শাহজালাল বিমানবন্দরে সোনা চোরাচালানের নিত্য নতুন কৌশল
- আপডেট সময় : ০৪:১০:৩২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬
- / 2
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দীর্ঘদিন ধরেই সোনা চোরাচালানের একটি প্রধান কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। কাস্টমস কর্তৃপক্ষের তথ্যানুযায়ী, কেবল গত চার মাসের ব্যবধানে এই বিমানবন্দর থেকে প্রায় ১৭০ কোটি টাকার সোনা জব্দ করা হয়েছে। গত পাঁচ বছরের পরিসংখ্যান পর্যালোচনায় দেখা যায়, এই সময়ে প্রায় দুই হাজার কেজি সোনা উদ্ধার করা হয়েছে। চোরাকারবারিরা প্রতিনিয়ত নিত্য নতুন কৌশল অবলম্বন করছে, যার মধ্যে রয়েছে ফলের ক্যারেট, যাত্রীর দেহ, লাগেজ বা বিভিন্ন ইলেকট্রনিক যন্ত্রের আড়ালে সোনা লুকানো। এছাড়া ভ্যাকুয়াম ক্লিনার, ল্যাপটপের ব্যাটারি, ট্রলির হাতল এমনকি জুতা বা শার্টের কলারেও সোনা পাচারের নজির পাওয়া গেছে। চলতি সপ্তাহেও টানা কয়েকদিন অভিযান চালিয়ে সোনা উদ্ধার করা হয়েছে। চোরাকারবারিরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও কাস্টমসের নজর এড়াতে প্রতিনিয়ত কৌশল বদলাচ্ছে।
তদন্তকারী গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মতে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই সোনা চোরাচালানের মূল উৎস হিসেবে কাজ করছে। এছাড়া সৌদি আরব, ওমান, কুয়েত ও কাতার থেকেও নিয়মিত চোরাচালানের চালান আসছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডে বিমানবন্দরের ভেতরে থাকা কিছু অসাধু কর্মীর সম্পৃক্ততার জোরালো অভিযোগ রয়েছে। সাম্প্রতিক বেশ কিছু ঘটনায় এই যোগসাজশের প্রমাণ মিলেছে। উদাহরণস্বরূপ, গত ৩ অক্টোবর এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন পৃথক তিনটি অভিযানে সাতজনকে প্রায় ৭৮১ গ্রাম সোনার অলংকারসহ আটক করে। এর পরদিন ৪ অক্টোবর বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের দুই কর্মীকে প্রায় ৯ কেজি ওজনের ৮০টি সোনার বারসহ গ্রেফতার করা হয়। কখনো যাত্রীকে, আবার কখনো বিমানবন্দরের সংশ্লিষ্ট কর্মীদেরও বাহক হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। চক্রগুলো বিভিন্ন দেশে অবস্থান করে বাংলাদেশে থাকা সহযোগীদের মাধ্যমে চালান গ্রহণ ও বিতরণ করে থাকে। সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনাতেও বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে।
এর আগেও চোরাচালানের বড় বড় চালান ধরা পড়েছে শাহজালাল বিমানবন্দরে। গত ২ জুলাই একটি উড়োজাহাজের কার্গো হোল্ড থেকে ১৮ কেজি ৭২০ গ্রাম সোনা এবং ১৯ জুলাই ফলের চালানের আড়ালে ১৬ কেজি সোনা উদ্ধার করা হয়। এছাড়া গত ২৮ মার্চ দুবাই থেকে আসা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটের কার্গো কম্পার্টমেন্টের টয়লেট প্যানেল থেকে ১৭ কেজি ৯০১ গ্রাম সোনা উদ্ধার করা হয়, যা বিমানবন্দরের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। এসব ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে তদন্ত চলছে।
ঢাকা কাস্টমস হাউস জানিয়েছে, এই পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে বিমানবন্দরে গোয়েন্দা নজরদারি ও তল্লাশি কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। দেশি ও বিদেশি এয়ারলাইনসগুলোকেও কঠোর নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে। বিমানবন্দর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষজ্ঞরা কেবল বাহক আটক নয়, বরং পুরো চোরাচালান নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। তাদের মতে, কার্গো, গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং ও নিরাপত্তা শাখায় সমন্বিত নজরদারি এবং আধুনিক স্ক্যানিং ব্যবস্থার পাশাপাশি কর্মকর্তাদের নিয়মিত বদলি ও রোটেশন অত্যন্ত জরুরি। এপিবিএন জানিয়েছে, সোনা ও মাদকসহ সব ধরণের চোরাচালান ঠেকাতে তাদের গোয়েন্দা তৎপরতা এবং অভিযান নিয়মিত অব্যাহত থাকবে।

























