ঢাকা ০৫:১৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
চাঁদপুরে ১০০ মেধাবী শিক্ষার্থী পেলেন ১০ হাজার টাকা সহায়তা ডিবি কার্যালয়ে নেয়া হলো শেখ হাসিনার সাবেক উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী দিরাইয়ে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ১৩ পরিবারের মাঝে সহায়তার চাল বিতরণ দুই দফায় ৬ হাজার ৫৯৮ টাকা বাড়ল সোনার দাম বয়সের ভারে নুয়ে বৃদ্ধ বারেকের সংসার চলে শাপলা বিক্রির আয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে এগিয়ে ডেমোক্র্যাটিক পার্টি ইরানের স্পিকার |: যুদ্ধের বিরুদ্ধে ‘না’ ভোট দিয়েছে মার্কিন জনগণ পোশাকশ্রমিকদের নতুন বেতন বাস্তবায়ন জানুয়ারিতে, ডিসেম্বরের মধ্যে চূড়ান্ত হবে কাঠামো প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চীনা প্রতিনিধিদলের সৌজন্য বৈঠক জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে স্মারক ডাকটিকিট অবমুক্ত করলেন প্রধানমন্ত্রী

৬ দফার অনুপ্রেরণায় তরুণদের দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হওয়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

  • আপডেট সময় : ০৮:০৩:২৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ জুন ২০২৪
  • / 123
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বিডিসংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেছেন, ঐতিহাসিক ৬ দফা কেবল বাঙালি জাতির মুক্তিসনদ নয়, সারাবিশ্বের নিপীড়িত নির্যাতিত মানুষের মুক্তি আন্দোলনের অনুপ্রেরণার উৎস। বঙ্গবন্ধুর ৬ দফা দাবি থেকে শিক্ষা নিয়ে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হওয়ার জন্য তিনি তরুণ প্রজন্মের প্রতি আহবান জানিয়েছেন। রাষ্ট্রপতি ‘ঐতিহাসিক ৬ দফা দিবস’ উপলক্ষে আজ এক বাণীতে এ আহবান জানান।
মোঃ সাহাবুদ্দিন উল্লেখ করেন, আগামীকাল ৭ জুন ‘ঐতিহাসিক ৬ দফা দিবস’। বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রাম ও স্বাধীনতার ইতিহাসে ৬ দফা একটি অনন্য মাইলফলক। ৬ দফার মাধ্যমেই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালির রাজনৈতিক স্বাধীনতা ও অর্থনৈতিক মুক্তির দাবি দেশবাসীর সামনে তুলে ধরেন। তিনি এই মহান দিনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, ‘বাঙালির মুক্তির সনদ ৬ দফা দাবি বাস্তবায়নের জন্য যাঁরা জীবন দিয়েছেন আমি তাঁদের স্মৃতির প্রতি জানাই বিনম্র শ্রদ্ধা’।
রাষ্ট্রপতি বলেন, স্বাধীনতা বাঙালির সুদীর্ঘ সংগ্রামের ফসল। ১৯৪৮ সালে বাংলা ভাষার দাবিতে যে আন্দোলনের সূত্রপাত হয়, ৫২’র ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে তার সফল পরিসমাপ্তি ঘটে। রচিত হয় বাঙালি জাতীয়তাবাদের ভিত্তি। এরপর ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্ট গঠন, ১৯৫৮ সালে সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলন ও ১৯৬২ সালে শিক্ষা কমিশন বিরোধী আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় বাঙালির স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বঙ্গবন্ধু ১৯৬৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি লাহোরে সর্বদলীয় সম্মেলনে ঐতিহাসিক ৬ দফা প্রস্তাব পেশ করেন। শাসনতান্ত্রিক কাঠামো, কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা, মুদ্রানীতি, রাজস্ব ও করনীতি, বৈদেশিক বাণিজ্য, আঞ্চলিক বাহিনী গঠনসহ এই ৬ দফার মধ্যেই তিনি পূর্ব বাংলার রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অধিকার তুলে ধরেন, যার মধ্যে নিহিত ছিল বাঙালির স্বাধিকার ও স্বায়ত্তশাসনের রূপরেখা।
তিনি বলেন, ঐতিহাসিক ৬ দফা ঘোষণার পর শাসকগোষ্ঠী বঙ্গবন্ধুর ওপর অমানবিক নির্যাতন চালায় এবং তাঁকে বারবার গ্রেফতার করে। তা সত্ত্বেও বঙ্গবন্ধু ৬ দফার দাবি থেকে পিছপা হননি। ৬ দফার সমর্থনে জনমত সৃষ্টির পাশাপাশি বঙ্গবন্ধু বাঙালির রাজনৈতিক ও আর্থসামাজিক স্বাধিকার আদায়ের লক্ষ্যে দেশব্যাপী সভা-সমাবেশ করেন। জেল-জুলুম, নির্যাতন কোনো কিছুই তাঁকে দাবিয়ে রাখতে পারেনি। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে বাঙালির স্বায়ত্তশাসনের দাবি আদায়ের আন্দোলন বেগবান হয় এবং অল্প সময়ের মধ্যেই তা সারা বাংলায় ছড়িয়ে পড়ে। শাসকগোষ্ঠী ৬ দফার আন্দোলন স্তিমিত করতে গ্রেফতার, নির্যাতনসহ কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করে। ১৯৬৬ সালের ৭ জুন ৬ দফা দাবির সমর্থনে আওয়ামী লীগের আহ্বানে প্রদেশব্যাপী সাধারণ ধর্মঘট চলাকালে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর মদদে পুলিশের গুলিতে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জে ১১ জন শাহাদত বরণ করেন। আহত ও গ্রেফতার হন অনেকে। আন্দোলনে অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে দেশ।
রাষ্ট্রপতি জানান, বঙ্গবন্ধু রাজনৈতিক স্বাধীনতার পাশাপাশি ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলা গড়তে চেয়েছিলেন। এজন্য তিনি বঙ্গবন্ধুর সেই স্বপ্ন পূরণ তথা সুখী-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে সকলের প্রতি আহ্বান জানান।

বিডিসংবাদ/এএইচএস

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

৬ দফার অনুপ্রেরণায় তরুণদের দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হওয়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

আপডেট সময় : ০৮:০৩:২৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ জুন ২০২৪

বিডিসংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেছেন, ঐতিহাসিক ৬ দফা কেবল বাঙালি জাতির মুক্তিসনদ নয়, সারাবিশ্বের নিপীড়িত নির্যাতিত মানুষের মুক্তি আন্দোলনের অনুপ্রেরণার উৎস। বঙ্গবন্ধুর ৬ দফা দাবি থেকে শিক্ষা নিয়ে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হওয়ার জন্য তিনি তরুণ প্রজন্মের প্রতি আহবান জানিয়েছেন। রাষ্ট্রপতি ‘ঐতিহাসিক ৬ দফা দিবস’ উপলক্ষে আজ এক বাণীতে এ আহবান জানান।
মোঃ সাহাবুদ্দিন উল্লেখ করেন, আগামীকাল ৭ জুন ‘ঐতিহাসিক ৬ দফা দিবস’। বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রাম ও স্বাধীনতার ইতিহাসে ৬ দফা একটি অনন্য মাইলফলক। ৬ দফার মাধ্যমেই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালির রাজনৈতিক স্বাধীনতা ও অর্থনৈতিক মুক্তির দাবি দেশবাসীর সামনে তুলে ধরেন। তিনি এই মহান দিনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, ‘বাঙালির মুক্তির সনদ ৬ দফা দাবি বাস্তবায়নের জন্য যাঁরা জীবন দিয়েছেন আমি তাঁদের স্মৃতির প্রতি জানাই বিনম্র শ্রদ্ধা’।
রাষ্ট্রপতি বলেন, স্বাধীনতা বাঙালির সুদীর্ঘ সংগ্রামের ফসল। ১৯৪৮ সালে বাংলা ভাষার দাবিতে যে আন্দোলনের সূত্রপাত হয়, ৫২’র ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে তার সফল পরিসমাপ্তি ঘটে। রচিত হয় বাঙালি জাতীয়তাবাদের ভিত্তি। এরপর ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্ট গঠন, ১৯৫৮ সালে সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলন ও ১৯৬২ সালে শিক্ষা কমিশন বিরোধী আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় বাঙালির স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বঙ্গবন্ধু ১৯৬৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি লাহোরে সর্বদলীয় সম্মেলনে ঐতিহাসিক ৬ দফা প্রস্তাব পেশ করেন। শাসনতান্ত্রিক কাঠামো, কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা, মুদ্রানীতি, রাজস্ব ও করনীতি, বৈদেশিক বাণিজ্য, আঞ্চলিক বাহিনী গঠনসহ এই ৬ দফার মধ্যেই তিনি পূর্ব বাংলার রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অধিকার তুলে ধরেন, যার মধ্যে নিহিত ছিল বাঙালির স্বাধিকার ও স্বায়ত্তশাসনের রূপরেখা।
তিনি বলেন, ঐতিহাসিক ৬ দফা ঘোষণার পর শাসকগোষ্ঠী বঙ্গবন্ধুর ওপর অমানবিক নির্যাতন চালায় এবং তাঁকে বারবার গ্রেফতার করে। তা সত্ত্বেও বঙ্গবন্ধু ৬ দফার দাবি থেকে পিছপা হননি। ৬ দফার সমর্থনে জনমত সৃষ্টির পাশাপাশি বঙ্গবন্ধু বাঙালির রাজনৈতিক ও আর্থসামাজিক স্বাধিকার আদায়ের লক্ষ্যে দেশব্যাপী সভা-সমাবেশ করেন। জেল-জুলুম, নির্যাতন কোনো কিছুই তাঁকে দাবিয়ে রাখতে পারেনি। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে বাঙালির স্বায়ত্তশাসনের দাবি আদায়ের আন্দোলন বেগবান হয় এবং অল্প সময়ের মধ্যেই তা সারা বাংলায় ছড়িয়ে পড়ে। শাসকগোষ্ঠী ৬ দফার আন্দোলন স্তিমিত করতে গ্রেফতার, নির্যাতনসহ কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করে। ১৯৬৬ সালের ৭ জুন ৬ দফা দাবির সমর্থনে আওয়ামী লীগের আহ্বানে প্রদেশব্যাপী সাধারণ ধর্মঘট চলাকালে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর মদদে পুলিশের গুলিতে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জে ১১ জন শাহাদত বরণ করেন। আহত ও গ্রেফতার হন অনেকে। আন্দোলনে অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে দেশ।
রাষ্ট্রপতি জানান, বঙ্গবন্ধু রাজনৈতিক স্বাধীনতার পাশাপাশি ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলা গড়তে চেয়েছিলেন। এজন্য তিনি বঙ্গবন্ধুর সেই স্বপ্ন পূরণ তথা সুখী-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে সকলের প্রতি আহ্বান জানান।

বিডিসংবাদ/এএইচএস