যুবসমাজই দেশের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ: রাষ্ট্রপতি
- আপডেট সময় : ১১:৩৮:১৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
- / 0
জাতীয় যুব দিবস-২০২৬ উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সংগঠিত, দক্ষ এবং অঙ্গীকারবদ্ধ যুবসমাজই একটি দেশের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ। তিনি তরুণ প্রজন্মকে দেশের প্রাণশক্তি হিসেবে উল্লেখ করে তাদের দক্ষ ও উৎপাদনশীল মানবসম্পদে রূপান্তরের ওপর জোর দিয়েছেন। শনিবার (৩১ অক্টোবর) দেওয়া এই বাণীতে তিনি স্বনির্ভর ও আধুনিক বাংলাদেশ গড়ার অগ্রযাত্রাকে ত্বরান্বিত করার আহ্বান জানান। এই জনগোষ্ঠী দেশের সবচেয়ে বড় সম্ভাবনার প্রতিনিধিত্ব করে। এসব উদ্যোগ তরুণদের উদ্যোক্তা ও স্বনির্ভর নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়ক হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
দেশের ঐতিহাসিক গণতান্ত্রিক প্রতিটি সংগ্রামে তরুণদের অসামান্য অবদানের কথা স্মরণ করে রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেন যে, ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে মহান মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থান এবং ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার বিপ্লবে যুবসমাজ অগ্রণী ভূমিকা রেখেছে। তিনি এবারের জাতীয় যুব দিবসের প্রতিপাদ্য ‘দক্ষ যুব গড়বে দেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ’-কে অত্যন্ত সময়োপযোগী ও যথার্থ বলে অভিহিত করেন।
রাষ্ট্রপতি জানান, জনসংখ্যার একটি বিশাল অংশ তরুণ হওয়ায় এই জনমিতিক সুবিধাকে কাজে লাগানো প্রয়োজন। ২০৩০ সালের মধ্যে জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জন এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের জন্য তরুণদের মানসম্মত শিক্ষা, আধুনিক প্রযুক্তি এবং টেকসই কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা অপরিহার্য। কর্মসংস্থানমুখী শিক্ষা ও উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
যুব উন্নয়নের ক্ষেত্রে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের গৃহীত পরিকল্পনার কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, যুবসমাজকে উৎপাদনশীল জনশক্তিতে রূপান্তরের যে ভিত্তি জিয়াউর রহমান স্থাপন করেছিলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া তা আরও সুদৃঢ় করেছিলেন। বর্তমান সরকারও যুব উন্নয়ন কার্যক্রমকে আধুনিক ও গতিশীল করতে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের মাধ্যমে ফ্রিল্যান্সিং, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, কৃষি, কারিগরি শিক্ষা ও হস্তশিল্পসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে বলে তিনি জানান।
তরুণদের সুস্থ ও সুন্দর সমাজ গঠনে সক্রিয় অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, মাদক নির্মূল, পরিবেশ রক্ষা, নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সব ধরনের সামাজিক অবক্ষয় রোধে যুবসমাজকে স্বেচ্ছাসেবামূলক কর্মকাণ্ডে এগিয়ে আসতে হবে। ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক রাষ্ট্র গঠনে সরকার, পরিবার, বিত্তবান ব্যক্তি এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর তিনি গুরুত্ব দেন।
পরিশেষে, যুবসমাজের মর্যাদাপূর্ণ কর্মসংস্থান নিশ্চিত করাকে একটি জাতীয় অঙ্গীকার হিসেবে গ্রহণের আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি। তিনি রোববার (১ নভেম্বর) পালিত জাতীয় যুব দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সব কর্মসূচির সার্বিক সফলতা কামনা করেন।












