ঢাকা ০৩:০৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
নেত্রকোনায় সাংবাদিকের ওপর হামলা: তদন্তে মাঠে পুলিশ স্পেনের কাছে হুরজেট বিক্রির সংখ্যা বাড়াচ্ছে তুরস্ক মেয়ের জন্মদিন উপলক্ষে আবেগঘন পোস্ট দিলেন অভিনেতা অপূর্ব লেবাননে বিস্ফোরকবাহী ট্রাক জব্দ, কঠোর অবস্থানে যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার কামচাতকায় ৬.৯ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প বোমা-ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে কাউকে দমন করা সম্ভব নয়: পেজেশকিয়ান নিরাপত্তা ঝুঁকিতে শাহ আমানত বিমানবন্দর: রানওয়েতে দফায় দফায় চুরি নুরের বক্তৃতায় মগবাজার-বাংলামোটর তোলপাড়: মন্তব্য রাশেদ খাঁনের প্রকাশ্যে সমালোচনা করে জরিমানা গুনলেন লিসান্দ্রো মার্টিনেজ ইয়েমেনের প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে হুতিদের হামলা: নিহত ৫

নেত্রকোনায় সাংবাদিকের ওপর হামলা: তদন্তে মাঠে পুলিশ

  • আপডেট সময় : ০৩:০৩:৩০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬
  • / 0
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নেত্রকোনার দুর্গাপুরে দুর্বৃত্তদের অতর্কিত গুলিতে প্রাণ হারিয়েছেন লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকির নামের এক সাংবাদিক। বৃহস্পতিবার ১৫ অক্টোবর রাত সোয়া আটটার দিকে পৌর শহরের শ্যামগঞ্জ-বিরিশিরি সড়কের উতরাইল বাজারে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ওই সময়ে তিনি বাজারের একটি দোকানে বসেছিলেন। এ সময় মোটরসাইকেলযোগে আসা দুই যুবক তাকে লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি চালিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। হাসপাতালে নেওয়ার পথেই তার মৃত্যু হয় বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। তিনি বলেন, জড়িতদের গ্রেফতার করতে পুলিশের অভিযান চলছে।

দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমদ খান জানান, ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধারের পর প্রাথমিকভাবে দেখা গেছে, সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফের মাথা, গলা ও বুকসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে মোট পাঁচটি গুলির চিহ্ন রয়েছে। বর্তমানে পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করছে এবং অপরাধীদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে জোর তৎপরতা চালানো হচ্ছে। এছাড়া নেত্রকোনার পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলামও ঘটনাস্থল পরিদর্শনে রওনা হয়েছেন। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে নেত্রকোনা পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলাম ঘটনাস্থলে রওয়ানা দিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন।

নিহত লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকির বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল রূপসী বাংলার নেত্রকোনা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করতেন। পাশাপাশি তিনি ‘ডিটেকটিভ আর্টিকেল’ নামে একটি ফেসবুক পেজ পরিচালনা করতেন। তার গ্রামের বাড়ি কলমাকান্দার পোগলা এলাকায় হলেও তিনি শ্বশুরবাড়িতে থাকতেন। মাদক চোরাচালান নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরব ছিলেন তিনি। ধারণা করা হচ্ছে, এ সংক্রান্ত কাজের জের ধরেই হয়তো এই হামলা হতে পারে। পরে স্থানীয়রা ছুটে এলে তারা পালিয়ে যান।

এর আগে গত ১০ নভেম্বর দুপুরে দুর্গাপুরের সোমেশ্বরী নদীর তেরিবাজার ঘাট এলাকায় অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা তাকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করেছিল। সেই সময় তার সাথে থাকা এক সহকর্মী প্রতিবাদ করতে গেলে তাকেও অস্ত্র প্রদর্শন করে ধাওয়া করা হয়েছিল। বর্তমানে নতুন করে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

নিউজটি শেয়ার করুন

নেত্রকোনায় সাংবাদিকের ওপর হামলা: তদন্তে মাঠে পুলিশ

আপডেট সময় : ০৩:০৩:৩০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬

নেত্রকোনার দুর্গাপুরে দুর্বৃত্তদের অতর্কিত গুলিতে প্রাণ হারিয়েছেন লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকির নামের এক সাংবাদিক। বৃহস্পতিবার ১৫ অক্টোবর রাত সোয়া আটটার দিকে পৌর শহরের শ্যামগঞ্জ-বিরিশিরি সড়কের উতরাইল বাজারে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ওই সময়ে তিনি বাজারের একটি দোকানে বসেছিলেন। এ সময় মোটরসাইকেলযোগে আসা দুই যুবক তাকে লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি চালিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। হাসপাতালে নেওয়ার পথেই তার মৃত্যু হয় বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। তিনি বলেন, জড়িতদের গ্রেফতার করতে পুলিশের অভিযান চলছে।

দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমদ খান জানান, ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধারের পর প্রাথমিকভাবে দেখা গেছে, সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফের মাথা, গলা ও বুকসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে মোট পাঁচটি গুলির চিহ্ন রয়েছে। বর্তমানে পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করছে এবং অপরাধীদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে জোর তৎপরতা চালানো হচ্ছে। এছাড়া নেত্রকোনার পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলামও ঘটনাস্থল পরিদর্শনে রওনা হয়েছেন। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে নেত্রকোনা পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলাম ঘটনাস্থলে রওয়ানা দিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন।

নিহত লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকির বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল রূপসী বাংলার নেত্রকোনা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করতেন। পাশাপাশি তিনি ‘ডিটেকটিভ আর্টিকেল’ নামে একটি ফেসবুক পেজ পরিচালনা করতেন। তার গ্রামের বাড়ি কলমাকান্দার পোগলা এলাকায় হলেও তিনি শ্বশুরবাড়িতে থাকতেন। মাদক চোরাচালান নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরব ছিলেন তিনি। ধারণা করা হচ্ছে, এ সংক্রান্ত কাজের জের ধরেই হয়তো এই হামলা হতে পারে। পরে স্থানীয়রা ছুটে এলে তারা পালিয়ে যান।

এর আগে গত ১০ নভেম্বর দুপুরে দুর্গাপুরের সোমেশ্বরী নদীর তেরিবাজার ঘাট এলাকায় অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা তাকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করেছিল। সেই সময় তার সাথে থাকা এক সহকর্মী প্রতিবাদ করতে গেলে তাকেও অস্ত্র প্রদর্শন করে ধাওয়া করা হয়েছিল। বর্তমানে নতুন করে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।