সাংবাদিকদের ওপর হামলার বিচারহীনতার অবসান চায় ডুজা
- আপডেট সময় : ০৪:৩৮:১৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬
- / 2
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের ওপর ছাত্রদলের হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি (ডুজা)। সংগঠনটির পক্ষ থেকে একের পর এক ঘটে যাওয়া এসব হামলার বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়েছে। সোমবার ডুজার সভাপতি মো. মানজুর হোছাঈন মাহি এবং সাধারণ সম্পাদক লিটন ইসলাম এক যৌথ বিবৃতিতে দেশের সব ক্যাম্পাসে সাংবাদিকদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, গত রোববার রাতে রাবির শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালান ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। এতে অন্তত ১০ জন সাংবাদিক আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে রয়েছেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের আরিফ উজ জামান কোরবানি, দৈনিক আগামীর সময়ের জাহিদুল ইসলাম, দ্য ডেইলি স্টারের নূর আহসান মৃদুল এবং দৈনিক সমকালের মাঈনুল ইসলাম রাজু।
অভিযোগে বলা হয়, এ হামলায় সরাসরি নেতৃত্ব ও অংশগ্রহণ করেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সহসভাপতি এম আহসান হাবীব, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল ইসলাম, সহসভাপতি শরিফুল ইসলাম, সহ-দপ্তর সম্পাদক শাহরিয়ার আলম ও কর্মী বিশাল চক্রবর্তীসহ অন্তত ১০ জন। হামলাকারীরা রামদা, চাপাতি, হকিস্টিক, রড ও বেসবল ব্যাট ব্যবহার করে সাংবাদিকদের মারধর করেন এবং তাদের কাছে থাকা মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা চালান। ডুজা নেতৃবৃন্দ এ ঘটনাকে বিচ্ছিন্ন কোনো বিষয় হিসেবে না দেখে এর পেছনে থাকা জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
ডুজা নেতৃবৃন্দ তাদের বিবৃতিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘটে যাওয়া অতীতের একটি ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে আনেন। চলতি বছরের ২৩ এপ্রিল শাহবাগ থানার ভেতরে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সংগঠনটির অন্তত ১০ জন সদস্য একইভাবে ছাত্রদলের হামলার শিকার হয়েছিলেন। সেই ঘটনার পর প্রশাসন তদন্ত কমিটি গঠন করলেও পাঁচ মাসের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও প্রতিবেদন জমা হয়নি। এছাড়া শাহবাগ থানায় মামলা গ্রহণের বিষয়েও তারা কোনো সহযোগিতা পাননি বলে অভিযোগ করেন।
নেতৃবৃন্দ সতর্ক করে বলেন, সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় বিচারহীনতা ও দীর্ঘসূত্রতা অপরাধীদের উৎসাহিত করে, যা সাংবাদিকতা ও স্বাধীন মতপ্রকাশের পথ রুদ্ধ করে দেয়। জুলাইয়ের পর নতুন বাংলাদেশে মানুষের যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, তার বিপরীতে দাঁড়িয়ে হামলাকারীদের জবাবদিহির আওতায় আনতে ব্যর্থতা একটি বড় সংকট। অবিলম্বে এসব ঘটনার বিচার না করলে সাংবাদিকদের নিরাপত্তার পাশাপাশি গণতান্ত্রিক পরিবেশও হুমকির মুখে পড়বে বলে মন্তব্য করেন তারা।


















