যে গত শনিবার এই হত্যাকাণ্ড ও আত্মহত্যার সংঘটিত হয়েছে বলে তাদের ধারণা।

পরিবারের ছোট ছেলে ফেসবুকে তাদের আত্মহত্যা ও অন্যদের হত্যার ঘটনা সম্পর্কে বিস্তারিত বিবরণ দিয়েছে উল্লেখ করে টেক্সাসের পুলিশ এটিকে হতাশার ধারাবিবরণী হিসেবে বর্ণনা করেছে।

ওই নোটে ছোট ছেলে লিখেছেন যে তিনি ২০১৬ সাল থেকে বড় ধরনের বিষণ্ণতায় আক্রান্ত। এমনকি এর জের ধরে কখনো কখনো নিজেই নিজের হাত পা কেটে স্বস্তি পাওয়ার চেষ্টা করেছেন। তার বড় ভাইও বিষণ্ণতায় আক্রান্ত বলেও নোটে উল্লেখ করা হয়।

লাবলু আনসার জানিয়েছেন, ফেসবুকে ছোট ছেলে যা লিখে গেছেন তাতে তারা দু’ভাই মিলেই হত্যার পরিকল্পনা করেছে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। আত্মহত্যাকারী দু’ভাই ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাস অস্টিনের শিক্ষার্থী ছিলেন।

তারা তাদের বোনকে নিউইয়র্ক থেকে ডেকে নেয় পারিবারিক গেট টুগেদারের জন্য। আর তার নানী গত মাসে বাংলাদেশে ফেরার কথা থাকলেও করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে ফেরতে পারেননি।

লাবলু আনসার জানান, পুরনো ঢাকার এই পরিবারটি আট বছর ধরে টেক্সাসে বসবাস করছিল। এর আগে তারা নিউইয়র্কে থাকতো। তাদের পরিবারের আরো সদস্য যুক্তরাষ্ট্রে আছেন। হত্যার খবর পেয়ে তারা ডালাস শহরের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন।

লাবলু আনসার বলেন, ফেসবুক নোটে এমনকি ছোট ছেলে বর্ণনা করেছেন যে কিভাবে তারা বন্দুক সংগ্রহ করেছেন। নোটে উল্লেখ করা হয়েছে, বড় ভাই গেলেন দোকানে। বললেন যে বাড়ির নিরাপত্তার জন্যে বন্দুক দরকার। দোকানদার কয়েকটি ফরম ধরিয়ে দিলেন। স্বাক্ষর করলেন ভাই। এরপর হাতে পেলাম কাঙ্ক্ষিত বস্তুটি, যা দিয়ে নিজের কষ্ট ও পরিবারের কষ্ট সহজে লাঘব করা যাবে।

এ দিকে এ ঘটনা জানাজানির পর সোমবার ভোর থেকেই ডালাসে বসবাসরত বাংলাদেশী অনেকে ঘটনাস্থলে বাড়িটির সামনে জমায়েত হয়েছেন।

নাহিদা আলী বলেছেন, ময়নাতদন্তের পর পুলিশের কাছ থেকে লাশ ফেরত পাওয়ার পর তাদের দাফনসহ আনুষঙ্গিক কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হবে। সূত্র : বিবিসি

বিডিসংবাদ/এএইচএস

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

যুক্তরাষ্ট্রে এক বাড়িতে ৬ বাংলাদেশীর লাশ, হত্যার ধারাবিবরণী

আপডেট সময় : ০১:৫৫:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ এপ্রিল ২০২১

বিডিসংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ

সোমবার ভোর থেকেই ডালাসে বসবাসরত বাংলাদেশী অনেকে বাড়িটির সামনে জমায়েত হয়েছেন – ছবি- সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের ডালাস শহরের একটি বাড়ি থেকে ছয়জন বাংলাদেশীর লাশ উদ্ধার করেছে স্থানীয় পুলিশ। স্থানীয় সময় সোমবার ভোরে ফোনকল পেয়ে পুলিশ ডালাসের একটি বাড়ি থেকে লাশগুলো উদ্ধার করে। পরে লাশগুলো ময়নাতদন্তের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তারা সবাই বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক ও একই পরিবারের সদস্য।

টেক্সাসের পুলিশ বলছে, পরিবারটির দু’জন সদস্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। তারা দু’জন আপন ভাই। তারাই তাদের মা, বাবা, বোন ও নানীকে হত্যার পর নিজেরা আত্মহত্যা করেছে।

পুলিশের বক্তব্য, ওই দু’ভাই বিষণ্ণতায় ভুগছিলেন ছিলেন। ঘটনার আগে তাদের একজন ফেসবুক নোটে তা উল্লেখ করেছেন। দু’ভাইয়ের মধ্যে ছোটজন ফেসবুকে দীর্ঘ নোটে তাদের বিষণ্ণতায় ভোগার ইতিহাস, হত্যার পরিকল্পনা ও ঘটনা সম্পর্কে বিশদ বর্ণনা দিয়েছেন।

বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব নর্থ টেক্সাসের সেক্রেটারি নাহিদা আলী বিবিসিকে বলেছেন, আকস্মিক এ ঘটনায় টেক্সাসের পুরো বাংলাদেশী সম্প্রদায় হতবাক হয়ে পড়েছে। তার বর্ণনায়, পরিবারটি ছিল ছিমছাম ও শান্তিপ্রিয়। প্রতিবেশীসহ অন্যদের সহযোগিতার করার ক্ষেত্রে তাদের সুনাম আছে। তিনটি সন্তানই খুব মেধাবী ছিল। ছোট ছেলেটি ফেসবুকে একটি নোট দিয়ে গেছে। যেখানে বলা হয়েছে যে তিনি ও তার ভাই বিষণ্ণতায় ভুগছিলেন দীর্ঘ দিন ধরে।

নাহিদা আলী আরো বলেন, বিষণ্ণতার জন্য তারা দীর্ঘ দিন ধরে চিকিৎসাও নিয়েছে বলে ছোট ছেলেটি তার নোটে লিখেছেন। যদিও পরিবার থেকে এসব কখনো অন্যদের সাথে শেয়ার করেনি।

বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার সকালে নিউইয়র্ক থেকে বিবিসির সংবাদদাতা লাবলু আনসার জানান, কিছুক্ষণ আগে ঘটনাস্থল থেকে লাশগুলো উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নেয়া হয়েছে। এ সময় স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে যে গত শনিবার এই হত্যাকাণ্ড ও আত্মহত্যার সংঘটিত হয়েছে বলে তাদের ধারণা।

পরিবারের ছোট ছেলে ফেসবুকে তাদের আত্মহত্যা ও অন্যদের হত্যার ঘটনা সম্পর্কে বিস্তারিত বিবরণ দিয়েছে উল্লেখ করে টেক্সাসের পুলিশ এটিকে হতাশার ধারাবিবরণী হিসেবে বর্ণনা করেছে।

ওই নোটে ছোট ছেলে লিখেছেন যে তিনি ২০১৬ সাল থেকে বড় ধরনের বিষণ্ণতায় আক্রান্ত। এমনকি এর জের ধরে কখনো কখনো নিজেই নিজের হাত পা কেটে স্বস্তি পাওয়ার চেষ্টা করেছেন। তার বড় ভাইও বিষণ্ণতায় আক্রান্ত বলেও নোটে উল্লেখ করা হয়।

লাবলু আনসার জানিয়েছেন, ফেসবুকে ছোট ছেলে যা লিখে গেছেন তাতে তারা দু’ভাই মিলেই হত্যার পরিকল্পনা করেছে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। আত্মহত্যাকারী দু’ভাই ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাস অস্টিনের শিক্ষার্থী ছিলেন।

তারা তাদের বোনকে নিউইয়র্ক থেকে ডেকে নেয় পারিবারিক গেট টুগেদারের জন্য। আর তার নানী গত মাসে বাংলাদেশে ফেরার কথা থাকলেও করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে ফেরতে পারেননি।

লাবলু আনসার জানান, পুরনো ঢাকার এই পরিবারটি আট বছর ধরে টেক্সাসে বসবাস করছিল। এর আগে তারা নিউইয়র্কে থাকতো। তাদের পরিবারের আরো সদস্য যুক্তরাষ্ট্রে আছেন। হত্যার খবর পেয়ে তারা ডালাস শহরের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন।

লাবলু আনসার বলেন, ফেসবুক নোটে এমনকি ছোট ছেলে বর্ণনা করেছেন যে কিভাবে তারা বন্দুক সংগ্রহ করেছেন। নোটে উল্লেখ করা হয়েছে, বড় ভাই গেলেন দোকানে। বললেন যে বাড়ির নিরাপত্তার জন্যে বন্দুক দরকার। দোকানদার কয়েকটি ফরম ধরিয়ে দিলেন। স্বাক্ষর করলেন ভাই। এরপর হাতে পেলাম কাঙ্ক্ষিত বস্তুটি, যা দিয়ে নিজের কষ্ট ও পরিবারের কষ্ট সহজে লাঘব করা যাবে।

এ দিকে এ ঘটনা জানাজানির পর সোমবার ভোর থেকেই ডালাসে বসবাসরত বাংলাদেশী অনেকে ঘটনাস্থলে বাড়িটির সামনে জমায়েত হয়েছেন।

নাহিদা আলী বলেছেন, ময়নাতদন্তের পর পুলিশের কাছ থেকে লাশ ফেরত পাওয়ার পর তাদের দাফনসহ আনুষঙ্গিক কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হবে। সূত্র : বিবিসি

বিডিসংবাদ/এএইচএস