ঢাকা ০৩:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ইশরাক: পদত্যাগের আগে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কী কথা হয়েছিল শেরপুরের শ্রীবরদীতে উদ্ধার অজ্ঞাত নারীর পরিচয় শনাক্তে তৎপর পুলিশ স্পিকার: সমাজের নিকৃষ্ট ব্যক্তিরা এমপি-মন্ত্রী হন দুবাই ভ্রমণে এমিরেটসের বোনাস মাইল পাওয়ার বিশেষ অফার ফ্রান্সের অস্থিরতা নিয়ে বিদেশি নেতাদের মন্তব্যকে ‘নির্বোধ’ বললেন মাক্রোঁ মানিকগঞ্জে বাস-ইজিবাইক সংঘর্ষে নিহত দুই কক্সবাজারে সৈকতে গোসলে নেমে চার পর্যটকের প্রাণহানি নির্বাচন পরবর্তী ইরানে সামরিক হামলার ছক কষছে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল দেশের বাজারে কমল সোনার দাম, নতুন দর কার্যকর সুন্দরবন ও মোংলা বন্দর পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী: সারাদিনের সফরসূচি

১১টি বোয়িং কিনতে বিমানের সম্ভাব্য ব্যয় আড়াই বিলিয়ন ডলার

  • আপডেট সময় : ০৯:৫৮:৫২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 10
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স নতুন করে আরও ১১টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার উদ্যোগ নিয়েছে, যার চূড়ান্ত ব্যয় প্রায় আড়াই বিলিয়ন বা ২৫০ কোটি মার্কিন ডলারে পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে উড়োজাহাজগুলোর প্রকৃত ক্রয়মূল্য, অর্থায়ন পদ্ধতি ও সরবরাহের সময়সূচিসহ আর্থিক শর্তাবলি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। এই হিসাবের কারণে সম্ভাব্য ২৫০ কোটি ডলারের ব্যয় নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

চলতি বছরের গত সপ্তাহে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশন চলাকালীন বোয়িংয়ের সঙ্গে একটি সম্পূরক চুক্তি সই করে বিমান। এই চুক্তির আওতায় পাঁচটি বোয়িং ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার এবং ছয়টি বোয়িং ৭৩৭-৮ উড়োজাহাজ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর মাধ্যমে এ বছর বোয়িংয়ের কাছে বিমানের মোট উড়োজাহাজ ক্রয়াদেশ ২৫টিতে দাঁড়িয়েছে। এদিকে, ক্রয় প্রক্রিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এই প্রস্তাবটি চুক্তি সইয়ের আগে বিমানের টেকনো-ফাইন্যান্স কমিটির বিস্তারিত মূল্যায়নের সুযোগ পায়নি, যা নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে প্রশ্ন উঠেছে।

বোয়িংয়ের বাণিজ্যিক উড়োজাহাজের সর্বশেষ ২০১৯ সালের তালিকামূল্য অনুযায়ী, পাঁচটি ৭৮৭-১০ ও ছয়টি ৭৩৭ ম্যাক্স ৮ উড়োজাহাজের সম্মিলিত মূল্য প্রায় ২৪২ কোটি মার্কিন ডলার হতে পারে। তবে বড় ধরনের উড়োজাহাজ কেনার ক্ষেত্রে নির্মাতার সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনার মাধ্যমে চূড়ান্ত দাম নির্ধারিত হয়, যেখানে মূল্যছাড় ও রক্ষণাবেক্ষণসহ নানা সুবিধা যুক্ত থাকে। তাই চূড়ান্ত চুক্তিমূল্য প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত প্রকৃত ব্যয়ের বিষয়টি অস্পষ্ট থাকছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, তালিকামূল্য এবং প্রকৃত ক্রয়মূল্যের মধ্যে পার্থক্য থাকতে পারে। কারণ চুক্তিতে মূল্যছাড়, অর্থায়ন সুবিধা, রক্ষণাবেক্ষণ, যন্ত্রাংশ, প্রশিক্ষণ কিংবা অন্যান্য সেবার শর্ত যুক্ত থাকতে পারে। তবে ক্রয়সংক্রান্ত আর্থিক শর্ত ও প্রকৃত ব্যয়ের পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশের পরই প্রকল্পটির মোট আর্থিক চিত্র স্পষ্ট হবে।

এর আগে চলতি বছরের ৩০ এপ্রিল বিমান বোয়িংয়ের সঙ্গে আরও ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করেছিল। ওই চুক্তিতে আটটি বোয়িং ৭৮৭-১০, দুটি ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার ও চারটি ৭৩৭-৮ উড়োজাহাজ অন্তর্ভুক্ত ছিল, যার তালিকামূল্য ছিল ৩৭০ কোটি ডলার। সব মিলিয়ে চলতি বছরে বিমানের বোয়িং কর্মসূচিতে যুক্ত হওয়া মোট ২৫টি উড়োজাহাজের মধ্যে ১৩টি ৭৮৭-১০, দুটি ৭৮৭-৯ এবং ১০টি ৭৩৭-৮ মডেলের বিমান রয়েছে। বহর আধুনিকায়ন ও আন্তর্জাতিক রুট সম্প্রসারণের লক্ষ্যেই এসব উড়োজাহাজ কেনার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

১১টি বোয়িং কিনতে বিমানের সম্ভাব্য ব্যয় আড়াই বিলিয়ন ডলার

আপডেট সময় : ০৯:৫৮:৫২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স নতুন করে আরও ১১টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার উদ্যোগ নিয়েছে, যার চূড়ান্ত ব্যয় প্রায় আড়াই বিলিয়ন বা ২৫০ কোটি মার্কিন ডলারে পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে উড়োজাহাজগুলোর প্রকৃত ক্রয়মূল্য, অর্থায়ন পদ্ধতি ও সরবরাহের সময়সূচিসহ আর্থিক শর্তাবলি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। এই হিসাবের কারণে সম্ভাব্য ২৫০ কোটি ডলারের ব্যয় নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

চলতি বছরের গত সপ্তাহে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশন চলাকালীন বোয়িংয়ের সঙ্গে একটি সম্পূরক চুক্তি সই করে বিমান। এই চুক্তির আওতায় পাঁচটি বোয়িং ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার এবং ছয়টি বোয়িং ৭৩৭-৮ উড়োজাহাজ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর মাধ্যমে এ বছর বোয়িংয়ের কাছে বিমানের মোট উড়োজাহাজ ক্রয়াদেশ ২৫টিতে দাঁড়িয়েছে। এদিকে, ক্রয় প্রক্রিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এই প্রস্তাবটি চুক্তি সইয়ের আগে বিমানের টেকনো-ফাইন্যান্স কমিটির বিস্তারিত মূল্যায়নের সুযোগ পায়নি, যা নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে প্রশ্ন উঠেছে।

বোয়িংয়ের বাণিজ্যিক উড়োজাহাজের সর্বশেষ ২০১৯ সালের তালিকামূল্য অনুযায়ী, পাঁচটি ৭৮৭-১০ ও ছয়টি ৭৩৭ ম্যাক্স ৮ উড়োজাহাজের সম্মিলিত মূল্য প্রায় ২৪২ কোটি মার্কিন ডলার হতে পারে। তবে বড় ধরনের উড়োজাহাজ কেনার ক্ষেত্রে নির্মাতার সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনার মাধ্যমে চূড়ান্ত দাম নির্ধারিত হয়, যেখানে মূল্যছাড় ও রক্ষণাবেক্ষণসহ নানা সুবিধা যুক্ত থাকে। তাই চূড়ান্ত চুক্তিমূল্য প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত প্রকৃত ব্যয়ের বিষয়টি অস্পষ্ট থাকছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, তালিকামূল্য এবং প্রকৃত ক্রয়মূল্যের মধ্যে পার্থক্য থাকতে পারে। কারণ চুক্তিতে মূল্যছাড়, অর্থায়ন সুবিধা, রক্ষণাবেক্ষণ, যন্ত্রাংশ, প্রশিক্ষণ কিংবা অন্যান্য সেবার শর্ত যুক্ত থাকতে পারে। তবে ক্রয়সংক্রান্ত আর্থিক শর্ত ও প্রকৃত ব্যয়ের পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশের পরই প্রকল্পটির মোট আর্থিক চিত্র স্পষ্ট হবে।

এর আগে চলতি বছরের ৩০ এপ্রিল বিমান বোয়িংয়ের সঙ্গে আরও ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করেছিল। ওই চুক্তিতে আটটি বোয়িং ৭৮৭-১০, দুটি ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার ও চারটি ৭৩৭-৮ উড়োজাহাজ অন্তর্ভুক্ত ছিল, যার তালিকামূল্য ছিল ৩৭০ কোটি ডলার। সব মিলিয়ে চলতি বছরে বিমানের বোয়িং কর্মসূচিতে যুক্ত হওয়া মোট ২৫টি উড়োজাহাজের মধ্যে ১৩টি ৭৮৭-১০, দুটি ৭৮৭-৯ এবং ১০টি ৭৩৭-৮ মডেলের বিমান রয়েছে। বহর আধুনিকায়ন ও আন্তর্জাতিক রুট সম্প্রসারণের লক্ষ্যেই এসব উড়োজাহাজ কেনার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।