দেশে আন্তর্জাতিক মানের সার্জন তৈরিতে অধ্যাপক ডা. পি.কে. সাহা-এর নতুন উদ্যোগ
শমরিতা হাসপাতালে চালু হচ্ছে অত্যাধুনিক ‘অ্যাডভান্সড ল্যাপারোস্কপিক রিসার্চ এন্ড ট্রেনিং সেন্টার’
- আপডেট সময় : ০৮:৪৬:৩৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
- / 85
নিজস্ব প্রতিবেদক । ঢাকা
আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানে ল্যাপারোস্কপিক বা ‘মিনিমালি ইনভেসিভ সার্জারি’ (যাকে অনেকে ছিদ্র করে অপারেশন বলেন) এক যুগান্তকারী পরিবর্তন এনেছে। কম কাটাছেঁড়া, দ্রুত সুস্থতা এবং ব্যথামুক্ত হওয়ার কারণে বিশ্বজুড়েই এর চাহিদা বাড়ছে। বাংলাদেশে এই অত্যাধুনিক সেবার প্রসার এবং আন্তর্জাতিক মানের দক্ষ সার্জন তৈরির লক্ষ্যে এগিয়ে এসেছেন দেশের প্রখ্যাত জেনারেল, অ্যাডভান্সড ল্যাপারোস্কপিক ও বেরিয়াট্রিক সার্জন – অধ্যাপক ডা. পি.কে. সাহা।

তাঁর সুযোগ্য নেতৃত্ব ও নির্দেশনায় রাজধানীর পান্থপথে শমরিতা হাসপাতাল লিমিটেডে ‘অ্যাডভান্সড ল্যাপারোস্কপিক সেন্টার অ্যান্ড হার্নিয়া ক্লিনিক’-এর অধীনে আগামী ২৯শে জুলাই এক আনুষ্ঠানিক আয়োজনের মধ্য দিয়ে চালু হতে যাচ্ছে একটি বিশ্বমানের অ্যাডভান্সড ল্যাপারোস্কপিক রিসার্চ এন্ড ট্রেনিং সেন্টার।
বাংলাদেশে ল্যাপারোস্কপিক সার্জারির প্রচুর সম্ভাবনা থাকলেও, সঠিক ও আন্তর্জাতিক মানের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণের বড় অভাব রয়েছে। তরুণ সার্জনদের এই অভাব পূরণ করতে এবং ল্যাপারোস্কপিক সার্জারির খুঁটিনাটি শিখিয়ে তাদের আরও দক্ষ করে তুলতেই এই পূর্ণাঙ্গ প্ল্যাটফর্মটি তৈরি করা হয়েছে।

যেসব তরুণ চিকিৎসক, রেসিডেন্ট সার্জন এবং মেডিকেল প্রফেশনালরা ল্যাপারোস্কপিক, হার্নিয়া এবং বেরিয়াট্রিক সার্জারিতে নিজেদের ক্যারিয়ার গড়তে চান বা নিজেদের সার্জিক্যাল দক্ষতাকে আরও নিখুঁত করতে চান, তাদের জন্য এই ট্রেনিং প্রোগ্রামটি একটি দারুণ সুযোগ।

অধ্যাপক ডা. পি.কে. সাহা-এর এই মহতী উদ্যোগ দেশের চিকিৎসাক্ষেত্রে শুধু দক্ষ সার্জনই তৈরি করবে না, বরং ল্যাপারোস্কপিক চিকিৎসাসেবাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে এক নতুন যুগের সূচনা করবে।
আগামী ২৯শে জুলাই থেকে এই ট্রেনিং সেন্টার এ শুরু করবে ৫ দিনব্যাপী বিশেষায়িত ল্যাপারোস্কপিক সার্জারি প্রশিক্ষণ প্রোগ্রাম। মাত্র ১০ জন শিক্ষার্থীকে নিয়ে আয়োজিত এই কোর্সে ভর্তি প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে; আগ্রহী চিকিৎসকেরা ০১৭১১-১৫৩৬৯২ নম্বরে কল করে অথবা pksaha22@gmail.com ইমেইলে যোগাযোগ করে নিজের আসন নিশ্চিত করতে পারবেন।
প্রশিক্ষণার্থীদের আন্তর্জাতিক মানের সার্জন হিসেবে গড়ে তুলতে এই সেন্টারে থাকছে বিশ্বের সর্বাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং একটি সুপরিকল্পিত কারিকুলাম। এর মূল আকর্ষণগুলো হলো:
- অ্যাডভান্সড হ্যান্ডস-অন ট্রেনিং: অত্যাধুনিক ‘এন্ডো-ট্রেইনার বক্স’ -এর সাহায্যে ল্যাপারোস্কপিক সুচারিং (সেলাই), নট-টাইং (গিট দেওয়া) এবং চোখ ও হাতের সমন্বয়ের নিবিড় অনুশীলনের বিশেষ ব্যবস্থা।
- লাইভ ওটি সেশন : সরাসরি অপারেশন থিয়েটারে উপস্থিত থেকে অ্যাডভান্সড ল্যাপারোস্কপিক, বেরিয়াট্রিক (ওজন কমানোর সার্জারি) এবং জটিল হার্নিয়া সার্জারি দেখার ও শেখার অনন্য সুযোগ।
- আধুনিক যন্ত্রপাতির সঠিক ব্যবহার: ল্যাপারোস্কপিক ও বেরিয়াট্রিক সার্জারিতে ব্যবহৃত সবচেয়ে আধুনিক যন্ত্রপাতিগুলোর (সাথে পরিচিতি এবং এর নিরাপদ ও সঠিক ব্যবহারিক প্রয়োগ।
- সার্জিক্যাল আর্গোনোমিক্স : দীর্ঘ সময় ল্যাপারোস্কপিক অপারেশন করার সময় সার্জনের সঠিক শারীরিক ভঙ্গি কেমন হওয়া উচিত, কীভাবে ক্লান্তি দূর করা যায় এবং রোগীর সর্বোচ্চ নিরাপত্তা কীভাবে নিশ্চিত করতে হয়—তার গাইডলাইন।
- সরাসরি বিশেষজ্ঞ মেন্টরশিপ: পুরো কোর্সটি পরিচালিত হবে চিফ কনসালটেন্ট অধ্যাপক ডা. পি.কে. সাহা-এর সরাসরি তত্ত্বাবধানে। ফলে প্রশিক্ষণার্থীরা তাঁর দীর্ঘদিনের বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে শেখার অমূল্য সুযোগ পাবেন।
- সার্টিফিকেশন: সফলভাবে কোর্স সম্পন্নকারীদের জন্য থাকবে বিশেষ সার্টিফিকেট, যা তাদের প্রফেশনাল ক্যারিয়ারে একটি বড় অর্জন ও স্বীকৃতি হিসেবে কাজ করবে।




















