ঢাকা ১২:১৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

বিশ্বকাপের আইকনিক কিছু মুহূর্ত

  • আপডেট সময় : ১১:৩১:১০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৯ নভেম্বর ২০২২
  • / 141
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বিডিসংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ

রাত পোহালেই বেজে উঠবে দামামা, শুরু হবে লড়াই, মাঠে গড়াবে বিশ্বকাপ। প্রিয় দলকে সমর্থন দিতে আর ফুটবলের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হতে গোটা বিশ্ব জেগে উঠবে। ৯২ বছরের বিশ্বকাপ ইতিহাসে কত শত ঘটনাই ঘটেছে মনে রাখার মতো। কত গল্পই বিশ্বমঞ্চে রচিত হয়েছে এই। কত ঘটনা পেয়েছে ইতিহাসে ঠাই। তেমনি বিশ্বকাপের কিছু জানা-অজনা ঘটনা নিয়ে আজকের আয়োজন

১৯৩০: প্রথম বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন

উদ্বোধনী টুর্নামেন্ট, বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম গোল করেন ফ্রান্সের লুসিয়েন লরেন্ট। ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে জুলে রিমে থেকে প্রথম বিশ্বকাপ ট্রপি গ্রহন করে উরুগুয়ে।

১৯৫০: অভিশপ্ত মারাকানা

সম্ভবত বিশ্বকাপ ফাইনালের সবচেয়ে বড় অঘটন, ঘরের মাঠে ফেভারিট ব্রাজিলকে ২-১ গোলে হারিয়ে নিজেদের দ্বিতীয় শিরোপা ঘরে তুলে উরুগুয়ে। ৭৯তম মিনিটে জয়সূচক গোলটি করে প্রায় দুই লাখ স্বাগতিক দর্শককে স্তব্ধ করে দেন উরুগুয়ের আলসিদেস ঘিগিয়া।

এটিই ছিল ইতিহাসের একমাত্র বিশ্বকাপ, যেখানে কোনো নির্দিষ্ট ফাইনাল ম্যাচ ছিল না। ফাইনাল গ্রুপ পর্বের চার দলের মধ্যে লিগ পদ্ধতিতে শিরোপা নিশ্চিত হয়।

১৯৫৮: একজন ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তির আবির্ভাব।

১৭ বছর বয়সী পেলে বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলা সবচেয়ে কম বয়সী ফুটবলার। ফাইনালে জোড়া গোল করেন তিনি, নিখুঁত লব ও ভলিতে করা তার দ্বিতীয় গোলটি বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম সেরা গোল।

ব্রাজিল নিজেদের প্রথম বিশ্বকাপ ঘরে তুল এবং পেলে নামের এক কিশোরের উত্থানও দেখলো বিশ্ব।

১৯৬২: ব্যাটল অফ সান্তিয়াগো

২ জুন, ১৯৬২। গ্রুফ পর্বের ম্যাচে এদিন চিলির মুখোমুখি হয় সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ইতালি। ইতিহাসের পাতায় ম্যাচটি ঠাই করে নিয়েছে ‘ব্যাটেল অফ সান্তিয়াগো’ নামে। আক্ষরিক অর্থেই যেন মাঠে যুদ্ধ হয়েছিল সেদিন। মাঠে দুই দলের খেলোয়াড়রা বারবার জড়িয়ে পড়ছিলেন সংঘর্ষে। পরিস্থিতি এতটাই নাজুক ছিল যে, ফুটবলারদের শান্ত করতে তিনবার মাঠে পুলিশ প্রবেশ করে! ফুটবল ইতিহাসে যার নজির খুব বিরল।

১৯৮৬: ‘ঈশ্বরের হাতে’ ম্যারাডোনার বিশ্বজয়

কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনা ও ইল্যান্ডের ম্যাচে যেন জাদু দেখান ডিয়েগো ম্যারাডোনা। ম্যাচের ৫১তম মিনিটে করা তার প্রথম গোল প্রবল বিতর্কিত। রেফারির চোখ ফাঁকি দিয়ে লাফিয়ে হেডের ভঙিমায় হাত দিয়ে জালে পাঠান বল! যেটা ‘হ্যান্ড অব গড’ নামে পরিচিত। চার মিনিট পর আটজনকে কাটিয়ে উপহার দেন দুর্দান্ত এক গোল। যা পরিচিত ‘গোল অব দা সেঞ্চুরি’ নামে। বিশ্বকাপ তো বটেই ফুটবলেরই আইকনিক এক মুহূর্ত এই গোল।

১৯৯৮ (ফ্রান্স): অবিশ্বাস্য বার্গক্যাম্প

কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে তিনটি পারফেক্ট স্পর্শেই অসাধার এক গোল করেন নেদারল্যান্ডসের ডেনিস বার্গক্যাম্প। নিজেদের অর্ধ থেকে পাঠানো বলটি আর্জেন্টিনার বক্সের ঠিক ভেতরে ঢুকে বার্গক্যাম্প রিসিভ করেছিলেন এক পায়ে। এরপর এক ঝটকায় ইনসাইড ফুটে রবার্তো আয়ালাকে ছিটকে ফেলে পরের টাচে টো কিকে হাফভলিতে বল পাঠান জালে। ম্যাচের শেষ সময়ের ওই গোলে বিদায়ঘন্টা বেজেছিল আর্জেন্টিনার। বার্গক্যাম্পের ওই গোলটি হয়ে গেছে বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা।

২০০৬: জিদানের ঢুঁস

পুরো বিশ্বকাপে দুর্দান্ত খেলা জিদান ফাইনালেও আগুন ঝরাতে শুরু করেন। ম্যাচে কোণঠাসা হয়ে পড়েছিল ফ্যাবিও ক্যানাবেরার ইতালি। অবস্থা প্রতিকূলে চলে যাওয়ায় কূটকৌশলে জিদানকে সবার অন্তরালে ক্রমেই ক্ষেপিয়ে তোলেন ইতালি ডিফেন্ডার মাতারাজ্জি। গালাগাল করেন ফ্রেঞ্চ প্রাণভামরার পরিবার তুলে। ব্যস! তাতেই ভেঙে গেল জিদানের ধৈর্যের বাধ। মেজাজ হারিয়ে মাতারাজ্জিকে ঢুঁস মেরে বসেন এই কিংবদন্তি। অনিবার্যভাবেই শাস্তি হিসেবে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয়েছে জিদানকে।

বিশ্বকাপ ফাইনালে লাল কার্ড দেখা চতুর্থ ফুটবলার জিনেদিন জিদান।

বিডিসংবাদ/এএইচএস

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

বিশ্বকাপের আইকনিক কিছু মুহূর্ত

আপডেট সময় : ১১:৩১:১০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৯ নভেম্বর ২০২২

বিডিসংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ

রাত পোহালেই বেজে উঠবে দামামা, শুরু হবে লড়াই, মাঠে গড়াবে বিশ্বকাপ। প্রিয় দলকে সমর্থন দিতে আর ফুটবলের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হতে গোটা বিশ্ব জেগে উঠবে। ৯২ বছরের বিশ্বকাপ ইতিহাসে কত শত ঘটনাই ঘটেছে মনে রাখার মতো। কত গল্পই বিশ্বমঞ্চে রচিত হয়েছে এই। কত ঘটনা পেয়েছে ইতিহাসে ঠাই। তেমনি বিশ্বকাপের কিছু জানা-অজনা ঘটনা নিয়ে আজকের আয়োজন

১৯৩০: প্রথম বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন

উদ্বোধনী টুর্নামেন্ট, বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম গোল করেন ফ্রান্সের লুসিয়েন লরেন্ট। ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে জুলে রিমে থেকে প্রথম বিশ্বকাপ ট্রপি গ্রহন করে উরুগুয়ে।

১৯৫০: অভিশপ্ত মারাকানা

সম্ভবত বিশ্বকাপ ফাইনালের সবচেয়ে বড় অঘটন, ঘরের মাঠে ফেভারিট ব্রাজিলকে ২-১ গোলে হারিয়ে নিজেদের দ্বিতীয় শিরোপা ঘরে তুলে উরুগুয়ে। ৭৯তম মিনিটে জয়সূচক গোলটি করে প্রায় দুই লাখ স্বাগতিক দর্শককে স্তব্ধ করে দেন উরুগুয়ের আলসিদেস ঘিগিয়া।

এটিই ছিল ইতিহাসের একমাত্র বিশ্বকাপ, যেখানে কোনো নির্দিষ্ট ফাইনাল ম্যাচ ছিল না। ফাইনাল গ্রুপ পর্বের চার দলের মধ্যে লিগ পদ্ধতিতে শিরোপা নিশ্চিত হয়।

১৯৫৮: একজন ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তির আবির্ভাব।

১৭ বছর বয়সী পেলে বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলা সবচেয়ে কম বয়সী ফুটবলার। ফাইনালে জোড়া গোল করেন তিনি, নিখুঁত লব ও ভলিতে করা তার দ্বিতীয় গোলটি বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম সেরা গোল।

ব্রাজিল নিজেদের প্রথম বিশ্বকাপ ঘরে তুল এবং পেলে নামের এক কিশোরের উত্থানও দেখলো বিশ্ব।

১৯৬২: ব্যাটল অফ সান্তিয়াগো

২ জুন, ১৯৬২। গ্রুফ পর্বের ম্যাচে এদিন চিলির মুখোমুখি হয় সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ইতালি। ইতিহাসের পাতায় ম্যাচটি ঠাই করে নিয়েছে ‘ব্যাটেল অফ সান্তিয়াগো’ নামে। আক্ষরিক অর্থেই যেন মাঠে যুদ্ধ হয়েছিল সেদিন। মাঠে দুই দলের খেলোয়াড়রা বারবার জড়িয়ে পড়ছিলেন সংঘর্ষে। পরিস্থিতি এতটাই নাজুক ছিল যে, ফুটবলারদের শান্ত করতে তিনবার মাঠে পুলিশ প্রবেশ করে! ফুটবল ইতিহাসে যার নজির খুব বিরল।

১৯৮৬: ‘ঈশ্বরের হাতে’ ম্যারাডোনার বিশ্বজয়

কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনা ও ইল্যান্ডের ম্যাচে যেন জাদু দেখান ডিয়েগো ম্যারাডোনা। ম্যাচের ৫১তম মিনিটে করা তার প্রথম গোল প্রবল বিতর্কিত। রেফারির চোখ ফাঁকি দিয়ে লাফিয়ে হেডের ভঙিমায় হাত দিয়ে জালে পাঠান বল! যেটা ‘হ্যান্ড অব গড’ নামে পরিচিত। চার মিনিট পর আটজনকে কাটিয়ে উপহার দেন দুর্দান্ত এক গোল। যা পরিচিত ‘গোল অব দা সেঞ্চুরি’ নামে। বিশ্বকাপ তো বটেই ফুটবলেরই আইকনিক এক মুহূর্ত এই গোল।

১৯৯৮ (ফ্রান্স): অবিশ্বাস্য বার্গক্যাম্প

কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে তিনটি পারফেক্ট স্পর্শেই অসাধার এক গোল করেন নেদারল্যান্ডসের ডেনিস বার্গক্যাম্প। নিজেদের অর্ধ থেকে পাঠানো বলটি আর্জেন্টিনার বক্সের ঠিক ভেতরে ঢুকে বার্গক্যাম্প রিসিভ করেছিলেন এক পায়ে। এরপর এক ঝটকায় ইনসাইড ফুটে রবার্তো আয়ালাকে ছিটকে ফেলে পরের টাচে টো কিকে হাফভলিতে বল পাঠান জালে। ম্যাচের শেষ সময়ের ওই গোলে বিদায়ঘন্টা বেজেছিল আর্জেন্টিনার। বার্গক্যাম্পের ওই গোলটি হয়ে গেছে বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা।

২০০৬: জিদানের ঢুঁস

পুরো বিশ্বকাপে দুর্দান্ত খেলা জিদান ফাইনালেও আগুন ঝরাতে শুরু করেন। ম্যাচে কোণঠাসা হয়ে পড়েছিল ফ্যাবিও ক্যানাবেরার ইতালি। অবস্থা প্রতিকূলে চলে যাওয়ায় কূটকৌশলে জিদানকে সবার অন্তরালে ক্রমেই ক্ষেপিয়ে তোলেন ইতালি ডিফেন্ডার মাতারাজ্জি। গালাগাল করেন ফ্রেঞ্চ প্রাণভামরার পরিবার তুলে। ব্যস! তাতেই ভেঙে গেল জিদানের ধৈর্যের বাধ। মেজাজ হারিয়ে মাতারাজ্জিকে ঢুঁস মেরে বসেন এই কিংবদন্তি। অনিবার্যভাবেই শাস্তি হিসেবে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয়েছে জিদানকে।

বিশ্বকাপ ফাইনালে লাল কার্ড দেখা চতুর্থ ফুটবলার জিনেদিন জিদান।

বিডিসংবাদ/এএইচএস