ফরিদগঞ্জে স্বেচ্ছাসেবক দলের চার নেতা গ্রেপ্তার
- আপডেট সময় : ০২:৪১:৫৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
- / 9
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক ও যুগ্ম আহ্বায়কসহ চার নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা ডিবি পুলিশ। গত ১৪ অক্টোবর গভীর রাতে ফরিদগঞ্জ বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের (সদর সার্কেল) নেতৃত্বে এই অভিযান পরিচালিত হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক ছবুর পাটওয়ারী প্রকাশ রুবেল (৪০), যুগ্ম আহ্বায়ক জিয়া উদ্দিন চৌধুরী (৪০), রাজু পাটওয়ারী (৪২) এবং আরিফ তপদার। তাদের বিরুদ্ধে মারধর এবং মূল্যবান জিনিসপত্র ছিনতাইয়ের অভিযোগ আনা হয়েছে। বর্তমানে তারা জেলহাজতে রয়েছেন। বায়নার মেয়াদ উত্তীর্ণের পর জোর পূর্বক দোকান দখল করার উদ্দেশ্য জেলা সদর ও উপজেলার ছবুর পাটওয়ারী প্রকাশ রুবেল (৪০), জিয়া উদ্দিন চৌধুরী (৪০), রাজু পাটওয়ারী (৪২) ও আরিফ তপদারের সহায়তায় বেশ কয়েজন উশৃংখল নেতাকর্মীদের শরীফুলের। এই সময় তারা আমাকে কিল, ঘুষি ও লাথি মারিতে থাকে। একপর্যায়ে আমাকে টানা হেঁচড়া ও দোকান থেকে বের করে রাস্তার উপর বৈদ্যুতিক খুটির সঙ্গে বেঁধে মারধর করে গলা চেপে ধরে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যার চেষ্টা করে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মামলার বাদী কামাল হোসেন প্রকাশ মোস্তফা (৩৬) অভিযোগ করেছেন যে, তার বাবার মালিকানাধীন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বাড়ি বিক্রির বিষয়ে শরীফুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তির সাথে গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর চুক্তি হয়। শরীফুলের নেতৃত্বে গত ১২ অক্টোবর বিকেলে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে একটি চক্র বাদীর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালায়। অভিযোগ অনুযায়ী, এসময় হামলাকারীরা বাদীকে মারধর করে এবং দোকানের ক্যাশ থেকে নগদ ৮০ হাজার টাকা, সিসি ক্যামেরা, স্কেল মেশিন ও সাটার ভেঙে সবকিছু লুট করে। এ সময় তার বাবার স্বাক্ষরিত চারটি ব্যাংক চেক ও একটি সুজুকি মোটরসাইকেলও নিয়ে যাওয়া হয়। অভিযোগে জানা গেছে, বাদীর বাবার মালিকানাধীন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এম.আর.কে ট্রেডার্স দোকান, ভূমিসহ একটি পাকা বাড়ির অনুকুলে ব্যাংক কর্তৃক মরগেজ লোন গ্রহণ করেন। এতে, সম্পত্তির মূল্য এক কোটি ৯৫ লাখ টাকা নির্ধারণ করে, দুই লাখ টাকা বায়নানামার মাধ্যমে স্থানীয় বালিথুবা গ্রামের আবু সাইদের ছেলে মামলার ১নং বিবাদী শরীফুল ইসলাম (৩৮) ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে চুক্তিবদ্ধ হন। তাছাড়া, আমার বাবা মিজানুর রহমানের নামীয় জনতা ব্যাংকের হিসাবের স্বাক্ষরিত ৪টি চেকের পাতা, আমার ব্যবহৃত ১টি সুজুকি মোটরসাইকেল লুট করে নিয়ে যায়।
ঘটনার সময় উপস্থিত লোকজন ভয়ে এগিয়ে আসতে না পারায় জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল করেন। এরপর ফরিদগঞ্জ থানা পুলিশ ও স্থানীয় বাজার কমিটির সহায়তায় ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। স্থানীয় পাটওয়ারী বাজার এলাকার শোশাইরচর গ্রামের বাসিন্দা কামাল হোসেন পরবর্তীতে এই ঘটনায় মামলা দায়ের করেন।
উপজেলা বিএনপি নেতা মাহফুজুর রহমান টিপু এই বিষয়ে বলেন, অভিযুক্তরা ঘটনার শেষের দিকে সেখানে উপস্থিত ছিলেন, তবে মারামারির ঘটনায় তাদের সম্পৃক্ততা ছিল না বলে তিনি দাবি করেন। এছাড়া পুলিশের তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেলে তা আইনগত বিষয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। পুলিশের তদন্ত রিপোর্টে তাদের সম্পৃক্ততার বিষয় থাকলে আমাদের দেখার বিষয় না।’। মারামারি বা অন্য কোনো ঘটনায় তারা লিপ্ত ছিল না।
ফরিদগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ এরশাদ উল্লাহ জানান, মামলার অভিযোগ পাওয়ার পর ডিবির সহায়তায় আসামিদের গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। আইন অনুযায়ী পরবর্তী তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

























