চট্টগ্রামে প্রধানমন্ত্রীর সফর
- আপডেট সময় : ০২:৫৮:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬
- / 0
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চট্টগ্রাম সফরকে কেন্দ্র করে পুরো নগরী ও জেলায় চার স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচি নির্বিঘ্ন রাখতে পুলিশ, স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি), আনসার ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সমন্বয়ে ২০ হাজারের বেশি সদস্য মাঠে কাজ করছেন। গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে বাড়ানো হয়েছে গোয়েন্দা নজরদারি এবং যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিশেষ স্ট্রাইকিং ফোর্স প্রস্তুত রাখা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ মোড়, জনসমাগমস্থল ও প্রধানমন্ত্রীর যাতায়াত-সংশ্লিষ্ট এলাকায় নজরদারির ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর চট্টগ্রাম সফরের মূল লক্ষ্য হলো রহমতগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী জে এম সেন হলের দুর্গাপূজামণ্ডপ পরিদর্শন করা।
সেখানে তিনি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন। এই কর্মসূচি ঘিরে নিরাপত্তা প্রস্তুতি তদারকি করছেন স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন-৭-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মোস্তাফিজুর রহমান। তাঁর নেতৃত্বে বিশেষ দল পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেছে এবং সেখানে প্রশিক্ষিত স্নিফার ডগ ব্যবহার করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে।
সফরসূচি অনুযায়ী, মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে প্রধানমন্ত্রী শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করবেন। এরপর সেখান থেকে সরাসরি জে এম সেন হলের পূজামণ্ডপে যাবেন। সন্ধ্যা ছয়টার দিকে সেখানে পৌঁছে তিনি শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে সন্ধ্যা পৌনে সাতটায় চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে যাবেন। রাত আটটার আগে বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা হয়ে সাড়ে আটটায় তিনি ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা করবেন বলে জানা গেছে।
নিরাপত্তা পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ইউনিফর্মধারী সদস্যের পাশাপাশি সাদা পোশাকের গোয়েন্দা সংস্থাও তৎপর রয়েছে। স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের (এসএসএফ) নির্দেশনায় প্রধানমন্ত্রীর নির্ধারিত প্রটোকল কঠোরভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে। সিএমপির বিভিন্ন ইউনিট, প্রশাসন ও পূজা উদ্যাপন কমিটির মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে পুরো সফর সূচি সুরক্ষিত রাখা হয়েছে। এছাড়া নগর ও জেলা জুড়ে প্রায় ২ হাজার ৬০০টি পূজামণ্ডপকে কেন্দ্র করে এই নিরাপত্তা কার্যক্রম চলমান রয়েছে। নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা বাহিনীগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে পুরো আয়োজনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে। সফর ঘিরে সিএমপির বিভিন্ন ইউনিটকে নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পূজামণ্ডপগুলোতে নিয়মিত টহল ও পরিদর্শনের পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মেও গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে, যাতে গুজব বা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টকারী কোনো অপপ্রচার ছড়াতে না পারে। সিএমপি কমিশনার জানিয়েছেন, শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর যাতায়াত পথ ও জনসমাগমস্থলগুলোতে সার্বক্ষণিক নজরদারি ও টহলের ব্যবস্থা করা হয়েছে, যাতে সাধারণ মানুষের চলাচল স্বাভাবিক থাকে এবং উৎসবমুখর পরিবেশ বজায় থাকে। পূজাকে কেন্দ্র করে গুজব, অপতথ্য ছড়ানো কিংবা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের চেষ্টা ঠেকাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ অনলাইন প্ল্যাটফর্মেও নজরদারি চলছে।

























