জাপান সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
- আপডেট সময় : ০৫:৪৭:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬
- / 2
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবারের মতো জাপান সফরে যাচ্ছেন তারেক রহমান। জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে আগামী ২৬ থেকে ২৯ অক্টোবর চার দিনের এই সরকারি সফরে ঢাকা-টোকিও সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। মঙ্গলবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম এ তথ্য নিশ্চিত করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্রসচিব সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এ. কে. এম শহীদুল করিম ও রাষ্ট্রাচার প্রধান এ. এফ. এম. জাহিদ-উল-ইসলাম।
সফরসঙ্গী হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে থাকছেন তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ। প্রতিনিধি দলটি বাংলাদেশ বিমানের বিশেষ ফ্লাইটে টোকিও অভিমুখে রওনা হবে।
সফরের দ্বিতীয় দিন ২৭ অক্টোবর জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এরপর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্মানে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি এক ভোজের আয়োজন করবেন। সফরকালে প্রধানমন্ত্রী জাপান-বাংলাদেশ পার্লামেন্টারি ফ্রেন্ডশিপ লিগ, জাইকা (JICA) প্রেসিডেন্ট, জাপান ব্যাংক ফর ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশনের গভর্নর, জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশন (JETRO) সভাপতি এবং সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যানের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এছাড়া তিনি জাপান-বাংলাদেশ ইকোনমিক ফোরামে মূল বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখবেন।
উন্নয়ন ও বিনিয়োগ নিয়ে পররাষ্ট্রসচিব জানান, বাংলাদেশের পণ্যের বাজারে প্রবেশাধিকার, জাপানি বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং ব্যবসায়িক সম্পৃক্ততা জোরদার করা এবারের সফরের মূল লক্ষ্য। পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানি, ডিজিটাল রূপান্তর, মৎস্যসম্পদ, দক্ষতা উন্নয়ন এবং মানবসম্পদ উন্নয়নে নতুন ক্ষেত্রগুলোতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের সুযোগ নিয়ে আলোচনা হবে। চিবা প্রিফেকচারের কুতসু শহরে এলএনজি টার্মিনাল ও বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং নাগোয়ায় টয়োটার কারখানা পরিদর্শনের মাধ্যমে জাপানের শিল্প ও জ্বালানি অবকাঠামো সম্পর্কে অভিজ্ঞতা অর্জনের কর্মসূচিও রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।
কৃষি, মৎস্যসম্পদ, বেসামরিক বিমান পরিবহন, বাণিজ্য, পরিবেশ সংরক্ষণ ও স্থানীয় সরকার আধুনিকীকরণসহ নানা খাতে বেশ কয়েকটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হতে পারে বলে আশা করছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বাংলাদেশ ও জাপানের দীর্ঘদিনের কৌশলগত অংশীদারত্বের অংশ হিসেবে চলমান উন্নয়ন প্রকল্পের গতি ত্বরান্বিত করা এবং বাংলাদেশে জাপানি কোম্পানির কারখানা স্থাপনে সহযোগিতার বিষয়টি আলোচনায় গুরুত্ব পাবে।
দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বাইরে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক শান্তি-স্থিতিশীলতা, রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই ও শান্তিপূর্ণ সমাধান, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট নিরসন এবং আন্তর্জাতিক সংঘাত নিরসনে দুই দেশ যৌথ ভূমিকা রাখার বিষয়ে আলোচনা করবে। এই সফর দুই দেশের নিরাপত্তা সহযোগিতা এবং অর্থনৈতিক অংশীদারত্বকে আরও শক্তিশালী করবে বলে ঢাকা আশাবাদী।

























