মক্কা চুক্তির পর ইয়েমেনে সৌদি জোটের ব্যাপক বিমান হামলার অভিযোগ
- আপডেট সময় : ০২:১২:৩৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 1
আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফেরানোর লক্ষ্যে ‘মক্কা চুক্তি’র মতো গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক উদ্যোগের পরপরই ইয়েমেনে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে বড় ধরনের বিমান হামলার অভিযোগ উঠেছে। হুথি নিয়ন্ত্রিত সাবা নিউজ এজেন্সির দাবি অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সৌদি বিমানবাহিনী ইয়েমেনের চারটি প্রদেশে অন্তত ৪০টি হামলা চালিয়েছে। নিরাপত্তা সূত্রের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, পশ্চিমাঞ্চলীয় আল-জাওফ প্রদেশের আল-হাজম ও আল-ঘাইল জেলায় ১০টি এবং মারিব প্রদেশের আল-জুবাহ এলাকায় তিনটি বিমান হামলা চালানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, তাইজ প্রদেশের মাওজা, মাকবানাহ এবং মোকা জংশনসহ বিভিন্ন এলাকায় ১৮টি বিমান হামলা চালানো হয়েছে। এছাড়া উপকূলীয় আল-হুদায়দাহ প্রদেশের আল-সালিফ, আল-তুহায়তা এবং কামারান দ্বীপ লক্ষ্য করেও নয়টি হামলা হয়েছে। সব মিলিয়ে চারটি প্রদেশে মোট ৪০টি হামলার দাবি করা হলেও, এসব ঘটনায় হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। সৌদি আরবের পক্ষ থেকেও এই হামলার বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য বা নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি, ফলে নিরপেক্ষভাবে ক্ষয়ক্ষতির চিত্র যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ইয়েমেনে চলমান দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের প্রেক্ষাপটে এই নতুন হামলার ঘটনাটি বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে হুথি বিদ্রোহীরা রাজধানী সানা এবং দেশের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোর নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর থেকেই সেখানে অস্থিরতা তীব্র আকার ধারণ করে। এরপর ২০১৫ সালের মার্চ মাসে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারকে সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে সৌদি নেতৃত্বাধীন আরব জোট দেশটিতে সামরিক হস্তক্ষেপ শুরু করে। সেই থেকে দেশটিতে সংঘাত, বিমান হামলা এবং মানবিক সংকট এক নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে।
বিভিন্ন সময়ে যুদ্ধবিরতি ও রাজনৈতিক সমঝোতার প্রচেষ্টা চালানো হলেও ইয়েমেনে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা অধরাই রয়ে গেছে। এ অবস্থায় আঞ্চলিক ঐক্য ও শান্তির বার্তা দেওয়ার মতো কূটনৈতিক উদ্যোগের ঠিক পরেই বড় ধরনের এই বিমান হামলার অভিযোগ নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। আন্তর্জাতিক মহলে এই ঘটনার প্রভাব এবং ইয়েমেনের চলমান সংঘাতের ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি নিয়ে সংশ্লিষ্টরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছেন।

























