ঢাকা ১১:১১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সৌদিতে বিমানবন্দর বন্ধ: ঢাকা থেকে ১০৭ ফ্লাইট বাতিল রাষ্ট্রসংস্কার প্রক্রিয়া ক্ষমতার রাজনীতিতে জিম্মি: টিআইবি সৌদি ফ্লাইট সংকট: কর্মস্থলে ফিরতে হিমশিম খাচ্ছেন প্রবাসী কর্মীরা দিল্লিতে ফের আটক ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্পের ওপর আস্থা হারাচ্ছেন তরুণ ভোটাররা দিল্লিতে ‘তেরঙ্গা ওড়াও’ কর্মসূচির আগে আটক অভিজিৎ দীপকে শ্রীপুরে পরিত্যক্ত বোতল কুড়িয়ে বিপত্তি সাবেক এসবি প্রধান মনিরুলের পরিবারের ৮৩ ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ সৌদিতে হামলার ঘটনায় আটকে পড়া পাবনার ৫০ যাত্রী দেশে পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের হামলায় আহত ওয়াশিংটন পোস্টের সাংবাদিক

রাষ্ট্রসংস্কার প্রক্রিয়া ক্ষমতার রাজনীতিতে জিম্মি: টিআইবি

  • আপডেট সময় : ১০:০৫:৫৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬
  • / 3
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে জবাবদিহিমূলক সরকারব্যবস্থা প্রবর্তনের যে অভূতপূর্ব সুযোগ তৈরি হয়েছিল, তা বর্তমানে ক্ষমতার রাজনীতি ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, অন্তর্বর্তী সরকারের ওপর অর্পিত রাষ্ট্রসংস্কারের গুরুদায়িত্ব পালনে কৌশলগত কর্মপরিকল্পনার অভাব এবং আমলাতান্ত্রিক প্রতিরোধের মুখে নতি স্বীকার করার ফলে সংস্কারের কাঙ্ক্ষিত ভিত্তি গড়ে ওঠেনি। জুলাই গণঅভ্যুত্থান থেকে রাজনৈতিক দলগুলো ও আমলাতন্ত্র শিক্ষা গ্রহণে ব্যর্থ হওয়ায় এমনটা ঘটেছে বলে মনে করে সংস্থাটি। সরকারি দলসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলো কিছু ক্ষেত্রে মতপার্থক্য সত্ত্বেও বৃহত্তর স্বার্থে তখন ঐকমত্যে পৌঁছেছিল।

টিআইবির মতে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে আইন ও প্রাতিষ্ঠানিক ইকোসিস্টেমের দখলচর্চাও হাতবদল হয়েছে। ফলে রাষ্ট্রসংস্কার ও জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের সম্ভাবনা এখন কার্যত জিম্মি দশায়। টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান জানান, নির্বাচনী ইশতেহার ও জুলাই সনদ অনুযায়ী সংস্কার বাস্তবায়নের অঙ্গীকার থাকলেও বিজয়ী দলের সংসদ সদস্যরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নিতে অনীহা দেখিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছেন। সংবিধান সংশোধন ও আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়া বর্তমানে ক্ষমতাসীন জোটের ইচ্ছামাফিক পরিচালিত হচ্ছে, যা সংস্কারের মূল লক্ষ্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ৩১ দফা ও নির্বাচনি ইশতেহারে রাষ্ট্রসংস্কারের অ্যাজেন্ডা এবং জুলাই সনদ ‌‘অক্ষরে অক্ষরে’ বাস্তবায়নের অঙ্গীকার নিয়ে নির্বাচনে বিজয়ী দলের সংসদ সদস্যরা গণভোটের পক্ষের শক্তি হওয়া সত্ত্বেও প্রস্তাবিত সংবিধান সংস্কার।

অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে বর্তমান সরকার বড় একটি অংশকে আইনে রূপান্তর করেছে। ড. জামান উল্লেখ করেন, যেসব অধ্যাদেশ নির্বাহী বিভাগের ক্ষমতাকে অসীম ও জবাবদিহিহীন করেছে, সেগুলো পাস করা হয়েছে। বিপরীতে, জবাবদিহি নিশ্চিত করতে সহায়ক অধ্যাদেশগুলো হয় রহিত করা হয়েছে, নয়তো স্থগিত রাখা হয়েছে। ক্ষমতার রাজনীতি ও আমলাতন্ত্রের যোগসাজশ জুলাই আন্দোলনের মূল লক্ষ্য—জবাবদিহিমূলক সরকারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার পথ রুদ্ধ করে দিচ্ছে। কর্তৃত্ববাদ পতনের পর প্রধান রাজনৈতিক দলে ‘এবার আমাদের পালা’—এমন লাগামহীন দখলবাজি ও দলীয়করণের প্রবণতা সংস্কারকে অসম্ভব করে তুলেছে।

বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিতের লক্ষ্যে জারি করা সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় ও বিচারক নিয়োগ সংক্রান্ত অধ্যাদেশ বাতিল করে সরকার রাষ্ট্রসংস্কারের বিপরীতমুখী অবস্থানে দাঁড়িয়েছে বলে টিআইবি মনে করে। এছাড়া, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সংস্কারে রাজনৈতিক ঐকমত্য থাকা সত্ত্বেও তা কার্যকর না করে ২০০৪ সালের পুরনো আইনে ফিরে যাওয়া সংস্থাটির দীর্ঘদিনের আস্থাহীনতা আরও ঘনীভূত করেছে। মানবাধিকার কমিশন সংক্রান্ত নতুন আইনও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ও জন-আকাঙ্ক্ষার পরিপন্থি বলে বিবৃতিতে জানানো হয়। সব রাজনৈতিক দল একমত হওয়া সত্ত্বেও দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সংশোধন অধ্যাদেশের প্রয়োজনীয় সংশোধন করে বিল পাস না করে আগের (২০০৪ সালের) আইনে ফিরে যাওয়ায় দুদক জন্মলগ্ন থেকে যে আস্থাহীনতার সংকটে ভুগছে, তা থেকে উত্তরণের পথ রুদ্ধ করা হয়েছে।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক আরও বলেন, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ বাতিল করে মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য দায়ী সংস্থাগুলোকে আইনি সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে। র‍্যাব বিলুপ্তির পরিবর্তে সংস্থাটিকে আরও শক্তিশালী করা হয়েছে, অথচ স্বাধীন পুলিশ কমিশন গঠনে সবার সম্মতি থাকা সত্ত্বেও কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ নেই। জনপ্রতিনিধিদের সম্পদবিবরণী প্রকাশের প্রতিশ্রুতি থাকলেও তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। কর্তৃত্ববাদী শাসনামলে বিচার বিভাগসহ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয়করণ করার কুফল ভোগ করার পরেও রাজনৈতিক দলগুলোর এহেন বিপরীতমুখী ভূমিকা বিস্ময়কর। র‍্যাবের বিলুপ্তির নামে নতুন নামে দেশে মানবাধিকার লঙ্ঘনের সিংহভাগের জন্য দায়ী হিসেবে পরিচিত এ সংস্থাকে আরও ক্ষমতায়িত করা হয়েছে। দায়িত্ব গ্রহণের তিন মাসের মধ্যে সব নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির সম্পদবিবরণী প্রকাশ এবং তা নিয়মিত হালনাগাদের বিধান বিষয়ে মতৈক্য হলেও বর্তমান সংসদ সদস্যরা শপথ নেওয়ার পর এ ধরনের নির্দেশনা বা চর্চার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। কর্তৃত্ববাদী শাসনামলে বিচার বিভাগ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, দুর্নীতি দমন কমিশন, মানবাধিকার কমিশনসহ ক্ষমতাকাঠামোকে জবাবদিহি ও দায়বদ্ধ রাখার সব সাংবিধানিক ও সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানকে দলীয় প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার পরিণতি ভোগ করার পরও এত অল্প সময়ের ব্যবধানে।

জুলাই সনদ মূলত অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতার নিরিখেই প্রণীত হয়েছিল, যেখানে সব রাজনৈতিক দলের মতৈক্য ছিল। বর্তমানে সংখ্যাগরিষ্ঠতার দাপটে সরকার ও বিরোধী দল—উভয়ই দলীয় স্বার্থ উদ্ধারে ব্যস্ত। গণতন্ত্র, সুশাসন ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি অতীতের কর্তৃত্ববাদী শাসনের পুনরাবৃত্তি রোধে সব রাজনৈতিক দলকে সংকীর্ণ দলীয় রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে সদিচ্ছা ও প্রজ্ঞার পরিচয় দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে টিআইবি। একই সঙ্গে, বিরোধী জোট জনস্বার্থে রাষ্ট্রসংস্কারে সহায়ক ভূমিকা পালনের পথ ছেড়ে দলীয় রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের রাজনীতিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

রাষ্ট্রসংস্কার প্রক্রিয়া ক্ষমতার রাজনীতিতে জিম্মি: টিআইবি

আপডেট সময় : ১০:০৫:৫৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে জবাবদিহিমূলক সরকারব্যবস্থা প্রবর্তনের যে অভূতপূর্ব সুযোগ তৈরি হয়েছিল, তা বর্তমানে ক্ষমতার রাজনীতি ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, অন্তর্বর্তী সরকারের ওপর অর্পিত রাষ্ট্রসংস্কারের গুরুদায়িত্ব পালনে কৌশলগত কর্মপরিকল্পনার অভাব এবং আমলাতান্ত্রিক প্রতিরোধের মুখে নতি স্বীকার করার ফলে সংস্কারের কাঙ্ক্ষিত ভিত্তি গড়ে ওঠেনি। জুলাই গণঅভ্যুত্থান থেকে রাজনৈতিক দলগুলো ও আমলাতন্ত্র শিক্ষা গ্রহণে ব্যর্থ হওয়ায় এমনটা ঘটেছে বলে মনে করে সংস্থাটি। সরকারি দলসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলো কিছু ক্ষেত্রে মতপার্থক্য সত্ত্বেও বৃহত্তর স্বার্থে তখন ঐকমত্যে পৌঁছেছিল।

টিআইবির মতে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে আইন ও প্রাতিষ্ঠানিক ইকোসিস্টেমের দখলচর্চাও হাতবদল হয়েছে। ফলে রাষ্ট্রসংস্কার ও জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের সম্ভাবনা এখন কার্যত জিম্মি দশায়। টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান জানান, নির্বাচনী ইশতেহার ও জুলাই সনদ অনুযায়ী সংস্কার বাস্তবায়নের অঙ্গীকার থাকলেও বিজয়ী দলের সংসদ সদস্যরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নিতে অনীহা দেখিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছেন। সংবিধান সংশোধন ও আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়া বর্তমানে ক্ষমতাসীন জোটের ইচ্ছামাফিক পরিচালিত হচ্ছে, যা সংস্কারের মূল লক্ষ্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ৩১ দফা ও নির্বাচনি ইশতেহারে রাষ্ট্রসংস্কারের অ্যাজেন্ডা এবং জুলাই সনদ ‌‘অক্ষরে অক্ষরে’ বাস্তবায়নের অঙ্গীকার নিয়ে নির্বাচনে বিজয়ী দলের সংসদ সদস্যরা গণভোটের পক্ষের শক্তি হওয়া সত্ত্বেও প্রস্তাবিত সংবিধান সংস্কার।

অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে বর্তমান সরকার বড় একটি অংশকে আইনে রূপান্তর করেছে। ড. জামান উল্লেখ করেন, যেসব অধ্যাদেশ নির্বাহী বিভাগের ক্ষমতাকে অসীম ও জবাবদিহিহীন করেছে, সেগুলো পাস করা হয়েছে। বিপরীতে, জবাবদিহি নিশ্চিত করতে সহায়ক অধ্যাদেশগুলো হয় রহিত করা হয়েছে, নয়তো স্থগিত রাখা হয়েছে। ক্ষমতার রাজনীতি ও আমলাতন্ত্রের যোগসাজশ জুলাই আন্দোলনের মূল লক্ষ্য—জবাবদিহিমূলক সরকারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার পথ রুদ্ধ করে দিচ্ছে। কর্তৃত্ববাদ পতনের পর প্রধান রাজনৈতিক দলে ‘এবার আমাদের পালা’—এমন লাগামহীন দখলবাজি ও দলীয়করণের প্রবণতা সংস্কারকে অসম্ভব করে তুলেছে।

বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিতের লক্ষ্যে জারি করা সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় ও বিচারক নিয়োগ সংক্রান্ত অধ্যাদেশ বাতিল করে সরকার রাষ্ট্রসংস্কারের বিপরীতমুখী অবস্থানে দাঁড়িয়েছে বলে টিআইবি মনে করে। এছাড়া, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সংস্কারে রাজনৈতিক ঐকমত্য থাকা সত্ত্বেও তা কার্যকর না করে ২০০৪ সালের পুরনো আইনে ফিরে যাওয়া সংস্থাটির দীর্ঘদিনের আস্থাহীনতা আরও ঘনীভূত করেছে। মানবাধিকার কমিশন সংক্রান্ত নতুন আইনও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ও জন-আকাঙ্ক্ষার পরিপন্থি বলে বিবৃতিতে জানানো হয়। সব রাজনৈতিক দল একমত হওয়া সত্ত্বেও দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সংশোধন অধ্যাদেশের প্রয়োজনীয় সংশোধন করে বিল পাস না করে আগের (২০০৪ সালের) আইনে ফিরে যাওয়ায় দুদক জন্মলগ্ন থেকে যে আস্থাহীনতার সংকটে ভুগছে, তা থেকে উত্তরণের পথ রুদ্ধ করা হয়েছে।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক আরও বলেন, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ বাতিল করে মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য দায়ী সংস্থাগুলোকে আইনি সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে। র‍্যাব বিলুপ্তির পরিবর্তে সংস্থাটিকে আরও শক্তিশালী করা হয়েছে, অথচ স্বাধীন পুলিশ কমিশন গঠনে সবার সম্মতি থাকা সত্ত্বেও কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ নেই। জনপ্রতিনিধিদের সম্পদবিবরণী প্রকাশের প্রতিশ্রুতি থাকলেও তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। কর্তৃত্ববাদী শাসনামলে বিচার বিভাগসহ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয়করণ করার কুফল ভোগ করার পরেও রাজনৈতিক দলগুলোর এহেন বিপরীতমুখী ভূমিকা বিস্ময়কর। র‍্যাবের বিলুপ্তির নামে নতুন নামে দেশে মানবাধিকার লঙ্ঘনের সিংহভাগের জন্য দায়ী হিসেবে পরিচিত এ সংস্থাকে আরও ক্ষমতায়িত করা হয়েছে। দায়িত্ব গ্রহণের তিন মাসের মধ্যে সব নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির সম্পদবিবরণী প্রকাশ এবং তা নিয়মিত হালনাগাদের বিধান বিষয়ে মতৈক্য হলেও বর্তমান সংসদ সদস্যরা শপথ নেওয়ার পর এ ধরনের নির্দেশনা বা চর্চার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। কর্তৃত্ববাদী শাসনামলে বিচার বিভাগ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, দুর্নীতি দমন কমিশন, মানবাধিকার কমিশনসহ ক্ষমতাকাঠামোকে জবাবদিহি ও দায়বদ্ধ রাখার সব সাংবিধানিক ও সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানকে দলীয় প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার পরিণতি ভোগ করার পরও এত অল্প সময়ের ব্যবধানে।

জুলাই সনদ মূলত অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতার নিরিখেই প্রণীত হয়েছিল, যেখানে সব রাজনৈতিক দলের মতৈক্য ছিল। বর্তমানে সংখ্যাগরিষ্ঠতার দাপটে সরকার ও বিরোধী দল—উভয়ই দলীয় স্বার্থ উদ্ধারে ব্যস্ত। গণতন্ত্র, সুশাসন ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি অতীতের কর্তৃত্ববাদী শাসনের পুনরাবৃত্তি রোধে সব রাজনৈতিক দলকে সংকীর্ণ দলীয় রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে সদিচ্ছা ও প্রজ্ঞার পরিচয় দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে টিআইবি। একই সঙ্গে, বিরোধী জোট জনস্বার্থে রাষ্ট্রসংস্কারে সহায়ক ভূমিকা পালনের পথ ছেড়ে দলীয় রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের রাজনীতিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে।